তুরস্ক

ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ : এরদোগানের পাল্টা হুশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। যুক্তরাষ্ট্রের এক তরফা সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেছেন, এতে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তাদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা জনিত ক্ষতি হবে এমন খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা এক কলামে এরদোগান এ বিষয়ে তার দেশের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে এসব কথা বলেছেন।

এরদোগান লিখেছেন, ‘এমন একটি সময়ে যখন শত্রু দেশগুলো ওৎপেতে আছে সেই মূহুর্তে তুরস্কের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এক তরফা সিদ্ধান্ত
নিয়েছে। যারা দশকের পর দশক ধরে আমাদের মিত্র। এই পদক্ষেপে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হবে’।

এর আগের দিন তুরস্ক থেকে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।  এরদোগান যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানান, এই ভুল সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার। তিনি বলেন, এই অপ্রতিসম সিদ্ধান্ত কোন সুফল বয়ে আনবে না। তুরস্কের জন্য অবশ্যই এরচেয়ে ভালো বিকল্প আছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ছয় দশক ধরে ন্যাটো জোটের দুই সদস্য রাষ্ট্র পরস্পরের মিত্র হিসেবে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। স্নায়ুযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে এক সাথে লড়াই করেছে।

আরো পড়ুন : এবার তুরস্কের বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধ ট্রাম্পের

চীনের পর এবার তুরস্কের বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধে নামতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউজ ঘোষণা করেছে, তুরস্ক থেকে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে নতুন করে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে নতুন এই শুল্ক। এর ফলে ন্যাটো মিত্র তুরস্কের সাথে নতুন করে বিরোধী জড়িয়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র।

এই আইন কার্যকর হলে নতুন চ্যালেঞ্জে পড়বে তুরস্কের রজব তাইয়েব এরদোগান সরকার। এমনিতেই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির অর্থনীতি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে তুর্কি মুদ্র লিরার মান কমছে ক্রমশ। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জিতলেও এটি তার সরকারের জন্য উদ্বেগের বিষয়।


যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঘোষণা আসতে পারে সেটি জানাই ছিলো। হোয়াইট হাউজ শুল্ক আরোপের আগে বিষয়টি টুইটারে জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছে, তুরস্কের সাথে আমাদের সম্পর্ক ভালো নয়। দেশটি থেকে আমদানিকৃত অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২০ শতাংশ ও স্টিলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আইনে স্বাক্ষর করেছি।

এই টুইটের পরই গত কয়েকদিনে ডলারের বিপরীতে তুর্কি মুদ্রার মান কমেছে কয়েক দফা। সব মিলে চলতি বছরের শুরু থেকে তুর্কি লিরা ডলারের বিপরীতে ৩০ শতাংশ মান হারিয়েছে। ফলে এরদোগান আবারো তুর্কি নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছেন, স্বর্ণ ও ডলারের বদলে লিরা সংরক্ষণ করতে। শুক্রবার এরদোগান, বলেছেন, অর্থনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে জাতীয় যুদ্ধ শুরু হয়েছে। কৃষ্ণ সাগর পাড়ের শহর রাইজে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ডলার কখনোই আমাদের অগ্রযাত্রা রুখতে পারবে না। তাই আমি আবারো বলছি, আপনাদের যাদের কাছে ডলার ও স্বর্ণ মজুদ আছে, ব্যাংকে গিয়ে সেগুলোর বিনিময়ে লিরা সংগ্রহ করুন।

এরদোগান বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এগুলো নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের যেমন ডলার আছে, আমাদের আছে আল্লাহ ও আমাদের জনগন। আমরা প্রতিদিন উন্নতি করছি। গতকালকের চেয়ে আজ ভালো আছি, আগামীকাল আরো ভালো থাকবো।

যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশ থেকে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানি করে, তুরস্ক তার মধ্যে উপরের দিকে। ২০১৭ সালে দেশটি থেকে একশো কোটি ডলারের বেশি স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক শুল্ক বৃদ্ধির ঘটনাকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতি বহির্ভূত বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তুরস্ক। আল জাজিরা ও আনাদোলু

আরো সংবাদ