রাজনীতি

আলোচনায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসা

কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আবারো অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে সাক্ষাৎ করে এই অনুরোধ জানান।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কক্ষে বিকেল ৩টা থেকে ৩টা ৫০মিনিট পর্যন্ত এই বৈঠক চলে। বৈঠকের এক পর্যায়ে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনও মন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করেন। মির্জা ফখরুলের সাথে বৈঠকে প্রতিনিধিদলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান ছিলেন। 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী। জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলার শুনানি শেষ করতে সরকার কারাগারের ভেতরেই আদালত বসিয়ে তার বিচারের ব্যবস্থা করেছে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে এর আগে গত ২৭ মার্চ ও ২৩ এপ্রিল দুই দফা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন বিএনপি নেতারা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের চেয়ারপারসন এখন কারারুদ্ধ। তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। সেই বিষয়টি নিয়ে আমরা তার কাছে এসেছিলাম। ইতোপূর্বেও আমাদের একটি প্রতিনিধিদল এসেছিল। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, তাকে যেন একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। ইউনাইটেড হাসপাতাল, যেটা তিনি পছন্দ করেন, সেটা যেন ইউনাইটেড হাসপাতাল হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জানিয়ে ফখরুল বলেন, তিনি বলেছেন, যারা দায়িত্বে আছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইজি প্রিজনসসহ অন্যদের সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরো বলেছেন যে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যারা আছেন, তাদের পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

সেক্ষেত্রে কবে নাগাদ ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে, সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সেটা সুনির্দিষ্টভাবে উনি কিছু বলেননি। তবে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে আজকেই ওই সভাটা করবেন।
এর আগে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছিল সরকার। কিন্তু পরীক্ষা করে সেই মেডিক্যাল বোর্ড বলেছিল, বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতা গুরুতর নয়। মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকদের পরামর্শে এক্সরে করাতে গত ১৪ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বপ্রন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। তবে সরকারের গঠিত ওই মেডিক্যাল বোর্ড নিয়ে বিএনপির অনাস্থা রয়েছে।

এ বিষয়ে পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির প্রতিনিধিদল এসেছিল। তাদের চেয়ারপারসন অসুস্থ। তারা আগের মতো এবারো ইউনাইটেড হাসপাতালে তাকে ভর্তির কথা বলেছেন। এবার তারা নতুন করে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়ার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কারা মহাপরিদর্শককে (আইজি প্রিজন) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসকদের নিয়ে বোর্ড গঠন করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সর্বশেষ গত ৬ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার ‘অসুস্থতার’ কথা তুলে ধরে তার সুচিকিৎসার দাবি জানাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন বিএনপি।

আরো পড়ুন :

জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত ২০ দলের
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত রাতে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়কারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগেও বলে গেছেন যে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দেশের সব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তির বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আমরা সেই ঐক্য গড়ে তোলার কাজ করছি।

২০ দল এ উদ্যোগকে শুধু সমর্থনই করে না, এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 
নজরুল ইসলাম খান বলেন, সভা থেকে জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দীদের মুক্তি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ইভিএম ব্যবহার না করা, নির্বাচনের সময়ে সশস্ত্রবাহিনী নিয়োগ, তারেক রহমানসহ মিথ্যা মামলায় আটক রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে ন্যূনতম দাবিতে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় দেশের সব গণতন্ত্রকামী দল, সংগঠন ও ব্যক্তির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। 

জোটের সভায় বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়। একই সাথে মূল মামলায় জামিন পাওয়ার পরও নানা কৌশলে খালেদা জিয়াকে আটকিয়ে রাখা ও কারাগারের অভ্যন্তরে আদালত স্থাপনের নিন্দা জানিয়ে ২০ দল বলেছে, এটি সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক তৎপরতার বহিঃপ্রকাশ। 

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের এই সভা হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে জোটের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক আবদুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের এম এ রকীব, খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মূর্তজা, লেবার পার্টির ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এমদাদুল হক চৌধুরী, জাগপার তাসমিয়া প্রধান, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, মুসলিম লীগের এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম চৌধুরী, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামীর দুই অংশের মাওলানা নুর হোসেন কাশেমী ও মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম উপস্থিত ছিলেন।

আরো সংবাদ