২৩ অক্টোবর ২০১৮

অবস্থান পাল্টাচ্ছে মিয়ানমার!

অবস্থান পাল্টাচ্ছে মিয়ানমার! - সংগৃহীত

এতদিন রোহিঙ্গাবিরোধী অবস্থান অব্যাহত রেখেছিল মিয়ানমার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগকে তোয়াক্কাও করেনি। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের বিচারের ব্যাপারে পদক্ষেপ শুরুর পর পূর্ববর্তী অবস্থান বদলাতে শুরু করে দেশটি।

এপ্রিলেই প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা পরিষদকে রাখাইনে প্রবেশাধিকার দেয়। ৩০ তারিখে মিয়ানমার সফরে গিয়ে সু চি ও সেনাপ্রধানসহ দেশের সুশীল সমাজ ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদল। মে মাসে রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা আসে।

২ জুন প্রথমবারের মতো তারা সব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়। সিঙ্গাপুরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা সংলাপে মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন প্রতিশ্রুতি দেন, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৭ লাখ রোহিঙ্গার সবাই যদি স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চায় তাহলে সবাইকে ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার।

৮ জুন রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে দেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সু চির বিরল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি ও সেনাপ্রধান মিং অং হ্লাংসহ উভয়পক্ষের ১৫ জন উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি জাতীয় নিরাপত্তাসহ রোহিঙ্গা সঙ্কটের অভ্যন্তরীণ তদন্ত নিয়ে আলোচনা করেন। ৯ জুন ভারত-মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের ১৭তম দ্বিপাক্ষীক বৈঠকে ভারতের সাথে আলোচনা হয় রোহিঙ্গা ইস্যুতে।

বেসামরিক নিরাপত্তা, নিধনযজ্ঞে জড়িতদের বিচার এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে মিয়ানমারকে তাগিদ দিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদ ও মানবাধিকার কমিশন শুরু থেকেই সোচ্চার মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের বিরুদ্ধে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট ওয়াচসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রও সোচ্চার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সে দেশের সেনাবাহিনীর ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ হয়েছে।

গত বছর ২৫ আগস্টের পর থেকে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এলেও মিয়ানমার শুরু থেকেই তাদের বাঙালি মুসলিম আখ্যা দিয়ে নাগরিকত্ব অস্বীকার করে আসছে। আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হওয়ার এক পর্যায়ে প্রত্যাবাসন চুক্তিতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। তবে নানা অজুহাতে প্রক্রিয়াটি এখনো বিলম্বিত করে যাচ্ছে মিয়ানমার। একজন রোহিঙ্গাও ওই চুক্তির আওতায় রাখাইনে ফিরেনি।

এমন বাস্তবতায় ৩০ মে তারিখে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধকে বিচারের আওতায় নিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) আবেদন জানায় রোহিঙ্গাদের পক্ষের আইনজীবীরা।


আরো সংবাদ