২১ নভেম্বর ২০১৮

জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ, ৭৫ শিশুকে মুক্তি দিল মিয়ানমার

জোরপূর্বক শিশুদেরকে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দিচ্ছে মিয়ানমার। - ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ৭৫ শিশু যোদ্ধাকে মুক্তি দিয়েছে। জাতিসংঘের একটি সংস্থা একথা জানিয়েছে।

কয়েক দশক ধরে চলা জোরপূর্বক শিশুযোদ্ধা নিয়োগের ক্রমিক অবসান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চলতি বছর প্রথম দফায় এদের মুক্তি দেয়া হল।

এখন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বা সীমান্তে লড়াইরত জাতিগত বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ঠিক কতজন শিশু যোদ্ধা রয়েছে তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা নেই।

শুক্রবার জাতিসংঘের শিশু সুরক্ষা সংস্থা ইউনিসেফ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১২ সালে জাতিসংঘের সাথে চুক্তির পর থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী ৯২৪ শিশু ও কিশোরকে মুক্তি দিয়েছে।

মুক্তিপ্রাপ্ত শিশু যোদ্ধাদের বেসামরিক জীবনে মূলধারার সাথে যুক্ত হওয়ার কর্মসূচিতে যোগ দিতে হবে।

জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রক্রিয়াটি মিয়ানমারে শান্তি বজায় রাখতে বড় ধরনের অবদান রাখবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সেনাবাহিনী ও জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলো মিয়ানমারে অব্যহতভাবে লড়াই করেই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে শিশুযোদ্ধা পুর্নর্নিয়োগের বিষয়টি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

শিশুদের প্রায়ই জনসম্মুখ থেকে অপহরণ করা হয়। তারা সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকার করলে তাদের জেলে পাঠানোর ভয় দেখানো হয়।

 

আরো পড়ুন: মিয়ানমার সেনা প্রধানের বিচার দাবি ১০০ এমপির

নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিধনযজ্ঞ চালানো ও সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দেশটির সেনা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লেইংয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির শতাধিক এমপি।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, ১০০ জনের বেশি এমপির স্বাক্ষরসহ একটি চিঠি বরিস জনসনের কাছে পাঠিয়েছেন তিনি।

চার পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিন অং হ্লেইংয়ের বিচার করার জন্য ব্রিটিশ সরকারকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, রাখাইনে নিধনযজ্ঞ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ৮৮ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। গত বছর সহিংসতা শুরুর পর প্রথম এক মাসে ৭ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩০ জন শিশু রয়েছে।

আরো পড়ুন: নতুন চাপে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী

নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০৪ নভেম্বর ২০১৭

মার্কিন আইনপ্রনেতারা শুক্রবার মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করেছে। দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানের ওপর নির্যাতন বন্ধে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিকে চাপের মুখে রাখতে ওয়াশিংটনের এ পর্যন্ত চালানো প্রচেষ্টাগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে জোরালো। খবর এএফপি’র।

সিনেটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট দলের সদস্যরা এমন একটি বিল উপস্থাপন করে যার আওতায় মিয়ামমারের সামরিক বাহিনীকে দেয়া সাহায্য বা সহযোগিতা হ্রাস পাবে।
সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান জন ম্যাককেইনসহ সিনেটের দ্বিদলীয় একটি গ্রুপ বৃহস্পতিবার তাদের এই বিল উত্থাপন করে।

এ বিলে মিয়ানমার থেকে মূল্যবান পাথর আমদানির ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপসহ দেশটির বিরুদ্ধে আমদানি ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা নবায়নের কথা বলা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ম্যাককেইন বলেন, ‘আমাদের এই আইন মিয়ানমারে নিরীহ নারী-পুরুষ ও শিশুদের হত্যা, নির্যাতন ও বিতাড়িত করার জন্য দায়ী সামরিক বাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে এবং এরফলে এটা স্পষ্ট হবে যে যুক্তরাষ্ট্র এসব নৃশংসতার পক্ষে দাঁড়াবে না।’

এশিয়া সফরের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রওনা হওয়ার পর মিয়ানমারের ব্যাপারে এ কঠোর প্রস্তাব দেয়া হলো। এশিয়া সফরকালে ট্রাম্প মিয়ানমারসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর এক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমনপীড়ন চালানোর কারণে দেশটি থেকে ছয় লাখেরও বেশী লোক প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে।


কেড়ে নেয়া হয়েছে সু চি’র গ্লাসগো ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড

গ্লাসগো সিটি কাউন্সিল মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি’র গ্লাসগো শহরের ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড কেড়ে নিয়েছে। গ্লাসগো সিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের সঙ্কট ও মিয়ানমারের ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনে সমালোচনার মুখে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো শহর সু চি’কে এ অ্যাওয়ার্ড দিয়েছিল। তখন তিনি সামরিক জান্তা সরকারের অধীনে গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন।

গ্লাসগোর লর্ড প্রভোস্ট ইভা বোলান্ডার বলেন, 'আমি এবং নেতা কাউন্সিলর সুসান এইটকেন সম্প্রতি আং সান সু চিকে তার নজরদারির মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নৃশংসতা নিয়ে নগরীর উদ্বেগের বিষয়টি অবগত করে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলাম। যে জবাব আমরা পেয়েছি তা হতাশাজনক এবং দুঃখজনক।

স্কটিশ কাউন্সিলটি জানায়, এ ধরনের সম্মান প্রত্যাহার করাটা 'নজিরবিহীন' এবং এই সিদ্ধান্ত হালকাভাবে নেয়ার উপায় নেই।

এর আগে শেফিল্ড নগরীও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

আর এর মধ্যেই, জাতিসঙ্ঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রধান ফিলিপো গ্র্যান্ডি বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব দিয়ে মিয়ানমারকে ফিরিয়ে নিতে হবে। বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রহীন অবস্থায় এসব মানুষ থাকতে পারে না। এই রাষ্ট্রহীনতার কারণে তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, অতীতেও হয়েছেন।

এদিকে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে জাতিসঙ্ঘের প্রতি প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসি। ইতোমধ্যে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটির কাছে ওই খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ওই প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 


আরো সংবাদ