১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

থাই শিশুদের নিয়ে জ্যোতিষীর গণনা!

থাই শিশুদের নিয়ে জ্যোতিষীর গণনা! - ছবি : সংগৃহীত

গুহায় আটকেপড়া কিশোরদের জীবিত খুঁজে পাওয়া যাবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করা বৌদ্ধভিক্ষু ফ্রা খুবা বুনচামকে সম্মান জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন। ফ্রা খুবা বুনচাম ওই গুহার বাইরে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করতেন। গত শনিবার থাই রাজা ওই বৌদ্ধ ধর্মগুরুকে দেখতে যান। ওই সময় তাকে সম্মান জানানোর প্রস্তাব দেন।

উদ্ধারকারীরা আটকে পড়া কিশোরদের খুঁজে পাওয়ার আগেই তাদের অবস্থান সম্পর্কে ঠিকঠাক ভবিষ্যদ্ববাণী করেন ওই ধর্মগুরু। তিনি জানান, ওই কিশোর আর তাদের কোচকে দুই দিনের মধ্যে জীবিত খুঁজে পাওয়া যাবে

। ওই সময়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘তারা এখনো সেখানেই আছে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে।’ পরে গত ২ জুলাই দুইজন ব্রিটিশ ডুবুরি গুহার বেশ কয়েক কিলোমিটার ভেতরে গিয়ে আটকে পড়া কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে জীবিত শনাক্ত করতে সক্ষম হন। এরপরই থাইল্যান্ডের মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত হয়ে ওঠেন ওই বৌদ্ধ ধর্মগুরু। শনিবার তার সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে রাজা ভাজিরালংকর্ন ওই ধর্মগুরুকে রাজকীয় গাউন উপহার দেয়ার ঘোষণা দেন। এই গাউন থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ সংস্কৃতির অংশ।

আরো পড়ুন :

অবিশ্বাস্য সাহসী ও শক্ত থাই কিশোরেরা
বিবিসি

থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া ১২ জন কিশোরকে বের করে আনার কাজে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যেসব বিদেশী বিশেষজ্ঞ ডুবুরি অংশ নিয়েছেন, তাদের একজন ইভান কারাজিচ।

ডেনমার্কের এই বিশেষজ্ঞ ডুবুরি থাইল্যান্ডেরই কো-তাও নামে ছোট একটি দ্বীপে একটি গুহার ভেতরে ডাইভিং বা ডুবসাঁতার দেয়ার একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালান। চিয়াং রাইয়ের পাহাড়ের গুহায় কিশোর ফুটবল দলটির আটকে পড়ার খবর প্রচার হওয়ার পর অন্য নানা দেশের অনেক স্বেচ্ছাসেবী ডুবুরির মতো তিনিও ছুটে গিয়ে যোগ দেন উদ্ধারকারী দলে।

গত ক’দিনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আটকে পড়া এই বেশির ভাগ সাঁতার না জানা থাই শিশু-কিশোরদের সাহসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কারাজিচ। তিনি বলেন, ‘এই শিশুগুলোকে এমন কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা আগে কখনো এই বয়সের কোনো শিশুই হয়তো করেনি... ১১ বছর বয়সে কেভ ডাইভিং (গুহার ভেতরে ডুবসাঁতার) চিন্তারও বাইরে।’

কারাজিচ বলেন, সরু গুহায় ভারী অক্সিজেনের পাত্র পিঠে নিয়ে মাস্ক পরে ডুবসাঁতার দেয়া যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য বিপজ্জনক। যখন তখন বিপদ আসতে পারে, নিজের টর্চের আলো ছাড়া সব কিছু অন্ধকার।’

কারাজিচ বলেন, উদ্ধারের পরিকল্পনার সময় তাদের সবচেয়ে ভয় ছিল শিশুগুলো যদি মাঝপথে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, তখন কিভাবে তা সামাল দেয়া যাবে। কিন্তু যাদের বের করে নেয়া হয়েছে তাদের তেমন কোনো বিপদের কথা উদ্ধারকারীদের কাছ থেকে শোনা যায়নি।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারি না যে এই শিশুগুলো কতটা সাহসী এবং ঠাণ্ডা মাথার হতে পারে, ভাবতেই পারছি না... দুই সপ্তাহ ধরে ঠাণ্ডা, অন্ধকার গুহার আটকে ছিল তারা, মাকে দেখেনি...’

ইভান কারাজিচের দায়িত্ব- গুহার মাঝামাঝি পথে অবস্থান নিয়ে অক্সিজেন-ভর্তি পাত্র পরীক্ষা করে বদলে দেয়া। রোববার প্রথম শিশুটিকে তিনি যখন আসতে দেখেন, অনুভূতি কী ছিল তার? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘মনে মনে অনেক আশঙ্কা ছিল আমার। ৫০ মিটারের মতো দূরে প্রথম যখন একজন ডুবুরি এবং তার পেছনে শিশুটি নজরে এলো, আমি তখনো নিশ্চিত ছিলাম না যে শিশুটি বেঁচে আছে কি না। যখন দেখলাম সে শ্বাস নিচ্ছে, বেঁচে আছে, দারুণ স্বস্তি পেয়েছিলাম।’

থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও স্বস্তি প্রকাশ করলেন বের করে আনা সব শিশুই ভালো আছে। স্বাস্থ্য সচিব ড. জেটাসাদা চোকেদামরংসুক মঙ্গলবার বলেছেন, ‘তারা নিজেরাই সব কিছু করতে পারছে।’ একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সকালে কয়েকজন নাশতার জন্য চকোলেট-রুটি খেতে চেয়েছে। সোমবার কয়েকজন বাসিল পাতা এবং গোশত দিয়ে তৈরি ফ্রায়েড রাইস খেতে চেয়েছে। বিবিসির এক সংবাদদাতা টুইট করেছেনÑ বলাই বাহুল্য, এই শিশুরা অসামান্য, অসাধারণ।

বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখতে পারবে না তারা
এই সাহসী কিশোর ফুটবল দলটিকে সময়মতো গুহা থেকে বের করে আনা গেলে তাদের মস্কোতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ফিফা সভাপতি। কিন্তু থাই চিকিৎসকেরা জানিয়েছে, নানা পরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণের জন্য কম করে হলেও এক সপ্তাহ তাদের হাসপাতালে থাকতে হবে। তার অর্থ রোববারের ফাইনাল হয়তো তাদের হাসপাতালে টিভিতে দেখতে হবে।

বেশ কয়েক দিন না খেয়ে থাকার কারণে তারা শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া লম্বা সময় গুহায় আটকে থাকায় তারা বাদুড় ও ইঁদুরের কারণে কোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে কি না, সেটাও নিশ্চিত হতে চাইছেন চিকিৎসকেরা। এ কারণে তাদের হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সাথেও তাদের দেখা করতে দেয়া হয়নি। ফিফা সভাপতি বলছিলেন, মস্কোয় রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে থাই ওই দলের কোচসহ ১৩ জনের জন্য আসন বরাদ্দ থাকবে। তারা সময়মতো উদ্ধার পেলে খেলা দেখতে পারবে মাঠে বসে।


আরো সংবাদ