সংসদ

দেশে এক লাখের বিপরীতে চিকিৎসক মাত্র ২৮ হাজার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সংসদকে জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত কতজন রোগী বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে ও কত টাকা ব্যয় হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান আপাতত দেয়া সম্ভব নয়। নীতিমালা প্রণয়নের পর এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য দেয়া সম্ভব হবে। বাংলাদেশের রোগীদের বিদেশ গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সদস্য ডা. মো. এনামুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনপস্থিতিতে তার পক্ষে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক সংসদে এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, প্রতি বছর আমাদের দেশ থেকে চিকিৎসার জন্য কিছু সংখ্যক রোগী বিদেশে যায়। তবে, মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মূলত চারটি রোগের চিকিৎসা গ্রহণের জন্য তারা বিদেশে যান। কারণ সমূহ হচ্ছে, আর্থিক স্বচ্ছলতা, বিদেশে চিকিৎসা প্রীতি, হেলথ ট্যুরিজম ও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসা স্বল্পতা। তবে এ প্রবণতা কমিয়ে আনতে দেশে সব মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালগুলোকে আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা সুসজ্জিত করণের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া বেসরকারি পর্যায়েও রয়েছে আন্তর্জাতিমানের বেশ কিছু আধুনিক হাসপাতাল যেখানে অন্য দেশ থেকে এসে রোগীরা চিকিৎসা গ্রহণ করার বহু নজির আছে।

দেশে এক লাখের বিপরীতে চিকিৎসক মাত্র ২৮ হাজার
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান ও মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের পৃথক দুটি প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেছেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদন্ড অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে এই মুহূর্তে ১ লাখ চিকিৎসকের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বর্তমানে দেশে সরকার নিবন্ধিত চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ২৮ হাজার। সরকার অচিরেই আরো ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে। তিনি বলেন, চিকিৎসক নিয়োগে সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে এ সঙ্কট কেটে যাবে। তবে এটা দ্রুতই সমাধান করা যাবে না। আমাদের মেডিকেল কলেজ থেকে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী বের হয়। তাই চাইলেই আজকে সব সমাধান করা সম্ভব না।
ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের বিরুদ্ধে তেমন একটি অভিযোগ নেই জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ঔষধ প্রশাসন ভালো কাজ করছে। তাছাড়া আমাদের ফার্মাসিটিউক্যাল কোম্পানি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশে এখন ২৮ ধরনের ওষুধ তৈরি হচ্ছে। আমরা ইউরোপ আমেরিকাসহ প্রায় ১৫০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছি। তিনি বলেন, ঔষধ প্রশাসনের তৎপরতার কারণে নকল ওষুধ ধরতে সক্ষম হচ্ছি। এরই মধ্যে আমরা খারাপ বা ভেজাল ওষুধ উৎপাদন করায় ৩০টা কোম্পানি বন্ধ করে দিয়েছি। যদিও উচ্চ আদালতের আদেশ নিয়ে কিছু কোম্পানি আবার উৎপাদন শুরু করেছে। তবে এই বিষয়ে আমরা উৎসাহ দিচ্ছি না।
প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে জেলা স্বাস্থ্যকর্মকর্তার গাড়ির চাইতে অ্যাম্বুলেন্স বেশি প্রয়োজন। যে কারণে এই কয়েক বছরে ৪০০টি অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়েছে। আর গাড়ি কেনা হয়েছে মাত্র ৫০টি। যে কারণে সব জায়গায় গাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

আরো সংবাদ