বিবিধ

চ্যালেঞ্জের মুখে মার্কিন ডলার!

একের পর এক চমক লাগানো ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববাণিজ্যব্যবস্থাকে অস্থির করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিযোগ উঠেছে, পুরো বিশ্ববাণিজ্যব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রমুখী করতে উঠেপড়ে লেগেছেন তিনি। একের পর এক হুমকি দিয়ে চলেছেন বিভিন্ন দেশকে। বাণিজ্যযুদ্ধে জড়াচ্ছেন ক্ষমতাধর বিভিন্ন দেশের সাথে। তারই অংশ হিসেবে হুমকি দিলেন বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়ার। কিন্তু হুমকিকে পরোয়া না করে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি চালু মার্কিন মুদ্রা ডলারকেই পাল্টা চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দুই মুসলিম দেশ ইরান ও ইরাক।

এই প্রথমবারেরর মতো বিনিময় মূল্যের তালিকা থেকে মার্কিন ডলারকে বাদ দিয়েই নিজেদের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইরাক। ব্যবসায় মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়াল, ইউরো ও ইরাকি দিনার ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন ইরান-ইরাক চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ইয়ায়া আলে-ইসহাক। পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে কিভাবে উভয় দেশ নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য অব্যাহত রাখবে তার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত শনিবার ইরানের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি আরো বলেন, ইরাক ও ইরানের ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যের আরেকটি ভিন্ন উপায় হিসেবে পণ্যের বদলে পণ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রেও ঐকমত্যে পৌঁছেন।

বাণিজ্যে বিনিময়মূল্য হিসেবে মার্কিন ডলার বাদ দিলে উভয় দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা কেমন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, উভয় দেশ প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাণিজ্য করবে। তবে এ অর্থের খুব কম অংশই ব্যাংকের মাধ্যমে বিনিময় হবে। নাজুক এ সময়ে ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাণিজ্য পরিচালনার জন্য ইরাক ও ইরানের ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়টি অগ্রাধিকারে রয়েছে বলেও জানান ইয়ায়া আলে-ইসহাক।

এ দিকে কয়েক মাসে ইরাকে নিজেদের সহযোগীদের কাছে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে ইরান। একই সাথে বিভিন্ন শিয়াগোষ্ঠীকে নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও সহায়তা করছে দেশটি। ইরানের ওপর সম্ভাব্য আক্রমণের একটি ব্যাকআপ পরিকল্পনা হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সাথে ইরানের স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির আওতায় ২০১৬ সালে দেশটির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক অবরোধ তুলে নেয়া হয়। কিন্তু গত মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সাথে যেসব কোম্পানি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন।

যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েছে উপসাগরীয় এ দেশটি, যা বেশ কিছু রাজনৈতিক সঙ্কটও সৃষ্টি করেছে। নতুন এ নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশী কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে দেশটি ছেড়ে যেতে শুরু করেছে এবং বড় আকারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন উপায় খুঁজে চলেছে রুহানির সরকার।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইরাকের সাহসী সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তারই ফলে ডব্লিউটিও থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করার হুমকি দেন তিনি। ব্লুমবার্গ নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাদে আর সবার সুবিধার জন্য ডব্লিউটিও গঠন করা হয়েছে। তিনি আরো দাবি করেন, সংস্থাটির সব মামলাতেই আমরা হেরে যাই। ট্রাম্পের মতে, সংস্থাটি প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডব্লিউটিওর বেশ কিছু সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিল বলে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাদি হিসেবে ডব্লিউটিওতে প্রায় ৯০ শতাংশ মামলাতেই জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্য দিকে বিবাদি হিসেবে সমান হারে পরাজয় লাভ করেছে দেশটি। যদিও চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কানাডা, মেক্সিকো ও তুরস্কের পাল্টা শুল্কারোপের মীমাংসায় ডব্লিউটিওর সহায়তা চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডব্লিউটিওর নিয়ম অনুসারে দেশগুলোর পদক্ষেপ অবৈধ হয় বলে যুক্তি দেখিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ডব্লিউটিও থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের হুমকি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতির সঙ্গে সংস্থাটির মুক্তবাণিজ্যব্যবস্থার সঙ্ঘাতকেই তুলে ধরেছে।

