নারী

নিজের জন্য সময়

নারী সে চাকরিজীবী হোক কিংবা গৃহিণী হোক। সবার ব্যস্ততাই অনেক। পরিবারের সবার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করেন তিনি। অথচ নিজের জন্য থাকে না একটুও সময়। একটু যে বিশ্রাম নেবেন কিংবা শখের একটা কাজ করবেন তা আর হয়ে ওঠে না। এ আক্ষেপ অনেকেরই। কিন্তু আক্ষেপ না করে একটু গুছিয়ে কাজ করলে সম্ভব নিজের জন্য একটু সময় বের করা। এসব নিয়েই লিখেছেন মাকসুদা রহমান

মিসেস হক চাকরি করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে। দু’টি সন্তান। অফিস, সংসার সামলাতে সারা সপ্তাহই ছুটতে হয় সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। ছুটির দিনও থাকে নানা কাজ, সারা সপ্তাহের জমে থাকা বাড়তি কাজ। সাথে মেহমান, সন্তানদের নানা আবদার। সব মিলিয়ে ছুটির দিনেও নিজের জন্য একটু সময় বের করা হয় না তার। অথচ একসময় ভালো কবিতা লিখতেন। পত্রপত্রিকায় ছাপাও হতো। এখনো অনেকে লেখার কথা বলেন। কিন্তু সময় কোথায়? লেখা দূরে থাক, একটু যে পছন্দের বই পড়বেন সে সময়ও নেই। নিজের মনেই গুমরে মরেন। কিন্তু নিজের জন্য একটু সময় বের করতে পারেন না।
শাহানার খুব শখ গান শোনার, গল্পের বই পড়ে আলস্যে সময় কাটানোর। এ জন্য কোথাও চাকরিও করেন না। কিন্তু তাতে কী হবে। সংসার শুরু হয় সেই ভোর ৬টা থেকে। সাড়ে ৭টার মধ্যে সন্তান দুটোকে রেডি করে স্কুলে পাঠানো। এরপর স্বামী বাসা থেকে বের হন সাড়ে ৮টায়। তার নাশতা থেকে পোশাক সব দিকেই নজর রাখতে হয়। এরপর কাজের মেয়েটা এলে তাকে কাজ বুঝিয়ে দিতে দিতে সন্তানদের স্কুল থেকে আসার সময় হয়ে যায়। এরপর দুপুরের রান্না-খাবারের পর সন্তানদের নিয়ে ছুটতে হয় কোচিংয়ে। তাদের নিয়ে ফিরে সন্ধ্যার নাশতা, রাতের খাবারÑ এত কিছুর পর শরীর ভেঙে আসে। কোনো দিকেই মনোযোগ দেয়া হয় না। অথচ মনের আক্ষেপ থেকেই যায়। কিন্তু নিজের জন্য সময় বের হয় না এতটুকু।
শুধু শাহানা কিংবা মিসেস হকই নন। এ নগরীতে বেশির ভাগ গৃহিণীর অবস্থা এমন। তা তিনি চাকরিজীবীই হন আর গৃহিণী। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়েই ছুটতে হয় সারা দিন। কোথাও একদণ্ড বসার সময় যেন নেই কারো। আর আজকাল সবাই কিছু-না-কিছু করছেন। যিনি চাকরি করেন না, তিনিও বাসায় বসেই বুটিক কিংবা গয়না বানান। আবার অনেকেই অনলাইনে ব্যবসা করেন। ফলে ব্যস্ততা সবারই পাহাড়সম। এর মাঝে নিজের জন্য একটু সময় বের করা সত্যি কষ্টকর। আর ছুটির দিন, সে দিনটি তো কাটে আরো দৌড়ে। নিজেকে একটু সময় দেয়া, পছন্দের কাজে সময় ব্যয় করা কিছুই হয়ে ওঠে না। তাই আক্ষেপ অনেকেরই। কিন্তু আক্ষেপ নিয়ে মনে মনে কষ্ট পেলে লাভ হবে না। বরং আক্ষেপ ঝেড়ে আপনি যদি নিজের সময় বের করার জন্য একটু গুছিয়ে কাজ করেন তাহলে দেখবেন নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করতে পারছেন। নিজের জন্য কিছুটা সময় যদি ছুটির দিনে পেতে চান তাহলে সারা সপ্তাহই একটু পরিকল্পনা করে চলতে হবে।
সারা সপ্তাহেই যদি একটু একটু করে ছুটির দিনের কাজ করে রাখা যায় তাহলে ছুটির দিনে একটু সময় আপনি বের করতে পারবেন। ছুটির দিনে সংসারের কাজে সন্তানদের শামিল করা যায়। তারাও আপনাকে সাহায্য করল। এতেও আপনার সময় কিছুটা বাঁচবে। ছুটির দিন দুপুরে আপনি ইচ্ছে করলে বিশ্রাম নিতে পারেন অথবা শুনতে পারেন পছন্দের কোনো গান অথবা পড়তে পারেন প্রিয় কোনো বই। কোনো এক ছুটির দিনে পরিবারের সবার সাথে বেরিয়ে আসতে পারেন আশপাশের কোথাও থেকে। আসলে ছুটির দিনে যদি একঘেয়ে রুটিন থেকে বের হয়ে নিজের শখের জন্য বা বিশ্রামের জন্য একটু সময় বের করে উপভোগ করেন; তাহলে দেখবেন সারা সপ্তাহই ভালো যাবে। নিজেকে এতটা কান্ত মনে হবে না। তাই প্রয়োজন একটু পরিকল্পনার আর গুছিয়ে নিজের কাজটা করা। তাহলে দেখা যাবে আপনিও আপনার শখের জন্য একটু সময় কাটাতে পারছেন।

 

আরো সংবাদ