১৬ আগস্ট ২০১৮

উন্মুক্ত কারাগার উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া
কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হলে তার পুরো পরিবারকেই চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া হয় উত্তর কোরিয়ায় - সংগৃহীত

শেষ পর্যন্ত মুখোমুখি বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আন। বৈঠকের জন্য একদিন আগেই সিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন তারা।

কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিই থাকবে তাদের আলোচনার টেবিলে।

কিন্তু উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা যে নিজ দেশেই মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা শিকার হচ্ছেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের।

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ইস্যুর কাছে মানবাধিকারের প্রশ্ন এখন বিশ্বে চাপা পড়ে গেছে।

দুই নেতার আলোচনার টেবিলে ঠাঁই পচ্ছে না মানবাধিকার ইস্যু।

যদিও জাতিসঙ্ঘ উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় নিয়ে বলে আসছে।


উত্তর কোরিয়ায় সবকিছুই সরকারের নিয়ন্ত্রণে

কিম পরিবারের তিন পুরুষ শাসন করে আসছে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন এই দেশটিকে। বর্তমান নেতা কিম জং আন এবং তার পরিবারের প্রতি পুরোপুরি আনুগত্য দেখিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে দেশটির নাগরিকদের। প্রত্যেক নাগরিকের ওপরই ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। আর দেশের অর্থনীতি, সেটিতো সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে।

মানুষের খাদ্য, জ্বালানিসহ মৌলিক বিষয়গুলোতে ভয়াবহ সঙ্কট রয়েছে। কিন্তু কিম জং আনের সরকার অর্থ ব্যয় করছে পরমাণু এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস এর মন্তব্য হচ্ছে, উত্তর কোরিয়া একটি সর্বগ্রাসী রাষ্ট্র। পরমাণু কর্মসূচির পিছনে অর্থ ঢালতে গিয়ে সরকার দেশের ক্ষুধার্ত মানুষের খাবার কেড়ে নিচ্ছে।


গণমাধ্যমও সরকারের পুরো নিয়ন্ত্রণে

উত্তর কোরিয়ায় গণমাধ্যমের বিন্দুমাত্র স্বাধীনতা নেই। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় কঠিনভাবে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোটার্স উইদাউট বর্ডার্স সর্বশেষ বিশ্বের ১৮০টি দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার যে সূচক প্রকাশ করেছে, তাতে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ১৮০তম।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম থেকেই নাগরিকদের খবর, বিনোদন বা সব ধরণের তত্যের খোরাক মেটাতে হয়। কিন্তু তাতে থাকে শুধু সরকারের প্রশংসা।

পরিস্থিতি সেখানে এতটাই ভয়াবহ যে কেউ দেশের বাইরের বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে কিছু জানার চেষ্টা করলে তাকে জেলে যেতে হয়।

অভিজাতরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। তাতেও নজরদারি আছে। দেশের বাইরে ফোন করা যায় না।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, কালোবাজারির মাধ্যমে কিছু চীনা মোবাইল ফোন পাওয়া যায়, গোয়েন্দা সংস্থার নজরে পড়লে, ফোন ব্যবহারকারি ব্যক্তিকে হয়রানি পোহাতে হয়।

উত্তর কোরিয়ার পিয়ংইয়ংয়ে অভিজাতদের কেউ কেউ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এই সেবাও নজরদারির বাইরে নয়।

ধর্মীয় স্বাধীনতা কতটা আছে?

উত্তর কোরিয়ার সংবিধান কিন্তু নিজস্ব বিশ্বাসের অধিকারের কথা বলা আছে। সেখানে বৌদ্ধ, শামানিস্ট এবং স্থানীয় চন্দোইজম ধর্মের অনুসারি রয়েছে। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গির্জাও সেখানে আছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বক্তব্য হচ্ছে, ধর্ম নিয়ে সেখানে লোকদেখানো কিছু কর্মকাণ্ড আছে। আসলে নাগরিকদের কিম পরিবারের বন্দনা করা ছাড়া ধর্মীয় কোনো স্বাধীনতা নেই।

বন্দীদের জন্য শর্ত অনেক কঠিন

দেশটিকেই বিশ্বের উন্মুক্ত কারাগার বলা যায় বলে মন্তব্য করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ব্র্যাড অ্যাডামস।

সামান্য বিষয়ে কারাদণ্ড হতে পারে। আর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সেখানে কোনো বিষয়ই নয়। প্রকাশ্যে শিরচ্ছ্বেদ করা হয়।

কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হলে তার পুরো পরিবারকেই চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া হয়।

কেউ যদি দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা বা ডিভিডি বা কিছু দেখে, তাহলে তাকেও বন্দী করা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ায় সোয়া লাখের বেশি মানুষ কারাগারে রয়েছে।

