২৪ অক্টোবর ২০১৮

ট্রাম্প-কিম বৈঠক নিয়ে যা ভাবছে চীন

ট্রাম্প-কিম বৈঠক নিয়ে যা ভাবছে চীন - ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠককে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে চীন। কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা নিরসনে ‘পূর্ণাঙ্গভাবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের’ আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলেরও আহ্বান জানানো হয়েছে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে। 
মঙ্গলবারের এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সাংবাদিকদের বলেন, সত্যিকার অর্থেই দুই নেতা একসাথে বসতে পেরেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক আলোচনা করেছেন এবং তারা নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন।’ 

উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থক চীন। তবে সামরিক শক্তি প্রদর্শন নিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর দেশটির ক্ষোভ রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত থাকার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা জোরালো করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় চীন। তবে বেইজিং বরাবরই বলে আসছে, নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আলোচনাও অব্যাহত রাখতে হবে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কোরিয়া উপদ্বীপের পারমাণবিক ইস্যুটির মূল বিষয় হলো নিরাপত্তা। এ নিরাপত্তা ইস্যুর সবচেয়ে জরুরি ও কঠিন অংশটি ছিল সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়াকে মুখোমুখি আলোচনায় বসানো।

ওয়াং ই বলেন, ‘এক দিক থেকে পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান মানেই হলো পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। একই সময়ে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তাজনিত যৌক্তিক উদ্বেগ নিরসনে কোরীয় উপদ্বীপের জন্য একটি শান্তিপ্রক্রিয়াও প্রয়োজন।’ এ দিকে বেইজিংয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ব্যাপারে জোর দেন চীনা পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জেং শুয়াং। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে জাতিসঙ্ঘের দেয়া সব প্রস্তাবই কঠোরভাবে মেনেছে চীন। তিনি বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, যদি উত্তর কোরিয়া জাতিসঙ্ঘ প্রস্তাবের সাথে সম্মতি রেখে কর্মকাণ্ড চালায়, তবে তার সাথে তাল মিলিয়ে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপও পরিবর্তন করা যেতে পারে। হতে পারে, নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা কিংবা প্রত্যাহার করা। নিষেধাজ্ঞা আরোপকে লক্ষ্য বলে মনে করে না চীন। কোরীয় উপদ্বীপে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা এবং কোরীয় উপদ্বীপের জন্য রাজনৈতিক সমাধান বের করার প্রচেষ্টাকে নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন দেয়া প্রয়োজন।’

আরো পড়ুন :

ট্রাম্প-কিমের যৌথ ঘোষণায় কিছুই স্পষ্ট নয়
রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন মঙ্গলবারের বৈঠকে কোরীয় উপত্যকাকে সম্পূর্ণ পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়ে কাজ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। একই সাথে ওয়াশিংটন তার পুরনো শত্রুদেশটিকে নিরাপত্তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে; কিন্তু এসব লক্ষ্য কিভাবে অর্জন করা হবে সে সম্পর্কে বিশদ কিছুই স্পষ্ট করে বলা হয়নি সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক বৈঠকের পর ট্রাম্প ও কিমের স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডিপিআরকের নিরাপত্তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং চেয়ারম্যান কিম জং উন তার কোরীয় উপত্যকাকে সম্পূর্ণ পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়ে তার দৃঢ় অবিচল প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ‘উত্তর কোরিয়ার অফিসিয়াল নাম হচ্ছে ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া (ডিপিআরকে)।
ট্রাম্প বলেছেন তিনি আসা করছেন পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তারা এ সম্পর্কিত পরবর্তী আলোচনা ‘সম্ভাব্য দ্রুততম দিন’ থেকে শুরু করবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন এই সম্মেলনে শুধু প্রতীকী ফলাফল পাওয়া গেছে, স্পষ্ট কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

ওয়াশিংটনের ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিসের সিনিয়র গবেষক অ্যান্থনি রুগিয়েরো বলেন, ‘পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের জন্য আরো আলোচনা, দর কষাকষি চলবে কি না তা পরিষ্কার নয়। এটা দেখে মনে হচ্ছে দশ বছরেরও বেশি সময় আগে আমরা আলোচনা যেখানে থামিয়েছিলাম তাই আবার বলা হয়েছে এবং তা থেকে এক কদমও আগানো যায়নি।’ উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র বানানোয় তার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে যে সেটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে তার বিষয়েও দলিলটিতে কিছু বলা হয়নি। 

শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সাথে কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করা হবে কি না সেটিও এই বিবৃতিতে স্পষ্ট নয়। ১৯৫০-৫৩ সালে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে যুদ্ধ হয়েছিল তা কার্যত এখনো চলছে।


আরো সংবাদ