যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ওয়াশিংটনের ফিলিস্তিনি মিশন বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একের পর এক খড়গ নেমে আসছে ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের ওপর। গত সপ্তাহে ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের জন্য কাজ করে জাতিসঙ্ঘের এমন সংস্থায় অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সপ্তাহের শেষ দিকে পূর্ব জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিরা চিকিৎসা নেয় এমন কয়েকটি হাসপাতালে সহযোগিতা বন্ধ করেছেন। আর রোববার জানা গেছে, প্যালেস্টান লিবারেশন অর্গানাইজেশনের(পিএলও) ওয়াশিংটন অফিস বন্ধ করে দিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা প্রত্যাখান করার ফিলিস্তিনির স্বাধীনতার দাবিতে কাজ করা সংস্থাটির ওয়াশিংটনস্থ কূটনৈতিক অফিসটি বন্ধ করে দিচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা আন্দোলনের সবচেয়ে বড় স্বত্ত্বা পিএলও।এই অফিসটিই আসলে যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনের দূতাবাস হিসেবে কাজ করে।

সোমবার এক বিবৃতিতে পিএলওর মহাসচিব সায়েব ইরেকাত বলেন, ‘এক মার্কিন কর্মকর্তার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যতা ফিলিস্তিনি মিশন বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মানবিক, চিকিৎসা, ও স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা বন্ধের পর ফিলিস্তিনিদের শাস্তি দেয়ার ট্রাম্পে প্রশাসনের নীতির এটি আরেকটি প্রমাণ।’

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের নেতৃত্বে ইসরাইলের সাথে আলোচনায় না বসার জন্য এই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে গত বছর জেরুসালেমকে ট্রাম্প কর্তৃক ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে ফিলিস্তিন বলছে, এই স্বীকৃতি বাতিল না করা হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততা মানবে না। দুই দফা যুদ্ধে জেরুসালেম নগরী দখল করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনিরা বলছে, আলোচনার প্রথম বিষয় বস্তু হবে জেরুসালেম ইস্যু। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হতে হবে এই নগরী। যা বর্তমানে ইসরাইলিরা দখল করে রেখেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও রয়টার্স জানিয়েছে তাদের রিপোর্টাররা এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তৃতার খসড়া দেখেছে। ওই বক্তৃতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকেও(আইসিসি) নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয়া হবে, যদি তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলে কোন তদন্ত চালায়। ওয়াশিংটন ডিসিতে রক্ষণশীলদের সংস্থা ফেডরেলিস্ট সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে দেয়ার জন্য বোল্টনের খসড়া বক্তৃতায় লেখা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র সর্বদা আমাদের বন্ধু ও মিত্র ইসরাইলের পাশে থাকবে। ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসতে না চাইলে ট্রাম্প প্রশাসন এখানে তাদের অফিস চালাতে দেবে না।’

আফগান যুদ্ধে মার্কিন সৈন্য ও গোয়েন্দাদের যুদ্ধাপরাধের বিষেয়ে তদন্ত না করতে আইসিসিকে হুশিয়ারি দেয়া হবে ওই বক্তৃতায়। আইসিসি এমন কোন পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো জজ ও কৌশলিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ব্যবস্থার সাথে জড়িত সংস্থাটির যে তহবিল আছে সেগুলোও বাজেয়াপ্ত করতে পারে।

আরো পড়ুন : জোরপূর্বক আল আকসায় ঢুকল ইসরাইলি দখলদাররা
মুসলিমদের প্রথম কেবলা ও অন্যতম পবিত্র স্থান আল আকসা মসিজদে জোর করে ঢুকে পড়েছে ইসরাইলি দখলদারদের একটি দল।
পূর্ব জেরুসালেমের আল আকসা মসজিদে রোববার ওই ইসরাইলিদের দলটি ঢুকে পড়ে বলে ফিলিস্তিনি এক কর্মকর্তার মাধ্যমে জানা গেছে। দলটিতে ছিলো দেড়শোরও বেশি লোক। যারা জোরপূর্বক মসজিদ চত্বরে ঢুকে পড়ে। দলটির সাথে ইসরাইলি পুলিশ ছিলো বলে জানিয়েছে মসজিদ তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা।

রোববারের ঘটনা সম্পর্কে মসজিদটির তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা জেরুসালেম ইসলামিক ওয়াকফ এর কর্মকর্তা ফিরাস আল দিবস এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছে, দেড়েশোরও বেশি ইসরাইলি ইহুদি দখলদার পবিত্র মসজিদ চত্বরের আল মুগারাবা প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢুকে পড়ে। তিনি বলেন, এসব দখলদারদের সাথে ইসরাইলের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন। এছাড়া ইসরাইলের কৃষিমন্ত্রী উরি এরিয়েলও দখলদারদের সঙ্গে মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করেছেন।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই পূর্ব জেরুসালেমসহ ফিলিস্তিনি এলাকায় উত্তেজনা বেড়েছে।

আল-আকসা মসজিদটি বিশ্ব মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র স্থান। অন্যদিকে ইহুদিরাও এই স্থানটিকে তাদের পবিত্র স্থান হিসেবে দাবি করে। ইহুদিরা এ স্থানটিকে ডাকেন টেম্পল মাউন্ট নামে। ১৯৬৭ সালের আরব ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেম দখল করে নেয়। আর ১৯৮০ সালে তারা দখল করে নেয় পুরো জেরুসালেম, দাবি করে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে। দখলের পর থেকেই ইসরাইলি বাহিনী আল আকসায় বিভিন্ন সময় প্রবেশ করছে জোরপূর্বক। যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই দখলকে বৈধতা দেয়নি। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব সম্প্রদায়ের মতকে উপেক্ষা করে জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে ১শরও বেশি বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে স্থাপিত প্রায় ১৪০টি বসতিতে ৬ লাখেরও ইসরায়েলি বসবাস করে। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এ বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও ইসরায়েল তা মানতে চায় না।

আরো সংবাদ