২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

স্বর্ণও চুকি করেছেন নাজিবের স্ত্রী

নাজিবের স্ত্রীর বিরুদ্ধে জুয়েলারি কোম্পানির মামলা - ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের স্ত্রী রোজমাহ মানসুরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে লেবাননের একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এক কোটি ৪৮ লাখ ডলার সমমূল্যের গয়নার দাম পরিশোধ করেননি তিনি। নাজিবের স্ত্রী তার আইনজীবীর মাধ্যমে বাকিতে গয়না ক্রয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নাজিব রাজাক মতায় থাকা অবস্থাতেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ তহবিল ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের (ওয়ানএমডিবি) অর্থ আত্মসাৎ করে নাজিব নিজ ব্যাংক হিসাবে জমা করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছিল। তবে নাজিব এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সম্প্রতি তার বাড়ি থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ দুই হাজার ৫৩৫ কোটি ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকারও বেশি। জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১২ হাজার পিস গয়না, বিভিন্ন ব্যাগে প্রায় তিন কোটি ডলারের সমমূল্যের ২৬টি দেশের মুদ্রা, ৪২৩টি ঘড়ি এবং ২৩৪ জোড়া সানগ্লাস। রয়েছে খ্যাতনামা নকশাকারদের তৈরি নানা মূল্যবান ও শৌখিন সামগ্রী। সম্পদ জব্দের অল্প কিছু দিনের মধ্যে নাজিবের স্ত্রীর বিরুদ্ধে গয়নার দাম পরিশোধ না করার অভিযোগে মামলা হলো। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২২ মে গ্লোবাল রয়্যালটি ট্রেডিং স্যালের একটি টায়ারা ও হীরের নেকলেসসহ ৪৪ পিস গয়নার চালান গ্রহণ করেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি মামলায় দাবি করেছে, হয় গয়নাগুলো ফেরত দিতে হবে, নয়তো এর মূল্য হিসেবে এক কোটি ৪০ লাখ ডলার অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

২৬ জুন মেসার্স ডেভিড গুরুপাথাম অ্যান্ড কোয়াভের মাধ্যমে রোজমাহর বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়। তবে সংবাদমাধ্যমে এটি প্রকাশ হয় ১০ জুলাই। রোজমার আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, গ্লোবাল রয়্যালটির দাবিটি মিথ্যা। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পুরনো ক্রেতা হিসেবে রোজমাহকে আগেও তারা বাকিতে এমন চালান পাঠিয়েছে।

আরো পড়ুন :

আনোয়ারের সম্মানে আজিজাহ দলের নেতৃত্ব ছাড়ছেন
নিউ স্ট্রেইট টাইমস

মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন জোটের অংশ আনোয়ারের ইব্রাহিমের পিকেআর পার্টির সভাপতি পদ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে দলটির নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন আনোয়ারের স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।

এরই মধ্যে দলটি দু’টি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একপক্ষ আজিজাহকে সভাপতি হিসেবে দেখতে আগ্রহী এবং অন্যরা চাচ্ছেন, মহাথির মুহাম্মদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের আগে প্রস্তুতির জন্য দলে আনোয়ারের প্রত্যাবর্তন হোক।
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্বামী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমকে দলের প্রধান করতে আজিজাহ স্বেচ্ছায় সভাপতির পর ছাড়তে পারেন। আগামী আগস্টে দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে আনোয়ারকে সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. এনামুল আযেলি হাসানুল মনে করেন, একজন রাজনীতিক ও পার্লামেন্টের একজন সদস্য হিসেবে আনোয়ার ইব্রাহিম প্রত্যাবর্তন করতে চাইলে আজিজাহ দলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘পিকেআর পার্টিতে দু’টি শিবির রয়েছে, তাদের একটি আজিজাহর সমর্থক এবং অন্যটি আনোয়ারের সমর্থক। পিকেআর পার্টির ডেপুটি দাতুক সেরি মোহাম্মদ আজমিন আলী আনোয়ারের সমর্থক।’ তিনি বলেন, ‘আনোয়ার যদি দলের সভাপতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী হয়, তাহলে তার স্ত্রী সহজেই সেটি প্রদান করবেন এবং আনোয়ার পার্টির ডি-ফ্যাক্টো নেতা হিসেবে তার অবস্থান ত্যাগ করবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘এমনটি হলে সভাপতি পদের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দরকার হবে না এবং আনোয়ার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হবেন।’


আরো সংবাদ