২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার রেল লাইনে যুক্তরাষ্ট্রের বাধা

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার রেল লাইনে যুক্তরাষ্ট্রের বাধা - সংগৃহীত

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার একটি রেল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে আমেরিকা। এ রেল লাইন প্রতিষ্ঠা করা হলে দুই কোরিয়ার মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সিঙ্গাপুর বৈঠকের পর সাময়িক উষ্ণতা শেষে আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যখন নতুন করে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে তখন এই খবর বের হলো।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনজুইজু পর্যন্ত পরীক্ষামূলক একটি ট্রেন পাঠিয়ে দুই কোরিয়ার কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে গবেষণা শুরু করতে চেয়েছিলেন কিন্তু মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড তা নাকচ করে দিয়েছে। সিনজুইজু হচ্ছে চীন সীমান্তবর্তী উত্তর কোরিয়ার একটি শহর।

১৯৫৩ সালের পর থেকে জাতিসংঘ কমান্ড দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী বেসামরিকীকরণ এলাকার সামগ্রিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রস্তাবিত সফরের বিষয়ে আরো যথার্ততা যাচাই করতে চায় তারা।

গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন এ প্রকল্পের কথা প্রস্তাব করেন। ‘উত্তর-পূর্ব এশিয়ার রেল কমিউনিটি’ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি এ প্রস্তাব দিয়েছেন যাতে দুই কোরিয়ার পাশাপাশি চীন, রাশিয়া, জাপান ও মঙ্গোলিয়া এবং আমেরিকা থাকবে।

উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে অগ্রগতিতে বাধা চীন : ট্রাম্প
বিবিসি, ৩০ আগস্ট ২০১৮

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে অগ্রগতি চীনই ব্যাহত করছে বলে দোষারোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে উত্তর কোরিয়ার অগ্রগতি নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সাথে তিনি পিয়ংইয়ংয়ের সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক জটিল করে তোলার জন্যও চীনকে দায়ী করেছেন।

গত জুনে ট্রাম্প-কিম ঐতিহাসিক বৈঠকে উত্তর কোরিয়া পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা এখন যথেষ্ট দ্রুতগতিতে সে কাজ করছে না বলে বেশ কয়েকজন পর্যবেক্ষকের অভিমতের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প এ পরিস্থিতির জন্য চীনকে দোষারোপ করলেন।

ধারাবাহিক কয়েকটি টুইটে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সামরিক মহড়া নতুন করে শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি আরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক মহড়া ফের শুরু করে তবে তা ‘যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় হবে’। দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সামরিক মহড়া অব্যাহত রাখা হতে পারে বলে কয়েকদিন আগে মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

জুনে সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে ট্রাম্পের ঐতিহাসিক বৈঠকের পর ওই নিয়মিত সামরিক মহড়া স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত এই সামরিক মহড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল উত্তর কোরিয়া।

যুক্তরাষ্ট্র সামরিক মহড়া বন্ধ করলেও শীর্ষ বৈঠকের পর থেকে উত্তর কোরিয়া তত দ্রুত পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করছে না বলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সামরিক মহড়া বন্ধ রাখার বিষয়টি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এ পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্প সরাসরি চীনকে দায়ী করেছেন, অন্তত তার টুইটগুলো থেকে এমন ধারণাই পাওয়া যায়। কিন্তু ওই সব টুইটেই তিনি আবার চীন ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন।

কিমের সাথে নজিরবিহীন ওই বৈঠক থেকে কী পাওয়া গেল, এ প্রশ্নে ওয়াশিংটন যখন উত্তরোত্তর চাপের মুখে পড়ছে, তখনই ট্রাম্পের কাছ থেকে সমালোচনা, প্রশংসা আর পরোক্ষ হুমকি মেশানো এ বিভ্রান্তিকর টুইটগুলো পাওয়া গেল। কিমের সাথে বৈঠকের পরপরই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে আর কোনো পারমাণবিক হুমকি নেই’।

কিন্তু মাত্র কয়েকদিন আগে ‘উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা নিয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি বলে বিতর্ক তুলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর উত্তর কোরিয়া সফর বাতিল করে দিয়েছেন ট্রাম্প। টুইটারে সর্বশেষ যে বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে, তাতে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমাদের সাথে চীন সরকারের বড় ধরনের বাণিজ্য বিরোধ চলায় চীনের প্রচণ্ড চাপে আছে উত্তর কোরিয়া’।

টুইটে বেইজিং উত্তর কোরিয়াকে ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সহায়তা’ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। চীনা সহায়তার কারণেই পিয়ংইংয়ের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা তেমন জোরালো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ ট্রাম্পের। টুইটে তিনি মন্তব্য করেছেন ‘এটি ভালো না’!

কিম জং উনের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ‘খুব ভালো ও উষ্ণ’ উল্লেখ করে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে ‘সামরিক মহড়া’ আবার শুরু করার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু আবার উল্লেখ করেছেন, তারা যদি এটি আবার শুরু করেন তবে ওই সামরিক মহড়া হবে ‘যেকোনো সময়ের চেয়েও বেশি বড়’। এরপর বেইজিংয়ের সাথে বাণিজ্য বিরোধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে সাথে নিয়ে এ বিষয়টি সমাধান করে ফেলতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।


আরো সংবাদ