১৮ নভেম্বর ২০১৮

ভূমিকম্পের দু’দিন পর মসজিদ থেকে জীবিত উদ্ধার

ভূমিকম্পের দু’দিন পর মসজিদ থেকে জীবিত উদ্ধার। - সংগৃহীত

রবিবার ইন্দোনেশিয়ার লোম্বক দ্বীপে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে এপর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৯৮ ছাড়িয়ে গেছে। এই ভূমিকম্পে শত-শত ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। এদিকে ভূমিকম্পের দুদিন পরেও লোম্বকের ভেঙ্গে যাওয়া বিভিন্ন স্থাপনা থেকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। লোম্বকের স্থানীয় একটি মসজিদের ধ্বংসস্তুপ থেকে মঙ্গলবার এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় উদ্ধারকারী সংস্থা এ কথা জানিয়েছে।

জানা গেছে, ওই মসজিদটি লোম্বকের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। সেখানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। জাবালে নূর নামক ঐ মসজিদের ভেতরে ৫০ জনের মত মুসল্লী ভূমিকম্পের সময় নামাজ আদায় করছিলেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারী কতৃপক্ষ।

উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার মসজিদটির ধ্বংসস্তুপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

এদিকে ভূমিকম্পের পর বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় কয়েকশ' পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে।

অক্সফার্ম বলেছেন, লোম্বক দ্বীপে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার মানুষ উদ্বাস্তু  অবস্থায় আছে। তাদেরকে খোলা আকাশের নিচে ও গৃহহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে।

 

আরো দেখুন: চার বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্বাঞ্চলে ২০টির বেশি ভূমিকম্প
হামিম উল কবির
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্য ও বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারে গত চার বছরে ২০টির অধিক ভূমিকম্প আঘাত করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই গত এক বছরে চারটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এগুলো অবস্থানগত কারণে যেমন বাংলাদেশের খুব কাছে এবং শক্তির দিক থেকে কোনো কোনোটি ‘শক্তিশালী’ ক্যাটাগরির। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যেসব ভূমিকম্প আঘাত করেছে এগুলো খুব বেশি শক্তিশালী না হলেও মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমদ আনসারী বলেছেন, দুর্বল ভূমিকম্পের স্থানেই এক সময় বড় ভূমিকম্প হয়ে থাকে। ভূমিকম্প নিয়ে আমরা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি। কিন্তু একই সাথে বড় ভূমিকম্প হলেও যেন ক্ষতি থেকে মুক্তি পেতে পারেন আমরা সে ধরনের ব্যবস্থা নেয়ারও পরামর্শ দিয়ে থাকি। বাংলাদেশে এক শ’ বছর আগে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছিল। সাধারণত এক শ’ বছর অথবা এর কিছু কম অথবা বেশি সময়ের মধ্যে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়ে থাকে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অথবা এর আশপাশের অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে আমরা জনসাধারণ এবং একই সাথে কর্তৃপক্ষের কাছে আহবান জানাই। এ জাতীয় ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে বিশেষ করে পাকাবাড়ি বানালে বিল্ডিং কোড যথাযথ অনুসরণ করতে হবে। 
গত বছর এপ্রিল ও মে মাসে নেপালে সংঘটিত ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প ও গত সোমবার ভোরে (৪ জানুয়ারি) মনিপুরের ইম্ফলে সংঘটিত ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি বাদ দিলে গত চার বছর আগে সিকিমে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল একটি। এ ছাড়া প্রতিবেশী ভারতীয় রাজ্য ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম এবং মিয়ানমারে মিজোরামে সংঘটিত ভূমিকম্পগুলোর সবই ৫.৭ মাত্রার চেয়ে কম ছিল। 
এর মধ্যে সিকিমে একটি, আসামে ছয়টি, মেঘালয়ে একটি, পশ্চিম বাংলায় তিনটি, মিজোরামে দু’টি এবং মিয়ানমারে ভূমিকম্প হয়। 

বাংলাদেশে ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি ভৈরবে ৩.৮ মাত্রার একটি, ১৫ জানুয়ারিতে রাঙ্গামাটিতে ৪.২ মাত্রার একটি, ১৭ এপ্রিল রংপুরের চিলমারীতে ৪.২ মাত্রার একটি এবং খুলনার শরণখোলায় ৪.২ মাত্রায় একটি ভূমিকম্প হয়। এ ছাড়া ঢাকার দোহারে চার বছর আগে ৪.৫ মাত্রার একটি এবং সিলেটে তিন বছর আগে ৪.২ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। অতীতে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে ১৯১৮ সালে ৭.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। এর উৎপত্তিস্থল সাব-ডাউকী হিসেবে পরিচিত। ঢাকা থেকে এ ভূমিকম্পটি ৮’র অধিক প্রাবল্যে অনুভূত হয়। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ছিল ১৫০ কিলোমিটার। ১৮৮৫ সালে বগুড়ায় ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১৭০ কিলোমিটার। ১৯৩০ সালে ধুবরীতে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।

এর বাইরে নিকট অতীতে ১৯৯৭ সালে সিলেটের জৈন্তাপুরে ৫.৬ মাত্রার একটি, একই বছর বাংলাদেশ-মিয়ানমার ৫.৭ মাত্রার একটি, মহেশখালীতে ১৯৯৯ সালে ৪.৪ মাত্রার একটি, ২০০৩ সালে রাঙ্গামাটিতে ৫.৫ মাত্রার একটি, ২০০৮ সালে ময়মনসিংহে ৪.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অঞ্চলে আবারো যেকোনো সময়ে ভূমিকম্প হতে পারে। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।


আরো সংবাদ