আরো পড়ুন :
গরিবের চামড়া হরিলুট
জিয়াউল হক মিজান
গরিব-মিসকিনের যক্ষের ধন কোরবানির এক কোটি পশুর চামড়া নিয়ে এবার হরিলুট হয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় ট্যানারি মালিকরা পানির দরে কিনে নিয়েছেন এসব চামড়া। তিন হাজার টাকার চামড়া থেকে গরিব-মিসকিনের ভাগ্যে জুটেছে ৩০০ টাকা। অসাধু ব্যবসায়ীদের তৎপরতায় মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানাগুলো বঞ্চিত হয়েছে তাদের পাওনা থেকে। ব্যবসায়ীদর দাবি, পরিস্থিতির শিকার হয়ে তারা চামড়ার উপযুক্ত দাম দিতে পারেননি। এ জন্য সরকার থেকে প্রয়োজনীয় ঋণের ব্যবস্থা না করা, সাভারের চামড়া শিল্পনগরী চালু করতে নজিরবিহীন বিলম্ব এবং ব্যবসায়িক মন্দাকে দায়ী করেন তারা।

ট্যানারি মালিকরা জানান, প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ঢাকা শহরে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় কেনার ঘোষণা দেন ট্যানারি মালিকরা। এ ছাড়া সারা দেশে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং প্রতি বর্গফুট বকরির চামড়ার দর ১৩ থেকে ১৫ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়। ট্যানারি মালিকরা ঢাকায় প্রতিটি বড় চামড়া (৩০ থেকে ৩৫ বর্গফুট) এক হাজার ৪০০ থেকে দেড় হাজার টাকায় কিনছেন। মাঝারি চামড়া (২০ থেকে ২৫ বর্গফুট) এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় ও ছোট চামড়া (১২ থেকে ১৮ বর্গফুট) ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় কিনছেন মালিকরা। ছাগলের চামড়াও নির্ধারিত দরেই কেনাবেচা হচ্ছে। যদিও কোরবানিদাতা এবং মাদরাসা ও এতিমখানার কাছ থেকে এবার কম দামেই চামড়া কিনেছিলেন আড়তদাররা।

উপেক্ষিত ট্যারিফ কমিশন
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যৌক্তিক দর নির্ধারণের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন এবার প্রস্তাব প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম গত বছরের চেয়ে পাঁচ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। সরকার উল্টো পাঁচ টাকা করে কমিয়ে দিয়েছে। এ বছর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ঢাকা শহরে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এ ছাড়া সারা দেশে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম হবে ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত বকরির চামড়ার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১৩ থেকে ১৫ টাকা। গত বছর প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারিত হয়েছিল সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা। একইভাবে কোরবানির খাসির চামড়ার দাম গত বছরের চেয়ে প্রতি বর্গফুটে কমেছে দুই টাকা করে। গত বছর এর দর ছিল ২০ থেকে ২২ টাকা। অন্য দিকে কোরবানির বকরির চামড়াতেও এবার প্রতি বর্গফুটে দুই টাকা করে দাম কমিয়েছে সরকার। গত বছর এই দাম ছিল ১৫ থেকে ১৭ টাকা।

ওদের কোনো প্লাটফর্ম নেই
চামড়ার দাম কমানোর সিদ্ধঅন্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রখ্যাত আলেম অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাঈল নয়া দিগন্তকে বলেন, মহান আল্লাহ পাক সামর্থ্যবান মানুষের ওপর কোরবানি ফরজ করেছেন। এর মাধ্যমে গরিব, ইয়াতিম মিসকিনদের স্বার্থটিও তিনি রক্ষা করেছেন। হাজার বছরের ঐতিহ্য অনুযায়ী আমরা কোরবানির পশুর চামড়া কিংবা চামড়া বিক্রয়লব্ধ টাকা গরিব-মিসকিনের মাঝে বিতরণ করি। দেশের লাখ লাখ মসজিদ, মক্তব, মাদরাসা, এতিমখানার আয়ের প্রধান উৎস এই কোরবানির চামড়ার বিক্রয়লব্ধ আয়। এসব অসহায় মানুষ সঙ্ঘবদ্ধ নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাদের পক্ষে কথা বলার মতো কোনো প্লাটফর্ম নেই। সরকারের সহযোগিতা নিয়ে ফড়িয়ারা নামমাত্র মূল্যে গরিবের সম্পদ নিয়ে যাচ্ছে। ধনীরা কোরবানি দিয়ে গোশত খাচ্ছেন আর গরিবের হক চামড়া বিক্রি করে দিচ্ছেন পানির দরে। এতে করে বঞ্চিত হচ্ছেন দেশের কয়েক কোটি ফকির-মিসকিন। এরা এমনিতেই দুর্বল, তাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে ধনীরা সম্পদের পাহাড় গড়ছেন আর দরিদ্ররা ক্রমেই গরিব হচ্ছে।

