অন্যান্য

পর্যটকদের গাড়িতে লাফিয়ে উঠলো সিংহ! (ভিডিও)

সাফারি পার্কের ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছিল পর্যটকদের গাড়িটি। হাতে ক্যামেরা নিয়ে চারদিক ভিডিও করছিলেন পর্যটকরা। হঠাৎ পাশ থেকে গাড়িতে লাফিয়ে উঠলো এক সিংহ!

এইটুকু পড়েই ভয়ে আত্মা শুকিয়ে যাচ্ছে আপনার?

না, ভয়ের কিছু নেই। কারণ সাফারি পার্কের এ সিংহটি মোটেও ভয়ঙ্কর নয়। বরং বন্ধু সুলভ। সে পর্যটকদের সাথে এমন খেলায় মাতলো যে, ভ্যান থেকে নামতেই চাইলো না।

পাশে দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনারই ভিডিও করেন আর এক মহিলা। ঘটনাটি ক্রিমিয়ার ভিলনোহার্সকে তাইগান সাফারি পার্কের।

ভ্যানে ঢুকেই ড্রাইভারের পাশে গেষতে থাকে সিংহটি

 

সম্প্রতি এই পার্কে কয়েকজন পর্যটক ঘুরতে আসেন। সেখানে একটি খোলা সাফারি ভ্যান ভাড়া করেন তারা। এই ভ্যানে করেই ঘুরে দেখতে থাকেন গোটা পার্ক। হঠাৎই তাঁদের গাড়িতে লাফিয়ে উঠে ফিলিয়া নামের ওই সিংহ। তবে ভয় না পেয়ে পর্যটকরা সিংহটির সাথে খেলায় মেতে উঠে।

ভ্যানের ড্রাইভার কয়েকবারই সিংহটিকে নামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সে নেমে আবার পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। পর্যটকদের চেটে-পুটে আদর করে দেয়।

ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই হতবাক সবাই! তবে ভয় ও আনন্দের এ ভিডিওটি মানুষ খুব পছন্দ করেছেন। ফলে ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে।

দেখুন সেই ভিডিও-

 

আরো পড়ুন : সন্তানকে বাঁচাতে বন্য কুকুরদের সাথে একাই লড়াই করলো মা সিংহ

ডেইলি মেইল

মা, সন্তানের জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত দিতে পারেন। পাশাপাশি সন্তানকে বাঁচাতে লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। তেমনটাই করলো এক সাহসী মা সিংহ। সন্তানদের বাঁচাতে একাই যুদ্ধ চালিয়ে গেল সে।

হ্যাঁ, যুদ্ধই বলা চলে। যেভাবে বন্য কুকুরদের দলের সাথে লড়াই করেছে সে, তাতে হতভম্ব না হয়ে পারা যায় না।

ঘটনাটি ঘটেছে আফ্রিকার বতসোয়ানার মোরেমি গেম রিজার্ভে। অন্য দিনের মতো সেখানে গাড়ি নিয়ে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছিরেন শালিন ফারনান্দো। হঠাৎ তিনি দেখতে পান, এক মা সিংহকে ঘিরে আছে এক দল বন্য কুকুর। তাদের চোখ সিংহীর সন্তানদের ওপর। লোলুপ দৃষ্টি সিংহ শাবকদের ছিড়ে কুড়ে খাওয়ার।

কিন্তু সেই দৃষ্টি মা সিংহীকে দুবর্ল নয়, বরঞ্চ সাহস বাড়িয়ে দেয়। সন্তানদের বাঁচাতে সর্বশক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। ধীরে ধীরে বন্য কুকুরগুলো মা সিংহকে ঘিরে ধরে। তেড়ে যায় সিংহী। যুদ্ধের মাঠে তাণ্ডব চালায় একাই। ঘুরে ঘুরে বন্য কুকুরদের শায়েস্তা করতে থাকে। ততক্ষণে সিংহ শাবক দেয় ছুট। আর মা একাই লড়াই চালিয়ে যায়।

এক পর্যায়ে কামড় বসায় এক কুকুরের ঘাড়ে। আছড়ে পাছড়ে নিস্তেজ করে ছাড়ে। তখনো বাকি কুকুরগুলো ঘিরে আছে, একের পর আক্রমণ করছে। কিন্তু সিংহী তাতেও দমে যাচ্ছে না। যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করেই যাচ্ছে।

এভাবে প্রায় আধা ঘণ্টা চলে যুদ্ধ। ফারনান্দো পুরো ঘটনার সাক্ষী ছিলেন।

তার ভাষ্য, 'আমি পুরো ঘটনা দেখে যার পর নাই আশ্চর্য হয়েছি। কিভাবে মা সিংহ একাই লড়াই করে যাচ্ছে।'

তবে দুঃখের কথা হলো, বন্য কুকুরদের হাত থেকে সব সন্তানদের বাঁচাতে পারেনি মা। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছে।

ফারনান্দো জানান, এই ঘটনার পরদিন বেঁচে যাওয়া সিংহ শাবকটিকে শিকার করতে ঘুর ঘুর করছিল লড়াইয়ে আহত বন্য কুকুরের দল।

 

আরো পড়ুন : রাজ্য হারিয়ে নিঃসঙ্গ এক সিংহ...

মানুষ নয়, ক্ষমতা হারালে সমাজ বিচ্ছিন করে পশুদেরও। এমনই করুণ পরিণতি হয়েছে আফ্রিকার বনের রাজার। বিশালদেহী সেই সিংহ পরিচিত স্কাইবেড স্কার নামে। এতদিন আফ্রিকার কুরগের ন্যাশনাল পার্কে রাজার জীবন কাটিয়েছে সে। কিন্তু বয়সের ভারে তার ক্ষমতা কমেছে অনেকটাই। এখন আর শিকার ধরার ক্ষমতা নেই। সিংহ সমাজেও তার আর স্থান নেই তেমন। রাজার মসনদ থেকেও তাকে সরিয়ে দিয়েছে জোয়ানরা।

এখন আর তার খাবার জোগাড়ের সামর্থ নেই। পরিবারও দেখছে না তাকে। তাই এখন খাবার, নিরাপত্তার অভাবে একাকীত্বে দিন কাটছে সিংহটির। মৃত্যুকে যেন সামনে থেকে দেখতে পাচ্ছে সে। কিন্তু উপায়ও তো নেই। এভাবে শুকিয়ে মরা ছাড়া, আর কোনো রাস্তায় খোলা নেই একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ বনের রাজার।

এ ছবিটি প্রকাশ করেছে ক্যাটার্স নিউজ এজেন্সি। ছবিটি তুলেছেন ল্যারি প্যানেল নামে এক চিত্রগ্রাহক।

ইতোমধ্যে সেই ছবি আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে এই মরনাপন্ন সিংহের ছবিটি।

আরো সংবাদ