২২ বছর বয়সী যুক্তরাষ্ট্রের একজন শিক্ষার্থী উত্তর কোরিয়া বেড়াতে গিয়ে ১৭ মাস জেল খেটেছিলেন।

নাগরিকের শ্রমের উপরও জবরদস্তি চলে

দেশের জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশকে বছরের কোনো না কোনো সময় সরকারের কাছে বিনামূল্যে শ্রম দিতে হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ নিয়েও ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছিল।

উত্তর কোরিয়া ছেড়ে যাওয়া সাবেক একজন শিক্ষার্থী বলেছেন, বছরে দু'বার তাদের স্কুল থেকে জোর করে বিনামূল্যে কাজ করিয়ে নেয়া হয়েছিল।

চীন, কুয়েত এবং কাতারে উত্তর কোরিয়ার হাজার হাজার নাগরিককে ক্রীতদাসের মতো নামমাত্র পারিশ্রমিকে কাজ করতে পাঠানো হয়। তারা নামমাত্র যে পারিশ্রমিক পান, তারও বড় অংশ সরকার নিয়ে নেয়।

নারীদের কোনো অধিকারই সেখানে নেই

উত্তর কোরিয়া নিজেদের সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করলেও সেখানে নারীরা চরম বৈষ্ণ্যমের শিকার। তাদের শিক্ষা এবং কাজের সুযোগ নেই বললেই চলে। আর আহরহ ঘটে যৌন হয়রানির ঘটনা। ফলে নারীদের জীবন সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

শিশুরাই বা কতটা নিরাপদে আছে?

প্রাথমিক স্কুল থেকেই শিশুদের ঝড়ে পড়ার হার উদ্বেগজনক। শিশুরা স্কুল যাওয়া শুরু করে। কিন্তু পরিবারকে সাহায্য করার জন্য শিশু বয়সেই অর্থ আয়ের চেষ্টা করতে হয়। ফলে তাদের আর স্কুলে যাওয়া হয় না।

স্কুলের পাঠ্যক্রম রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত। এই পাঠ্যক্রম দিয়ে জানার পরিধিও সীমিত করে রাখা হয়েছে।

ইউনিসেফ এর হিসাব অনুযায়ী দুই লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে।

উত্তর কোরিয়ার সরকার নাগরিকদের অধিকার নিয়ে সমালোচনা অস্বীকার করে আসছে।

তবে মানবাধিকার কর্মি ব্র্যড অ্যাডামস এর মন্তব্য হচ্ছে,উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতিকে তলাবিহীন গভীর কূপের সাথে তুলনা করা যায়।

 

আরো পড়ুন : যে দ্বীপে বৈঠকে বসবে কিম-ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আন-এর মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত বৈঠকটি সিঙ্গাপুরের স্যান্টোসা দ্বীপের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউজ থেকে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক এ শীর্ষ বৈঠকটি আগামী ১২জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এ বৈঠকের অনেক বিষয় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

উত্তর কোরিয়ার নেতা এবং কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টর মধ্যে এটি হবে প্রথম বৈঠক।

গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, পরিকল্পনা সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারা স্যান্ডার্স এক টুইটার বার্তায় নিশ্চিত করেছেন যে শীর্ষ বৈঠকটি সিঙ্গাপুরের স্যান্টোসা দ্বীপের পাঁচ তারকা কাপেল্লা হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে।

যে ৬৩টি দ্বীপের সমন্বয়ে সিঙ্গাপুর দেশটি গঠিত হয়েছে স্যান্টোসা দ্বীপ সেগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এই দ্বীপটি ৫০০ হেক্টর জায়গার উপর গড়ে উঠেছে। মূল ভূখণ্ড থেকে এ দ্বীপটি কাছে।

এখানে প্রচুর বিলাসবহুল হোটেল এবং অভিজাত গলফ কোর্স রয়েছে।

তবে স্যান্টোসা দ্বীপের একটি কালো অধ্যায় রয়েছে। দস্যুতা, রক্তপাত এবং যুদ্ধের ইতিহাস রয়েছে এ দ্বীপের।

উনিশ শতকে ব্রিটেনের অধীনস্থ একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সিঙ্গাপুরের আবির্ভাব ঘটে।

ভারত এবং চীনের মধ্যে যে সমুদ্র পথ আছে সেটির মাঝখানে সিঙ্গাপুরের অবস্থান। ফলে সিঙ্গাপুরের আলাদা একটি গুরুত্ব রয়েছে।

ব্রিটিশ শাসনের পূর্বেই সিঙ্গাপুর ছিল একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছিল। এখানে ব্যবসায়ীদের আসা-যাওয়া যেমন ছিল, তেমনি দস্যুদের আনাগোনাও ছিল।