ট্যানারি মালিকদের ব্যাখ্যা
চামড়া শিল্পের বর্তমান দুরবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, গত বছর যেসব কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল তারা এখনো উৎপাদনে যেতে পারেনি। আর আস্থার সঙ্কটের কারণে দীর্ঘ দিনের বিদেশী ক্রেতারা অন্য দেশে চলে গেছেন। কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে যেসব ক্রেতা ফিরে গেছেন তাদের আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। চীন প্রচুর রফতানি আদেশ বাতিল করেছে। গত বছরের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ চামড়া মজুদ আছে। এ বছরও বিক্রির কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি বলেন, চামড়া শিল্পনগরী চালুর উপযুক্ত হওয়ার অনেক আগেই আমাদেরকে সেখানে ট্যানারি স্থানান্তরে বাধ্য করা হয়েছে। স্থানান্তরিত চামড়া শিল্পনগরীতে পরিবেশসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এখনো নিশ্চিত হয়নি। নগরীর এ অসম্পূর্ণতার কারণে বিদেশী ক্রেতা আকৃষ্ট হচ্ছে না।

সরকারি ব্যাখ্যা
গত বছরের চেয়ে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, মূলত দুটি কারণে এবার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমানো হয়েছে। প্রথম কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা ব্যাপক হারে কমেছে। দ্বিতীয়ত, সাভারে চামড়া শিল্পনগরী স্থাপিত হলেও এখন পর্যন্ত তা পরিপূর্ণভাবে কাজ শুরু করতে পারেনি। নানা ধরনের ত্রুটি রয়েছে সেখানে। যে কারণে সেখানে এখনো ঠিকভাবে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল বলেন, ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করার অর্থ জিম্মি হওয়া নয়। দেশের এই ব্যাপক উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের অবদান অনস্বীকার্য। আমরা ব্যবসায়ীদের বন্ধু। সবাই দেশকে ভালোবাসি। তাই ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতেই দর কম করে নির্ধারণ করে দিয়েছি।

সমস্যার মূলে চামড়া শিল্পনগরী
চামড়া সঙ্কটের মূলে রয়েছে সাভারের চামড়া শিল্পনগরী। মূলত লালবাগের অপরিকল্পিত ট্যানারিগুলোকে স্বাস্থ্যসম্মত স্থানে স্থানান্তরের জন্যই এ উদ্যোগ। কিন্তু সময়ের কাজ সময়ে না হওয়ায় সৃষ্টি হয় বিপত্তি। প্রকল্পটি নেয়া হয় ২০০৩ সালে। তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০০৫ সালে। অনুমোদিত বরাদ্দ ছিল ১৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বাড়তে বাড়তে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকায়। ব্যয় বেড়েছে ৯০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। তিন বছরের প্রকল্প গড়িয়েছে ১৭ বছরে। সর্বশেষ আরো দুই বছর সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত। কাগজে-কলমে এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৯০ শতাংশ। এ কারণেই চামড়াশিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে জানান বিশ্লেষকরা।

আয় ক্রমেই কমছে
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব অনুযায়ী চামড়া এখনো দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত। কিন্তু এ অবস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। কারণ সম্ভাবনা যা-ই থাকুক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি থেকে আয় দিন দিন কমছে। চামড়াকে সরকার ২০১৭ সালের ‘বর্ষপণ্য’ ঘোষণা করে। কিন্তু ওই বছরের রফতানি পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে রফতানি আয় হয়েছে ১০৮ কোটি ডলার যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কম। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ উৎস থেকে আয় হয়েছে ১২৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।

 

আরো সংবাদ