বিবিধ

শিল্পী ন্যান্সিকে গ্রেফতার করতে মানববন্ধন

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি ও তার স্বামী নাজিমুজ্জামান জায়েদকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবিতে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করা হয়েছে। কলেজের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সামিউন্নাহার শানুর ওপর নির্যাতনের বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন সহপাঠীরা।

শানুর ওপর নির্যাতনের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলার হুকুমের আসামি হলেন সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি ও তার স্বামী নাজিমুজ্জামান জায়েদ। ওই মামলার পর গত ৭ সেপ্টেম্বর শানুর স্বামী ন্যান্সির ছোট ভাই শাহরিয়ার আমান সানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু এখন পর্যন্ত মামলার অপর দুই আসামি ন্যান্সি ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

শানুর ওপর অমানুষিক অত্যাচার ও নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আজ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নেত্রকোনা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন সরকার অপু, সহসভাপতি খালিদ সাইফুল্লাহ সাদী বাবু, শানুর সহপাঠী তাসরুবা ইয়াসমিন শম্পা, লাবনী আক্তার ঐশী, আনিকা তাবাসসুম অমি, জেলা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক আলী আযহার বিপু, মীর ছুটন প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শানুর দায়ের করা মামলায় তার স্বামী সানি গ্রেপ্তার হলেও অত্যাচার-নির্যাতনের উসকানিদাতা তাঁর বড় বোন কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি ও ন্যান্সির জামাই জায়েদকে এখন পর্যন্ত পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি। তারা অবিলম্বে ওই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

এর আগে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন খান সাংবাদিকদের জানান, শাহরিয়ার আমান সানির স্ত্রী সামিউন্নাহার শানু গত ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে যৌতুকের জন্য তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় সানির বোন ন্যান্সি ও তার স্বামী নাজিমুজ্জামান জায়েদকে নির্যাতনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর পূর্বধলা রোডের সাতপাই এলাকায় ন্যান্সির বাসায় অভিযান চালিয়ে সানিকে গ্রেপ্তার করে। ওই মামলায় ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে সানিকে আদালতে হাজির করলে আদালত তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বাদী নেত্রকোনা পৌর শহরের সাতপাই নদীরপাড় এলাকার সুলতান মিয়ার মেয়ে ও চার মাসের কন্যাশিশুর মা সামিউন্নাহার শানু বলেন, ‘২০১৫ সালে নেত্রকোনা সরকারি কলেজে লেখাপড়া করার সময়ে সানির সঙ্গে আমার হৃদয়ঘটিত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় পারিবারিকভাবেই সানির সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সানি বেকারত্ব দেখিয়ে বোন ন্যান্সি ও বোন জামাই জায়েদের সহায়তায় ও উসকানিতে বিভিন্ন সময় আমার পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র যৌতুক হিসেবে দাবি করে এনে দিতে বাধ্য করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬  আগস্ট রাতে আমার পরিবারের কাছ থেকে নতুন করে আরো পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার কথা বলেন। আমি বাবার বাড়ি থেকে টাকাপয়সা এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, সানি ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েকে দুধ পান করানো অবস্থায় লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে দেয়। আমাকে অমানুষিক অত্যাচার-নির্যাতন ও মারধর করে একপর্যায়ে শ্বাসরোধ হরে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় আমার চিৎকারে পাশের ঘরে থাকা সানির বন্ধুরা আমাকে উদ্ধার করে।

বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিক আমার পরিবারের লোকজনকে জানালে তারা পুলিশের সহায়তায় আমাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। পুলিশের সহায়তায় পরিবারের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় সানি আমাকে তালাক দেওয়ারও হুমকি দেয়। আমি পাষণ্ড স্বামী সানির যৌতুকের দাবি ও অত্যাচার নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে নিরুপায় হয়ে মামলাটি দায়ের করেছি’ বলে মন্তব্য করেন শানু।

মামলাটি বানোয়াট দাবি করে ন্যান্সি বলেন, ‘এই মামলা বানোয়াট। আমার ছোট ভাই সানি গত ২৭ আগস্ট শানুকে ডিভোর্স দিয়েছে। শুনেছি তাদের এক বছরের মতো দূরত্ব ছিল। এই দূরত্ব কাটিয়ে ওঠার দায়িত্ব তাদের ছিল। আমি তো নেত্রকোনায় থাকি না। আমি ওই মেয়ের (শানুর) শাশুড়িও না। আমার সংসার আলাদা। এ ছাড়া আমার বড় ভাই ও বাবা দুজনই আলাদা আলাদা জায়গায় থাকেন। নেত্রকোনায় আমাদের বাড়িতে সানিই থাকত। ওর সংসার ছিল ওখানে।’

ন্যান্সি বলেন, মামলায় উল্লেখ আছে, আমি নাকি সানিকে তার স্ত্রীকে নির্যাতনের জন্য উসকানি দিয়েছি? এটা কী করে সম্ভব! আমি ঢাকা ও ময়মনসিংহে থাকি। গত মে মাসে আমার ওই মেয়ের (শানু) সঙ্গে দেখা হয়েছে। আমি তাদের সংসারে কেন উসকানি দেব? এখানে আমি একদম জড়িত নই। আমাকে ও আমার ভাইকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে।’

ন্যান্সি আরো বলেন, ‘আমার ভাই কিংবা আমি মামলার বিষয়ে কিছুই জানতাম না। সানির অনার্স পরীক্ষা ছিল ৮ সেপ্টেম্বর। পরীক্ষার আগে আমার সাথে দেখা করতে সে ৭ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে এসেছিল। আমার সাথেদেখা করে নেত্রকোনায় বাড়িতে ফেরার কিছুক্ষণ পরই পুলিশ সানিকে গ্রেপ্তার করে।’

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া শিল্পী ন্যান্সি বলেন, ‘ওই মেয়ে (শানু) যে অভিযোগগুলো করেছে সেগুলো সিনেমার গল্পের মতো। আমার ভাই যদি তাকে নির্যাতন করত তাহলে তখনই সে পদক্ষেপ নিত? এত দেরী করল কেন? আর বিচ্ছেদের পর এটা কেন করতে হলো? এর মানে বিচ্ছেদের পর এসব পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য আমাদের হয়রানি করা। আমি তো এখানে কোনোভাবেই জড়িত নই। আমার নামটা দিয়েছে যাতে মামলার বিষয়টা দ্রুত ছড়িয়ে যায়। কারণ আমাকে তো সবাই চিনে।’

দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের মধ্যে অন্যতম নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। ২০০৬ সালে ‘হৃদয়ের কথা’ ছবিতে গান গেয়ে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু হয় তাঁর। এরপর অসংখ্য গানে কণ্ঠ দিয়ে জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি পান তিনি। তাঁর গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানগুলো হলো ‘পাগল তোর জন্য রে’, ‘ভালোবাসি তোমায়’, ‘দ্বিধা’, ‘আকাশ হতে আমি চাই’, ‘শিশির ভেজা’ ইত্যাদি। ২০১১ সালে ‘প্রজাপতি’ ছবিতে গান গেয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

আরো সংবাদ