মধ্যপ্রাচ্য

হামাস নেতাদের হত্যার হুমকি দিয়েছে ইসরাইল

ইসরাইলের শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছেন, হামাসে সাথে ইসরাইলের কোনো সমঝোতায় যাওয়া উচিত নয়। আলোচনার বদলে বরং হামাসের নেতাদের হত্যার ব্যবস্থা করা উচিত। 

সম্প্রতি ইসরাইলি রেডিও ১০৩ এফএমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন নাফতালি বেনেট। তিনি গাজার নিয়ন্ত্রণে থাকা হামাসের নেতাদের বিচারবহির্ভূত হত্যা সমর্থন করেন। 

ইসরাইলের শিক্ষামন্ত্রী হামাসের নেতাদের মেরে ফেলার প্রস্তাব এমন এক সময় দিয়েছেন যখন মিসর দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা কার্যকর করার চেষ্টা করছে। সমঝোতা কার্যকর হলে, দুই পক্ষ বন্দি বিনিময় করতে পারবে।

২০১৬ সালে বেনেট বলেছিলেন, আমি নিজের হাতে অনেক আরবকে মেরেছি। এতে কোনো সমস্যা নেই। অস্ত্র সমর্পণ ব্যতিরেকে হামাসের সাথে আলোচনায় বসতে আমার সম্মতি নেই। ইসরাইলি সরাকেরে সদস্য হিসবে আমাদের দায়িত্ব আমাদের ক্ষতি করতে ইচ্ছুক হামাসের ক্ষমতা শেষ করে দেওয়া। আমরা হেজবুল্লাহর সাথে আলোচনা করেছিলাম। অথচ এখন তারা দেড়  লাখ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বসে আছে, যা ব্যবহার করে ইসরাইলের যেকোনো স্থানে তারা আঘাত হানতে পারে। একই ঘটনা গাজার ক্ষেত্রে ঘটতে যেতে দেওয়া যায় না। হামলা না করার বিষয়ে একমত হলেও, ওই পরিস্থিতিকে হামাস রকেট সংগ্রহের কাজে লাগাবে। একদিন হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে আমরা দেখব, তারাও টনকে টন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত করে ফেলেছে। ইসরাইলের ব্যবস্থাপনায় গাজাকে নিরস্ত্র করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন হামাস রকেট তৈরির আর কোনো সুযোগ না পায়।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগডোর লিবারম্যানও হামাস নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে ২০১৫ সালে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি যদি প্রধানমন্ত্রী বা প্রতিরক্ষামন্ত্রী হতাম তাহলে হানিয়াহকে প্রস্তাব দিতাম, আমাদের ছেলেদের বা তাদের মৃতদেহ ফেরত দাও, আর তা না হলে মর। তোমার হাতে ৪৮ ঘণ্টার সময় আছে। এরপর তোমাকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’ ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরেও লিবারম্যান হানিয়াহকে হত্যার বিষয়ে তার আগের মন্তব্য সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন। 

ফিলিস্তিনিদের নীরবে হত্যা করতে চায় ইসরাইল!
মিডল ইস্ট মনিটর, ২০ জুলাই ২০১৮

চলতি সপ্তাহে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে 'ফেসবুক বিল' নামের একটি আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনের ভিত্তিতে সন্ত্রাস উসকে দেয় এমন কোনো বিষয় মুছে ফেলতে ফেসবুক, গুগলসহ অন্যান্য ইন্টারনেট জায়ান্টকে অনুরোধ জানাতে পারবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার নেসেট অপর একটি আইন পাস করেছে যার মাধ্যমে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে দেশটি। কারণ, ওই মানবাধিকার সংস্থাগুলো ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সেনাদের দমনপীড়নের বিষয়টি প্রকাশ করছে বলে মনে করছে ইসরাইল। 

এই নতুন আইনের বিষয়ে ইসরাইলি শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট জানান, যারা ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে তারাই এই আইনের লক্ষ্যবস্তু। শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেটই ওই আইনটির বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন । 

নাফতালি বেনেট বলছেন, যেসব সাবেক ইসরাইলি সেনা ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন ও নির্মম আচরণ করেছে তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে ইসরাইলি এনজিওগুলো গর্হিত কাজ করছে। তারা আমাদের গোপনীয়তা ফাঁস করে দিচ্ছে। 

ইসরাইল প্রতিদিনই ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরাইলি বর্বরতার তথ্য বহির্বিশ্ব যাতে অবগত না হতে পারে সেজন্যই ইসরাইলের ওই প্রচেষ্টা। আর এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিরবে ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে যাওয়া এবং তাদের হত্যা করা। 

আরো সংবাদ