স্যান্টোসা দ্বীপটি 'মৃত্যুর দ্বীপ' হিসেবে পরিচিত ছিল। কারণ এ দ্বীপ দস্যুতার জন্য পরিচিত ছিল।

১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের আত্নসমর্পনের পর সিঙ্গাপুর জাপানের হাতে চলে যায়।

তখন জাপানীরা এ দ্বীপটিকে 'সায়োনান' অর্থাৎ 'দক্ষিণের বাতি' নামে নতুন নামকরণ করে।

সে দ্বীপে নৃ-তাত্ত্বিক চীনা সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। জাপান-বিরোধীদের সেখান থেকে সরানোর নামে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।

১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী চীনা পুরুষদের বিভিন্ন জায়গায় ডেকে নিয়ে মেশিনগান দিয়ে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে সাগরে ফেলে দেয়া হয়।

যেসব জায়গায় হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল তার মধ্যে বর্তমানে কাপেল্লা হোটেলের সামনে সমুদ্র সৈকত অন্যতম।

১৯৭০ সালে সিঙ্গাপুর সরকার দ্বীপটির নামকরণ করে স্যান্টোসা, যার অর্থ 'শান্তি'।

এরপর দ্বীপটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়।

এ দ্বীপে গড়ে উঠেছে অনেক ব্যয়বহুল আবাসন প্রকল্প। এখানে একেকটি বাড়ির দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার।

সে সাথে রয়েছে বিলাসবহুল, গলফ কোর্স এবং নানা ধরনের অভিজাত রেস্টুরেন্ট।

মূল ভূখণ্ডের কাছ হওয়ায় স্যান্টোসা দ্বীপ বেশ নিরাপদ।

এ দ্বীপে যাওয়ার জন্য যেসব প্রবেশ পথ আছে সেগুলোকে খুব সহজেই নিরাপদ রাখা যায়।

সেখানে যাওয়ার জন্য একটি ক্যাবল কার লাইন, একটি মনোরেইল লাইন এবং যানবাহন চলাচলের একটি টানেল রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা আলোচনায় যদি কোন বিরতি নিতে চান, তাহলে সেখানে গলফ কোর্সও রয়েছে।

 

আরো পড়ুন : কিমের হোটেল বিলের টাকা নেই উত্তর কোরিয়ার?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে সিঙ্গাপুরে শীর্ষ বৈঠকের সময় কিম জং আনের হোটেল বিল দেয়া উত্তর কোরিয়ার জন্য কঠিন হতে পারে, এমন খবরের পর সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী একটি সংস্থা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আনের মধ্যে সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা এ মাসের ১২ তারিখ।

পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রচারণার জন্য নোবেল বিজয়ী বেসরকারি সংস্থা আইসিএএন প্রস্তাব দিয়েছে - বৈঠকের জন্য সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরিয়ার যে খরচ হবে তা তারা দিয়ে দেবে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আনের হোটেলের বিলও শোধ করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে আইসিএএন।

সিঙ্গাপুরে কিম জং আন এবং তার প্রতিনিধিদলের খরচ বহন করা উত্তর কোরিয়ার জন্য কষ্টকর হতে পারে, সংবাদ মাধ্যমে এমন খবর বেরুনোর পর সাহায্যের এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

আইসিএএনের কর্মকর্তা আকিরা কাওয়াসাকি বার্তা সংস্থা রয়টরসকে বলেছেন, "নোবেল পুরস্কারের সাথে কিছু নগদ অর্থ আমরা পেয়েছিলাম, তা দিয়ে এই শীর্ষ বৈঠকের খরচ বহন করতে প্রস্তুত। কোরীয় উপদ্বীপের শান্তির জন্য, পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের জন্য এই আমরা এটা করতে চাই।"

শীর্ষ বৈঠকের আয়োজনের জন্য উত্তর কোরিয়া সরকারের স্টাফ প্রধান কিম চ্যাং সন সম্প্রতি সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন। তাকে সে সময় সিঙ্গাপুরের পাঁচ তারকা হোটেল ফুলারটনে দেখা গেছে।

বিলাসবহুল ফুলারটন হোটেলে প্রেসিডেন্সিয়াল সুইটের ভাড়া প্রতি রাতে ছয় হাজার মার্কিন ডলার।

ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা লিখেছে, উত্তর কোরিয়া তার নেতা এবং প্রতিনিধিদলের সিনিয়র সদস্যদের জন্য এই হোটেলকে পছন্দ করছে।

কিম জং আনের সাথে থাকবেন তার উপদেষ্টারা, ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং নিরাপত্তা কর্মীরা।


আরো সংবাদ