খেলা

রান তাড়া করতে নেমে বিপাকে ভারত

বার্মিংহামে ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজের প্রথম টেস্ট ক্ষণে ক্ষণে রং বদলাচ্ছে। তৃতীয় দিন ইংল্যান্ডকে অলআউট করে নিজেদের ‍নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছে ভারত। তাদের সামনে ১৯৪ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে ইংল্যান্ড। কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে দলীয় ২২ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলেছে ভারত।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ১৩ রানের লিড পাওয়া ইংল্যান্ড দ্বিতীয় দিন বিকেলে ভারতকে ২৭৪ রানে অলআউট করে দিয়ে নিজেরা ব্যাটিংয়ে নেমে এক উইকেট হারিয়ে ৯ রান তোলে। রানে খাতা খোলার আগেই বোল্ড আউট হয়ে ফিরে যান ওপেনার অ্যালিস্টার কুক। তৃতীয় দিন সকালে ব্যাট করতে নেমে যথাক্রমে দলীয় ১৮ ও ৩৯ রানে দুটো উইকেট হারায়। কিটন জেনিংস ও ওপেনার জো রুটকেও তুলে নেন অশ্বিন।


চতুর্থ উইকেটে মালান ও বেয়ারেস্টো বিপর্যয় সামলে হাল ধরার চেষ্টা করেও সফল হননি। এবার আঘাত হানেন পেসার ইশান্ত শর্মা। দলীয় ৭০ রানের সময় তুলে নেন ডেভিড মালানকে(২০)। এরপর মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগে দলীয় ৮৫ ও ৮৬ রানের মাথায় পরপর জনি বেয়ারেস্টো ও বেন স্টোকসকে তুলে নিয়ে ধসিয়ে দেন ইংলিশ ব্যাটিংলাইন।

৬ উইকেটে ৮৬ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে স্বাগতিকরা। লাঞ্চের পর মাঠে নেমেই এক রানের মধ্যে আরো একটি উইকেট হারায় তারা। কিন্তু এরপর স্যাম কারেনের ৬৩ রানের ইনিংসে প্রতিরোধ করে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে তারা অলআউট হয় ১৮০ রানে। ইশান্ত শর্মা ৫টি ও রবিচন্দন অশ্বিন ৩টি উইকেট নেন। ভারতের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাড়ায় ১৯৪।

কিন্তু জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে স্টুয়ার্ড ব্রডের জোড়া আঘাতে থমকে দাড়ায় ভারতের ইনিংস। দলীয় ১৯ ও ২২ রানের মাথায় পরপর মুরালি বিজয় ও শেখর ধাওয়ানকে তুলে নেন ব্রড। এখন ক্রিজে আছেন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুল।

স্কোর : ইংল্যান্ড ২৮৭ ও ১৮০

পূর্বেকার খবর : সেঞ্চুরি করে ভারতের মান বাঁচালেন কোহলি
ভারতের ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে উজ্জ্বল শুধু ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলি। হতে পারে দু’বার জীবন পেয়েছেন তিনি। তবে ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের সামনে বুক চিতিয়ে লড়ে কোহলি যে সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন, সেটাই ভারতীয় ক্রিকেট দলকে প্রথম ইনিংসে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। তার ১৪৯ রানে ভর করে ভারতীয় দলের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৭৪ রানে। মাত্র ১৪ রানের জন্য লিড নিতে পারেনি কোহলি ব্রিগেড।

শেষ দু’টি ইংল্যান্ড সফরে ভারতের পারফরম্যান্স ছিল খুবই জঘন্য। ২০১১ সালে ইংল্যান্ড হোয়াইটওয়াশ করেছিল ‘টিম ইন্ডিয়া’কে। ২০১৪ সালে ভারত হেরেছিল ১-৩ ব্যবধানে। সেবার বিরাট কোহলি দশটি ইনিংসে করেছিলেন মোট ১৩৪ রান। তা নিয়ে কম সমালোচনা সহ্য করতে হয়নি কোহলিকে। ইংলিশ মিডিয়া সিরিজ শুরু হওয়ার আগে বার বার পুরানো পরিসংখ্যান তুলে ধরে কোহলিকে খোঁচা দিচ্ছিলেন। তার যোগ্য জবাব দিলেন ভারত অধিনায়ক। ‘শাপমোচনের’ সিরিজে প্রথম ইনিংসেই ২২টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ১৪৯ রান করে প্রত্যাশা আরো বাড়িয়ে দিলেন ভিকে।


কোহলি নিজেও হয়তো আশা করেননি শতরান করে সাজঘরে ফিরবেন। ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ইশান্ত শর্মা যখন ব্যাট করতে নেমেছিলেন, তখন কোহলি ৬৭ রানে ক্রিজে ছিলেন। আর ইশান্ত (৫) যখন আউট হন তখন তিনি ছিলেন ৯৭ নট আউট। আদিল রশিদের শেষ দু’টি বল কোনোরকমে সামলে নেন উমেশ। পরের ওভারে বেন স্টোকসের পর পর চারটি বলে কোনো রান নেননি কোহলি। শিকারি বাঘের মতো সহজ ডেলিভারির সুযোগ খুঁজছিলেন তিনি। পঞ্চম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরেই বাঘের মতো গর্জে ওঠেন বিরাট। হেলমেট খুলে ফেলেন তিনি। ব্যাট নামিয়ে রাখেন মাটিতে। জার্সির ভিতর থেকে বাগদানের আঙটি বের করে তৃপ্তির চুম্বনে ভরিয়ে দেন ক্যাপ্টেন কোহলি।

