২৩ অক্টোবর ২০১৮

ট্রাম্প-কিম মধ্যাহ্নভোজের মেন্যুতে কী ছিল

মধ্যাহ্নভোজ কক্ষে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে দুই রাষ্ট্রনেতা(ছবি : টুইটার থেকে নেয়া) - ছবি : সংগ্রহ

সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক বৈঠকের মাঝপথে একসাথে মধ্যাহ্নভোজন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ কিম জং উন। যুক্তরাষ্ট্র আর এশিয়ার সংস্কৃতি খাদ্যাভাস সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় দুই নেতা দুপুরে কী খেয়েছেন বা সিঙ্গপুরের সেন্তোসা দ্বীপের ক্যাপেলা হোটেল তাদের জন্য কী পরিবেশন করেছে সেটি নিয়ে সবার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে কিম জং উনের দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সময় তার দেশের কোল্ড নুডুলস খুবই সাড়া ফেলেছিলো বিশ্ব গণমাধ্যমে। দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরাও ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছিলেন সেই কোল্ড নুডুলস নিয়ে।

ইতোমধ্যেই মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে বিদায় নিয়েছেন দুই নেতা। তারা কী খেয়েছেন সেটি এখনো জানা না গেলেও খাবার টেবিলের খাদ্য তালিকা প্রকাশ পেয়েছে সংবাদ মাধ্যমে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এবারের দুই নেতার মধ্যাহ্নভোজে আমেরিকা ও এশিয়ার সংস্কৃতির মিশেল ছিলো। দুই নেতার খাদ্যাভাসের বিষয়টি এক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা হয়। গরুর গোশতের কাবাবসহ একাধিক গোশতের আইটেম ও মিষ্টি ছিলো খাবার টেবিলে।

হোটেল ক্যাপেলার একটি মেন্যু প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজে তাতে দেখা গেছে তালিকায় আছে চিংড়ি, আভাকাডো সালাদ নামের একটি সবজি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের একটি বিশেষ সালাদ যা তৈরি হয়েছে কাঁচা আমের সাথে মধু ও অক্টোপাসের মিশ্রণে। এছাড়া ছিলো শসা দিয়ে তৈরি ওইসিয়েন নামের একটি কোরিয়ান খাবার।

মূল খাদ্য হিসেবে ছিলো গরুসহ কয়েক প্রকারের কাবাব, আলু দিয়ে তৈরি বিশেষ একটি খাবার, ব্রোক্কলি নামে ফুলকপি জাতীয় এক প্রকারের সবজি। জো নামের এক ধরনের মরিচের সস দিয়ে ফ্রাইড রাইস ও মিষ্টি। এছাড়া ছিলো দায়েগু জোরিম নামের এক ধরনের কোরিয়ান খাবার যেটি তৈরি হয় তেলে ভাজা কড মাছ ও মুলাসহ কয়েক ধরনের এশীয় সবজি দিয়ে।
মূল খাবারের পরে ট্রাম্প, কিম ও তাদের সাথে থাকা অন্যান্য কর্মকর্তাদের জন্য থাকতে পারে চকোলেট কেক, হ্যাজেন ডাজ কোম্পানির ভ্যানিলা আইসক্রিম, ট্রপিজিয়েন নামের এক প্রকারের পেস্ট্রি ও চেরি ফলে সস।

বিবিসি জানিয়েছে, মধ্যাহ্নভোজের মেন্যুতে বার্গার থাকতে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ২০১৬'তে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি কিমের সাথে বার্গার খেতে চান।

