১৪ নভেম্বর ২০১৮

পাকিস্তানের অর্থ সহায়তাও বাতিলের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ট্রাম্পের কর্মকান্ডে সারা বিশ্বেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের ঘৃণা ও ক্ষোভ বাড়ছে। - ছবি: বিবিসি

জঙ্গিগোষ্ঠী দমনে ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ করা তিনশ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

পেন্টাগনের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল কোনে ফকনারের বরাতে বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই অর্থ অন্য কোনো ‘জরুরি অগ্রাধিকার’ খাতে ব্যয় করবে।

‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সহায়তা নেওয়ার পরও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে’—এর আগে এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সরাসরি সহায়তা বন্ধের ঘোষণা এলো।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করতে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র পাকিস্তান নিজ দেশে হাক্কানি নেটওয়ার্ক ও আফগান তালেবানসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা ঠেকাতে ব্যর্থ বলে দেশটির সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবার এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের মুখপাত্র ফকনার বলেন, ‘সব ধরনের জঙ্গিগোষ্ঠী দমনে পাকিস্তানকে কঠোর হওয়ার ব্যাপারে আমরা চাপ প্রয়োগ করতে চাই।’

পাকিস্তানের নয়া প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সাক্ষাৎ করার একদিন আগে দেশটির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা এলো।

এ বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার পাকিস্তানের ব্যাপারে প্রায় সব ধরনের নিরাপত্তা সহায়তা তহবিল বাতিল করা হবে বলে ঘোষণা দেয়।

জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পাকিস্তান নিজেকে ব্যবহৃত হতে দিচ্ছে বলে বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো অনেকেই অভিযোগ করে আসছে। এছাড়া আফগান সীমান্তে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিয়ে আসছে এরকম অভিযোগও পাকিস্তানের তোলা হয়। যদিও ইসলামাবাদ বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এর আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের ফিলিস্তিন শরণার্থী সংস্থা তহবিলে অর্থ সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।

 

আরো পড়ুন: ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রতি ক্ষুব্ধ কেন ট্রাম্প?

নয়া দিগন্ত অনলাইন ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যখন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী হয়ে পড়ে, তাদের দেখাশোনা করার জন্য তখন প্রতিষ্টিত হয় ইউনাইটেড নেশন্স রিলিফ এন্ড ওয়ার্ক এজেন্সী ফর প্যালেস্টাইন ইন দ্য নিয়ার ঈস্ট (ইউএনআরডাব্লিউএ) নামের একটি সংস্থা।

বর্তমানে গাজা, পশ্চিম তীর, জর্ডান, সিরিয়া এবং লেবাননে যে প্রায় ৫০ লাখ ফিলিস্তিনি রয়েছে, তাদের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আরও নানা ধরণের সামাজিক সেবামূলক কাজে সহায়তা দেয় তারা।

বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের এই সংস্থার প্রধান যোগানদাতা। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি বদলে যেতে থাকে।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র একাই ইউএনআরডাব্লিউকে প্রায় ৩৭ কোটি ডলার সাহায্য দিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর এই সাহায্য প্রায় তিরিশ শতাংশ কমিয়ে দেয়।

আর এবার যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিল।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ত্রাণ সংস্থায় মারাত্মক 'গলদ' আছে। একই কথা ইসরায়েল বহুদিন ধরেই বলে আসছে। কিন্তু কথিত এই 'গলদ' ঠিক কোথায়?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এত সাহায্য করে কিন্তু বদলে ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে কোনো 'সম্মান' বা 'প্রতিদান' পায়না।

এ বছরের গোড়ার দিকে তিনি হুঁশিয়ার করেন, ইসরায়েলের সাথে মীমাংসায় রাজী না হলে, তিনি ফিলিস্তিনিদের সাহায্য বন্ধ করে দেবেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে - সমস্যা আরো গভীরে।

জাতিসংঘের এই সংস্থাটি ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলে ফেলে আসা বাস্তুভিটায় ফেরত যাওয়ার অধিকারকে সমর্থন করে, যেটি নিয়ে ইসরায়েল বরাবরই ক্ষুব্ধ।

ইসরায়েলের সেই অবস্থানের সাথে এখন গলা মিলিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এ সপ্তাহের গোড়ায় জাতিসংঘে মার্কিন দূত নিকি হেলি বলেন, ইউএনআরডাব্লিউএ সবসময় ফিলিস্তিনি শরণার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে বলে। তিনি খোলাখুলি বলেন, এই সংস্থাটির সংস্কার প্রয়োজন।

‘.তাকিয়ে দেখুন অসংখ্য শরণার্থী ক্রমাগত সাহায্য নিয়ে চলেছে, কিন্তু আরো যেটা লক্ষণীয় তা হলো এই ফিলিস্তিনিরাই আবার দিন-রাত আমেরিকার সমালোচনা করছে।’

ইসরায়েল কী বলে?

ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলে ফেলে আসা বাস্তুভিটায় ফেরত যাওয়ার অধিকারকে সমর্থন করে বলে ইউএনআরডাব্লিউএ'র ব্যাপারে ইসরায়েল সবসময় খাপ্পা।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু অনেকবারই এই সংস্থায় অনুদান কমিয়ে দেওয়ার আহ্বান করেছেন। তিনি এমন প্রস্তাবও করেছেন ইউএনআরডাব্লিউএ'র ভূমিকা জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হাতে তুলে দেওয়া হোক।

তার মতে- ইউএনআরডাব্লিউএ ফিলিস্তিনি সঙ্কটকে "আরো বাড়িয়ে তুলছে।"

জাতিসংঘে মার্কিন দূত নিকি হেলি বলেন, 'অসংখ্য শরণার্থী ক্রমাগত সাহায্য নিয়ে চলেছে, কিন্তু এই ফিলিস্তিনিরাই আবার দিন-রাত আমেরিকার সমালোচনা করছে'

প্রতিক্রিয়া কী হচ্ছে?

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর এক মারাত্মক আঘাত।

কট্টরপন্থী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস বলেছে, এটি ফিলিস্তিনি সংকটকে আরও গুরুতর করে তুললো।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুটেরেস এবং জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গুটেরেস এই ত্রাণ সংস্থার তহবিলে যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা পূরণে অন্য দেশগুলিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেইকো মাস বলেছেন, তারা তাদের অনুদান বাড়িয়ে দেবেন।

আর তাদেরকে মারাত্মক 'গলদে' ভরা একটি সংস্থা বলে যে সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্র করেছে, তাকে তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ইউএনআরডাব্লিউএ।

সংস্থার মুখপাত্র ক্রিস গানেস বলেছেন, ‘ইউএনআরডাব্লিউএ'র স্কুল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং জরুরী সাহায্যের কর্মসূচিকে 'শোধরানোর অতীত গলদপূর্ণ' বলে যে বর্ণনা করা হয়েছে আমরা তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি...আমাদের এসব কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যে মানব উন্নয়নে অন্যতম সফল কর্মসূচি হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এজন্য এই সংস্থাকে প্রশংসা করেছে।’

 

 


আরো সংবাদ