১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কেমন হলো ইমরান খানের মন্ত্রিসভা

পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান - ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ২০ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছেন। স্থানীয় সময় আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরী এমন তথ্য জানিয়েছেন।

জিও নিউজের খবরে জানা যায়, ফাওয়াদ চৌধুরী এ নিয়ে একটি টুইট করেছেন। ওই টুইটে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের ১৫ জন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পাঁচজন উপদেষ্টাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মোহাম্মদ ফারুক নাসিমকে আইন ও বিচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের রাজনৈতিক প্রতারণাবিষয়ক মামলায় আইনবিষয়ক উপদেষ্টাও ছিলেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন পারভেজ খটক । অবশ্য এর আগে তিনি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সেচমন্ত্রী এবং শিল্প ও শ্রমমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন দল পিটিআইয়ের সাবেক ভাইস চেয়ারপারসন শাহ মেহমুদ কোরেশি হবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি পিটিআইয়ের ভাইস চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি পাঞ্জাবের সাধারণ পরিষদ ও মন্ত্রিসভায় ছিলেন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি পাঞ্জাবের পার্লামেন্টবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত কোরেশি মুলতানের মেয়র ছিলেন।

বাণিজ্য, রাজস্ব ও অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী হবেন আসাদ ওমর। আওয়ামী মুসলিম লিগের প্রধান শেখ রশিদ আহমেদ রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন রশিদ আহমেদ।

প্রতিরক্ষা উৎপাদনবিষয়ক মন্ত্রী হবেন জুবাইদা জালাল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজের মন্ত্রিসভায় জালাল শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষা খাতে অবদানের জন্য ১৯৯৩ সালে তাঁকে প্রাইড অব পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

পিটিআইয়ের মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরী তথ্য, সম্প্রচার ও জাতীয় ঐতিহ্যবিষয়ক মন্ত্রী হবেন। চৌধুরী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির মন্ত্রিসভার তথ্য ও রাজনৈতিক বিষয়ের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফের মন্ত্রিসভার রাজনৈতিক ঘটনাবলিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ছিলেন।

অভ্যন্তরীণ প্রাদেশিক সমন্বয়কবিষয়ক মন্ত্রী হবেন গ্র্যান্ড ডেমোক্রেটিক জোটের ফাহমিদা মির্জা। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ১৮তম স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফাহমিদা। তিনি মুসলিম বিশ্বের প্রথম পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন।

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকমিউনিকেশনবিষয়ক মন্ত্রী হবেন খালিদ মকবুল সিদ্দিক। ২০১৩ সালের জুন মাস থেকে এ বছরের মে মাস পর্যন্ত তিনি সাধারণ পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী হবেন শিরিন মেহেরুননিসা মাজারি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। দ্য নেশন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে সেখান থেকে সরে গিয়ে তিনি পিটিআইয়ে যোগ দেন।

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়বিষয়ক মন্ত্রী হবেন আমির মেহমুদ কায়ানি। চৌধুরী তারিক বশির শিমা দেশটির স্টেট অ্যান্ড ফ্রন্টিয়ার রিজনবিষয়ক মন্ত্রী হবেন। তিনি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ধর্ম এবং আন্তধর্মীয় ঐক্যবিষয়ক মন্ত্রী হবেন নূর-উল-হক কাদেরি। আর  জ্বালানিমন্ত্রী হবেন গুলাম সারওয়ার খান।

এ ছাড়া মোহাম্মদ শেহবাজ আরবাব, আবদুল রাজাক দাউদ, ইশরাত হুসেন, আমিন ইসলাম, জহির-উদ্দিন-বাবর আওয়ানকে তাঁর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ইমরান খান। তাঁদের মধ্যে শেহবাজ প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপনবিষয়ক, অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ রাজাক বাণিজ্য, বস্ত্র, শিল্প, উৎপাদন ও বিনিয়োগবিষয়ক, ইশরাত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও নৈতিকতা, আমিন জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ও জহির-উদ্দিন পার্লামেন্টবিষয়ক উপদেষ্টা হবেন।


আরো সংবাদ