আরো পড়ুন : ট্রাম্প-কিম: কার কী দাবি-দাওয়া

সিঙ্গাপুরে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের মধ্যে শীর্ষ বৈঠক। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই বৈঠকে বসছেন দুই নেতা। দীর্ঘদিনের শত্রু দুটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকের দিকে এখন দৃষ্টি বিশ্বের সব অঞ্চলের মানুষের। অনেকেই বলছেন, এই বৈঠকটিই হয়তো বিশ্বপরিস্থিতি পাল্টাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে।
গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উত্তর কোরিয়ার যে, প্রকাশ্য বৈরিতা চলছে-তা চূড়ান্ত রূপ লাভ করে গত কয়েক মাস। উত্তর কোরিয়া তাদের একের পর এক অস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রাখে। যে কোন সময় কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধ লাগতে পারে- এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়। কিমের আগ্রাসী আচরণে ভীত হয়ে পড়ে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। আর যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহত রাখে দেশটিকে একঘরে করে রাখার প্রচেষ্টা। 
কিম জং উন তো তার সমরাস্ত্র পরীক্ষার কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘রকেট ম্যান’ হিসেবেই খ্যাতি পেয়ে যান। অবস্থান এমন পর্যায়ে পৌছে যে, দুই রাষ্ট্র নেতা ট্রাম্প ও কিম পরস্পরকে ব্যক্তিগতভাবেও হুমকি দিতে থাকেন। কিম জং উন ট্রাম্পকে ‘বুড়ো’ আর ট্রাম্প কিমকে  বলেন ‘বেটে ও খাটে’। কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছেন। এমনকি একবার এমনও বলেছেন, আগামী সপ্তাহে হামলার তারিখ ঘোষণা করবেন। আবার ট্রাম্প স্পষ্টই বলেছেন, পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হবে উত্তর কোরিয়াকে। কিম হুমকি দিয়ে বলেছেন উত্তর  কোরিয়ার পারমণবিক অস্ত্রের বাটন তার টেবিলেই থাকে। এর জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটনের পারমাণবিক বাটন উত্তর কোরিয়ার চেয়ে অনেক শক্তিশালী।
এতসব হুমকির মধ্যেও এ বছরের শুরুর দিকে কিমের একটি বক্তৃতায় পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। কিম বলেন, তিনি সব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। কিমের এই ইচ্ছাকে ট্রাম্প স্বাগত জানালে ইতিবাচক মোড় নেয় পরিস্থিতি। এরপর পর্দার আড়ালে চলে দুই দেশের কর্মকর্তাদের কূটনেতিক প্রক্রিয়া। অবশ্য এই প্রক্রিয়ার সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলো দক্ষিণ কোরিয়া। অবশেষে মঙ্গলবার সফল হয় এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপে বৈঠকে বসেন দুই নেতা।
কার কী দাবি
দুই নেতার বৈঠকের দাবি দাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে অনেক দিন ধরেই চলছে আলোচনা। অবশ্য আলোচনা না বলে দরকষাকষি বলাই ভালো। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও সেই সাথে অন্যান্য বিধিবর্হিভূত ক্ষেপণাস্ত্রের অপসারণ। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার প্রত্যাশা তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে কোন পূর্বশর্ত ছাড়াই অস্ত্র কর্মসূচী বর্জন করে আলোচনায় আসবে উত্তর কোরিয়া। কিন্তু কিম জং উন তাতে রাজি হনি। মূলত তার দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি তাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়েছে। তাই রাজি হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, কিম জং উন চাইছেন তার দেশের নিরাপত্তার গ্যারান্টি। অস্ত্র পরিত্যাগ করার পর উত্তর কোরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র কোন আগ্রাসী পদক্ষেপ নেবে না সেই মর্মে নিশ্চয়তা।
এক্ষেত্রে লিবিয়ার উদারহরণ তো তার সামনেই ছিলো। ২০০৪ সালে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচী বর্জন করার সাত বছরের মাথায় পশ্চিমা জোটের হামলায় প্রাণ দিয়েছেন লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার আল গাদ্দাফি।
অর্থনৈতিক বিষয়গুলোও জড়িত আছে এর সাথে। উত্তর কোরিয়া অর্থনৈতিক দূরাবস্তা থেকে বের হয়ে আসতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক চালু করার দেশটির অন্যতম লক্ষ্য। আবার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাদের এশীয় মিত্রদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যাতে উত্তরের কোন আগাসনের শিকার না হয় সেটিও নিশ্চিত হতে চাইছে ওয়াশিংটন।

সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন দুই নেতা

ডোনাল্ড ট্রাম্প: "আমরা নিশ্চিতভাবে অত্যন্ত গঠনমূলক ও খুবই সফল একটি আলোচনা সম্পন্ন করতে পারবো। এটি আমার জন্য সম্মানের এবং আমি নিশ্চিত যে আমাদের মধ্যে চমৎকার সুসম্পর্ক তৈরী হবে।"

কিম জং-উন: "এখানে আসা আমার জন্য সহজ ছিল না। আমাদের অতীতের বিশ্বাস ও ধ্যানধারণা এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু সেসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়েই আমরা আজ এপর্যন্ত এসেছি।"

এদিকে বৈঠক বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন। তিনিই এ বৈঠক আয়োজনে মূল ভূমিকা রেখেছেন। মুন বলেছেন, গত রাতে ঘুমাতে পারিনি।

বিট্রিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানায়, এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত এক মাসের নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ সকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং-উনের মধ্যকার বৈঠকটি সিঙ্গাপুরের স্যান্টোসা দ্বীপের বিলাসবহুল ক্যাপেল্লা হোটেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অন্যদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মুন বলেন, ‘আশা করি, দুই নেতার বৈঠক সফল হবে এবং নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হবে।’

ট্রাম্প - কিমের  ঐতিহাসিক বৈঠক চলছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠক শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ জুন) ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়) সিঙ্গাপুরের স্যান্টোসা দ্বীপের হোটেল ক্যাপেলোতে এই বৈঠক শুরু হয়। রয়টার্স,বিবিসি

, বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে অর্থনৈতিক সহায়তার ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আছেন সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও সেনাপ্রধান জন কেলি, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনও রয়েছেন বৈঠকে, যার মন্তব্যের কারণে প্রায় পন্ড হতে বসেছিল বৈঠক।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বৈঠকে যারা রয়েছেন: কিম ইয়ং-চল: তাঁকে কিম জং-আনের 'ডানহাত' বলে মনে করা হয়। এ মাসের শুরুতে বৈঠকের প্রস্তুতির জন্য ওয়াশিংটন গিয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ার এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। রি ইয়ং-হো: উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৯৯০ এর দশকেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন এই কূটনীতিক। রি সু-ইয়ং: পিয়ংইয়ং'এর শীর্ষপর্যায়ের এই কর্মকর্তা এর আগে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।


বৈঠক শেষে সিঙ্গাপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে রাতে সিঙ্গাপুর ছাড়বেন তিনি। বিরল এ বৈঠকের সংবাদ সংগ্রহ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় আড়াই হাজার সাংবাদিক ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন।


আরো সংবাদ