১৬ নভেম্বর ২০১৮

জিতেছেন কিমই?

জিতেছেন কিমই? - সংগৃহীত

সিঙ্গাপুরে কিম জং উনের সাথে ঐতিহাসিক আলোচনা ও চুক্তি স্বাক্ষরের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বৈঠক এতটাই ভালো হয়েছে যা কেউই আশা করেননি। সত্যি কি তাই?

অনেক বিশ্লেষক দেড় পৃষ্ঠার স্বাক্ষরিত দলিলটিকে 'অস্পষ্ট ও সারবস্তুহীন' বলে আখ্যায়িত করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ক্ষেত্র ধ্বংস করতে রাজি হয়েছে।

বিবিসির বিশ্লেষক লরা বিকার বলছেন, "আমাদের বলা হয়েছে এটা হবে। তাই হয়তো আমাদের 'দেখা যাক কী হয়' বলে অপেক্ষা করতে হবে - যেমনটা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই বলে থাকেন।"

উত্তর কোরিয়ার নেতার কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করার একটি প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন ট্রাম্প।

লরা বিকার বলছেন, এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অনুপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

একটি হচ্ছে 'রিভার্সিবল' - অর্থাৎ এমনভাবে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত হতে হবে উত্তর কোরিয়াকে যাতে তারা ভবিষ্যতে আর পারমাণবিক সক্ষমতা ফিরে পেতে না পারে। আরেকটি হচ্ছে 'ভেরিফায়েবল' - অর্থাৎ তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে নিশ্চিত হতে হবে যে হ্যাঁ সত্যিই এটা হয়েছে।

আমেরিকা কিন্তু এটা পাবার জন্যই চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু দেড় পৃষ্ঠার দলিলে এ কথা নেই। ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলনে দলিলপত্রে নেই এমন কিছু খুঁটিনাটি প্রকাশ করে বলেছেন - পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের ব্যাপারটি যেন যাচাই করা যায়, তাতে কিম জং উন রাজি হয়েছেন।

হয়তো ভবিষ্যতে কোনো একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্প যে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত উত্তর কোরিয়া চাইছেন - তা পাবেন। কিন্তু এখনো তা তিনি পাননি - বলছেন লরা বিকার।

কিম জং উন ট্রাম্পকে বলেছেন, তিনি তার হাতে যে যুদ্ধবন্দীদের লাশ আছে তা ফেরত দেবেন। তাদের আত্মীয়স্বজন যারা যুক্তরাষ্ট্রে বাস করেন তার জন্য এটা কিছুটা স্বস্তির খবর।

ক'দিন আগেও কিম জং উন লোকের চোখে ছিলেন বিচ্ছিন্ন, একঘরে হওয়া একজন 'যুদ্ধোন্মাদ স্বৈরশাসক', 'মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী' । অথচ সিঙ্গাপুরে তিনি পেয়েছেন জনতার হর্ষধ্বনি আর স্বাগতম।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি আর ওই এলাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সামরিক মহড়া চালাবেন না। এই মহড়াগুলোকে কিম জং উন বলতেন উস্কানিমূলক। এখন ট্রাম্পও তাই বলছেন, আরো বলছেন, এগুলো খুব ব্যয়বহুলও বটে।

কোনো কোনো বিশ্লেষক এ অঙ্গীকারকে 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় দেবার শামিল' বলে আখ্যায়িত করেছেন। অবশ্য ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা এখনো উঠে যাচ্ছে না, কিম প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন বলে দেখা গেলে পরে তা তুলে নেয়া হবে। তিনি আরো বলেছেন, তিনি কোনো ছাড় দেননি।

তাই এটা কি 'উইন-উইন' হলো - অর্থাৎ দু'পক্ষই কি জিতেছেন? নাকি শুধুই জিতেছেন কিম জং উন?

লরা বিকার বলছেন, এখনই বলা কঠিন, অন্তত যত দিন এর আরো খুঁটিনাটি জানা না যাবে। তবে আপাতত মনে হচ্ছে জিতেছেন কিমই।

ট্রাম্প-কিমের যৌথ ঘোষণায় কিছুই স্পষ্ট নয়
রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন মঙ্গলবারের বৈঠকে কোরীয় উপত্যকাকে সম্পূর্ণ পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়ে কাজ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। একই সাথে ওয়াশিংটন তার পুরনো শত্রুদেশটিকে নিরাপত্তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে; কিন্তু এসব লক্ষ্য কিভাবে অর্জন করা হবে সে সম্পর্কে বিশদ কিছুই স্পষ্ট করে বলা হয়নি সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক বৈঠকের পর ট্রাম্প ও কিমের স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডিপিআরকের নিরাপত্তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং চেয়ারম্যান কিম জং উন তার কোরীয় উপত্যকাকে সম্পূর্ণ পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়ে তার দৃঢ় অবিচল প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ‘উত্তর কোরিয়ার অফিসিয়াল নাম হচ্ছে ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া (ডিপিআরকে)।

ট্রাম্প বলেছেন তিনি আসা করছেন পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তারা এ সম্পর্কিত পরবর্তী আলোচনা ‘সম্ভাব্য দ্রুততম দিন’ থেকে শুরু করবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন এই সম্মেলনে শুধু প্রতীকী ফলাফল পাওয়া গেছে, স্পষ্ট কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

ওয়াশিংটনের ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিসের সিনিয়র গবেষক অ্যান্থনি রুগিয়েরো বলেন, ‘পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের জন্য আরো আলোচনা, দর কষাকষি চলবে কি না তা পরিষ্কার নয়। এটা দেখে মনে হচ্ছে দশ বছরেরও বেশি সময় আগে আমরা আলোচনা যেখানে থামিয়েছিলাম তাই আবার বলা হয়েছে এবং তা থেকে এক কদমও আগানো যায়নি।’ উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র বানানোয় তার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে যে সেটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে তার বিষয়েও দলিলটিতে কিছু বলা হয়নি।

শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সাথে কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করা হবে কি না সেটিও এই বিবৃতিতে স্পষ্ট নয়। ১৯৫০-৫৩ সালে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে যুদ্ধ হয়েছিল তা কার্যত এখনো চলছে।

 


আরো সংবাদ