১৮ নভেম্বর ২০১৮

বিশ্বের প্রথম ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক রকেট ভারত সীমান্তে মোতায়েন করবে চীন!

ভারত সীমান্তে চীনের ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক রকেট! - ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের প্রথম সার্ফেস-টু-সার্ফেস ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক রকেট তৈরি করছে চীন। যেগুলো অনেক বেশি দূরে গিয়ে আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। পাশাপাশি এসব রকেট হিমালয় ও তিব্বতের মালভূমিতে মোতায়েন করা হলে তা যুদ্ধের সময় চীনের সেনাবাহিনীকে অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে। এই রকেট সিস্টেমের নিখুঁত পাল্লা ও মোতায়েনের সময়সূচি এখনো পরিস্কার নয়।

কিন্তু এই কর্মসূচির প্রধান বিজ্ঞানী হান জুনলি রাষ্ট্র পরিচালিত ‘সাইন্স অ্যান্ড টেকনলজি ডেইলি’কে বলেন যে রকেটটি নির্মাণে ‘তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে। প্রচলিত রকেট প্রাথমিক শক্তি লাভ করে বিস্ফোরক থেকে। কিন্তু নতুন রকেটগুলো ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক ফোর্স থেকে বাড়তি শক্তি পাবে। এটা ঠিক ক্যাটাপুলেট ল্যান্সারের মতো, যা পরবর্তী প্রজন্মের বিমানবাহী রণতরিতে ব্যবহারের জন্য চীন ও আমেরিকা তৈরি করছে। রেলিগান তৈরিতেও একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। হান বলেন, ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক ক্যাটাপুলেট সিস্টেম একটি রকেটকে উৎক্ষেপন পর্যায়ে খুবই তীব্র গতি প্রদান করতে পারে।

অনেকেই মনে করেন, চীনের পরবর্তী নিজস্ব তৈরি এয়ারক্রাফট কেরিয়ারকে ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক ক্যাটাপুলেট ল্যান্সারে সজ্জিত করা হতে পারে। বেজিংয়ের সামরিক বিশেষজ্ঞ ঝু চেনমিং বলেন, ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক ক্যাটাপুলেট উৎক্ষেপনকালে রকেটকে অনেক বেশি স্থিতিশীলতা দেবে এবং নির্ভুলতা বাড়াবে। এরপরও এগুলো হবে ব্যয়সাশ্রয়ী। কম নির্ভুল হলেও ক্ষেপনাস্ত্রের চেয়ে রকেট অনেক সস্তা। কিন্তু এগুলো ব্যাপক সংখ্যায় মোতায়েন করা হলে তা বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালানোর মতো যথেষ্ঠ পারদর্শিতা দেখাতে পারে। এসব নতুন ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক রকেট তিব্বত অঞ্চলে মোতায়েন করা হতে পারে। এগুলোর পাল্লা হবে কয়েক শ' কিলোমিটার এবং তা ভারতের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হানতে পারবে।

পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হান এই প্রকল্পকে ‘বিশ্বের প্রথম’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান যে সবকিছুই পরিকল্পনা মতো এগিয়েছে এবং ‘বড় ধরনের সমস্যাগুলো’ নিরসন করা গেছে। পিএলও সাধারণত সোভিয়েত আমলের বিএম-৩০-এর পরিবর্তিত সংস্করণ পিএইচএল-০৩ রকেট ব্যবহার করে। এগুলোর পাল্লা ১৫০ কিলোমিটারের মতো। ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক রকেটের পাল্লা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। তবে তা প্রচলিত একই ধরনের সব রকেটের চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হয়। চীন লেজার-নিয়ন্ত্রিত রকেটও তৈরি করেছে। এগুলো উৎক্ষেপনের পর গতিপথ সামান্য সংশোধন করা গেলেও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো টার্গেটকে খুঁজে নিতে পারে না।

হান চীনা সেনাবাহিনীর রকেট গবেষণার সঙ্গে ২০ বছর ধরে জড়িত। তার কাজ হলো, তিব্বতের মালভূমিতে যুদ্ধের সময় পিএলএ যেন ফায়ারপাওয়ারের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকে তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, চীনের পুরো ভূখণ্ডের ২৬ শতাংশ তিব্বতের মালভূমি। এখানে রকেট মোতায়েন করা হলো তা শত শত কিলোমিটার দূরে গিয়ে শত্রুর ব্যাপক ক্ষতি করতে পারবে। এটা অনেকটা বক্সিং-এর মতো। যে প্রতিযোগীর হাত লম্বা ও কব্জির জোর বেশি তার সুবিধাও বেশি। তিনি রকেট কীভাবে ৪,০০০ মিটারের বেশি উচ্চভূমিতে কাজ করে সেই বিষয়ে এবং কীভাবে সেগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো যায় তা নিয়ে গবেষণা করেন।

তার কথায়, ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক ক্যাটাপুলেট লান্সার শুরুতেই রকেটটিকে অনেক বেশি গতে এনে দেবে। ফলে, বিশেষ করে মালভূমি এলাকায় এই রকেট হবে অনেক শক্তিশালী অস্ত্র। শত্রুর বড় বড় সামরিক ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করেছেন হান। এতে পিএলএ’র রকেট মোতায়েনের পরিকল্পনা এবং রকেটের ধরন, পাল্লা ও পরিমাণ বা সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়েছে।


আরো সংবাদ