টেস্টে এটি বিরাটের ২২তম সেঞ্চুরি। ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদবের মতো টেল এন্ডারদের নিয়ে তিনি যেভাবে দলকে বিপদের মুখে থেকে টেনে তুলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন, তা সত্যিই কুর্নিশ করার মতো। বীরত্বের এই লড়াই সহজে বৃথা যাওয়ার নয়। সর্বকালের সেরা টেস্ট ইনিংসগুলোর তালিকায় এজবাস্টনে কোহলির এই ইনিংসটা নিশ্চয়ই জায়গা করে নেবে।

দিনের শুরুটা ভালোই করেছিল ‘টিম ইন্ডিয়া’। দ্বিতীয় ওভারেই সাম কুরানকে (২৪) ফেরান সামি। ২৮৭ রানেই শেষ হয় ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে। জবাবে ভারতের দুই ওপেনার মুরলী বিজয় ও শিখর ধাওয়ান প্রারম্ভিক পর্বে যেভাবে ব্যাট করছিলেন, তা দেখে অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন প্রথম ইনিংসে লিড পেয়ে যাবে কোহলি বাহিনী। ৭০ বলে ৫০ রান যোগ করেন বিজয়-ধাওয়ান। তার পরেই ম্যাচের মোড় ঘোরে। অ্যান্ডারসন ও ব্রড নতুন বলে উইকেট না পাওয়ায় ২০ বছর বয়সী সাম কুরানকে আনেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট। ১৪তম ওভারে কুরানের বলে লেগ বিফোর হয়ে মাঠ ছাড়েন মুরলী বিজয় (২০)। তবে আম্পায়ার আলিম দার প্রথমে আউট দেননি। রিভিউ থেকে সাফল্য পায় ইংল্যান্ড। প্রস্তুতি ম্যাচের সাফল্য লোকেশ রাহুলকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই কারণেই চেতেশ্বর পূজারার মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানকে বসিয়ে তাঁকে খেলানোর সাহস দেখিয়েছিলেন কোচ রবি শাস্ত্রী। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার মর্যাদা দিতে পারেননি রাহুল। ১৪তম ওভারের শেষ ডেলিভারিতে কুরানই ছিটকে দেন রাহুলের স্টাম্প (৪)। এরপর ১৬তম ওভারের পঞ্চম ডেলিভারিতে কুরানের তৃতীয় শিকার ধাওয়ান। দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ধাওয়ান (২৬) মাঠ ছাড়েন। বিনা উইকেটে ৫০ থেকে আচমকাই ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৫৯।

দারুণভাবে লড়াইয়ে ফিরে আসে ইংল্যান্ড। অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন এজবাস্টন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বিরাট কোহলির সঙ্গে জেমস অ্যান্ডারসনের ডুয়েলটা দারুণ জমবে। জিমি না পারলে আছেন স্টুয়ার্ট ব্রড। যিনি আগাম হুংকার দিয়ে রেখেছেন ভারত অধিনায়ককে। কিন্তু হল তার উলটো। জেম অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রডদের ছাপিয়ে গেলেন ইংল্যান্ডের তরুণ পেসার সাম কুরান। ছোট-খাটো চেহেরার কুরানকে দেখলে মনেই হবে না এই মুহূর্তে তিনিই বিশ্বের অন্যতম সেরা উঠতি প্রতিভাবান বাঁ-হাতি পেসার।

ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা কখনো বড় পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে পারেননি। কোহলির সঙ্গে জুটি বেঁধে অজিঙ্কা রাহানে চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ৪১ রান। কিন্তু রাহানে সেট হয়ে গিয়েও বিশ্রী আউট হন। ভালো ব্যাট করছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। তিনি ৪৮ রান যোগ করেন কোহলির সঙ্গে। কিন্তু হার্দিককে (২২) আউট করেন কুরান। তবে খাতা খুলতে ব্যর্থ দীনেশ কার্তিক। টেল এন্ডাররা যদি হাল না ধরতেন তাহলে বড় রানের লিড পেয়ে যেত ইংল্যান্ড। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই রুটদের বাড়া ভাতে ছাই ফেলে দেয়। কোহলিকে দারুণ সাহায্য করেছেন উমেশ যাদবও (১৬ বলে অপরাজিত ১)। শুরুটা ভালো না হলেও অ্যান্ডারসন পরের দিকে দু’টি উইকেট নেন। সাম কুরানের ঝুলিতে গিয়েছে চারটি উইকেট।

ভারত ২৭৪ ও ৩৯/২

আরো সংবাদ