ময়মনসিংহ

আন্দোলন করেই অধিকার আদায় করতে হবে : অ্যাড. মামুন

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ময়মনসিংহ বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ্ মো: ওয়ারেছ আলী মামুন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া আজ জেলখানায় অন্তরীণ, গণতন্ত্র অবরুদ্ধ, শাসন ব্যবস্থা বিপন্ন, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন ও স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেছে- এমনি একটি অবস্থায় আগামী দিনে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়েই আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করতে হবে। এই সরকারের কাছে আবেদন করে কোন লাভ হবে না। সংগ্রাম করেই আমাদের অধিকার আদায় করতে হবে। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের শপথ গ্রহণ করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির প্রয়োজনে এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আগামী দিনে আন্দোলন সংগ্রাম করেই স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো- ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জামালপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে শনিবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গণসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ইভিএম সম্পর্কে অ্যাডভোকেট শাহ্ মো: ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া সমস্ত রাজনৈতিক দল ইভিএম-এর বিপক্ষে। দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ ইভিএমের বিপক্ষে সেখানে কি কারণে ইভিএম পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তা প্রশ্নবিদ্ধ। এরপরও যদি ইভিএম ক্রয় করা হয় তবে তা ভোট কেন্দ্রে আনার আগেই জ¦ালিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খার করে দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, আজকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যে দল। তারা দাবি করে গণ মানুষের দল। আমরা বলতে চাই- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন আগে প্রতিষ্ঠা হলেও যুগের পরিক্রমায় বিভিন্ন সময়ে ওই ক্ষমতার মছনতের লোভে তারা স্বৈরতান্ত্রিক পদ বেছে নিয়েছে। যে কারণে আজকের সেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বৈরাচারের যুগের শ্রেষ্ঠ স্বৈরাচারের দলে পরিণত হয়েছে।

এদিকে ওই গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক শোডাউন করেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিসহ বিভিন্ন শ্লোগানে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগদান করেছেন হাজার হাজার নেতাকর্মী।

এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন, শহিদুল হক খান দুলাল, আনিছুর রহমান বিপ্লব, লিয়াকত আলী, লোকমান আহম্মেদ খান লোটন, সফিউর রহমান শফি, আহছানুজ্জামান রুমেল, মাইন উদ্দিন বাবুল, অ্যাডভোকেট নওয়াব আলী, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মশিউর রহমান, জেলা যুবদলের সভাপতি ফিরোজ মিয়া, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সজীব খান, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি শেখ আব্দুস সোবহান, জেলা কৃষকদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানা, জেলা মহিলাদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদিকা সাইদা বেগম শ্যামা প্রমুখ।

এদিকে একই সময়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে শহরের হুমায়রা কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং সমাবেশ করেছে নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহাম্মেদের সভাপতিত্বে ও জেলা জাসাসের সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলামের সঞ্চালনায় এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা সালেহ মাহমুদ, সৈয়দ হাবিবুর রশিদ, বিষ্ণ চন্দ্র মন্ডল, আব্দুস সালাম আজাদ, মাহবুবুর রহমান জিলানী, ফজলুর রহমান, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মীর এমরুল হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওমরুজ্জামান দর্শন চৌধুরী প্রমুখ।

এছাড়াও রাত সাড়ে ৭টার দিকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে শহরের স্টেশন রোডস্থ বিএনপি কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করেছে নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ভোলা মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হক। এ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা এনএন তাপস পাঠান, মোস্তাফিজুর রহমান আরমান, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মীর এমরুল হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশারফ সিদ্দিকী প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়েছে।

আরো সংবাদ