খুলনা

ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া পলিটেকনিক ছাত্রের সন্ধান মিলছে না

ফরিদপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের এক ছাত্রকে তার মেস থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার তিনদিন পরেও ওই ছাত্রের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফরিদপুরের র‌্যাব, পুলিশ বা ডিবি কেউই ওই ছাত্রকে তুলে নেয়ার কথা স্বীকার করছে না। বিষয়টি নিয়ে চরম উৎকন্ঠা নিয়ে দিন কাটছে ওই পরিবারের। এ ঘটনায় নিখোঁজ ওই ছাত্রের পরিবারের পক্ষ হতে কোতয়ালী থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।

নিখোঁজ ওই কলেজ ছাত্রের নাম সোহান শরীফ (২০)। সে সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মোসলেম শরীফের ছোট ছেলে। সোহান ফরিদপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫ম বর্ষের ছাত্র। শহরের বায়তুল আমান এলাকায় চোকদার ভিলা নামে একটি বহুতল ভবনের ৩য় তলার মেসে থাকতো সে। ফরিদপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অদুরে অবস্থিত এই চোকদার ভিলায় প্রায় ৭০ জনের মতো ছাত্র রয়েছে। যারা সকলেই পলিটেকনিকের ছাত্র। ওই মেসে থেকে পড়াশুনা করে।

সোহানের বড় ভাই সোহাগ শরীফ বলেন, শনিবার বিকেলে তাদের মেসের সামনে দু’টি মাইক্রোবাস ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। এর একটি সাদা ও একটি কালো রঙের নোহা গাড়ি ছিলো। এসময় দাড়ি ও টুপি পরিহিত এক ব্যক্তি প্রথমে মেসে এসে সিট ভাড়া নেয়ার জন্য খোঁজ করতে আসে। ওই লোকটি চলে যাওয়ার পরপরই তিনজন লোক সিভিল পোষাকে ওই মেসের ৩য় তলায় এসে সোহানকে দেখে জামা কাপড় পরে তাদের সাথে যেতে বলে।

সোহাগ বলেন, ওরা সম্ভবত সোহানকে আগে থেকেই চিনতো। তাকে দেখেই জামাকাপড় পরে নিয়ে তাদের সাথে যেতে বলে। এরপর ওই তিন ব্যক্তি সোহানকে নামিয়ে নিয়ে কালো রঙের গাড়িতে করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা সোহানের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়।

অবশ্য তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে সোহান তাদের কাছে জানতে চায় আপনারা কারা? প্রতুত্তরে তারা বলে, বুঝতে পারছো না আমরা কারা? হাবভাবে তাদের ডিবি বলেই মনে হচ্ছিলো। তবে তাদের পরনে ডিবির কোন জ্যাকেট ছিলো না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চোকদার মেসের এক ছাত্র জানায় এ কথা।

সোহান কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নয় উল্লেখ করে তার ভাই সোহাগ বলেন, সে ফেসবুকে মাঝেমধ্যে ইসলামী পোষ্ট দিতো। এজন্যই তাকে ধরে নিয়ে গেছে কিনা বুঝতে পারছি না। আমরা ফরিদপুরের ডিবি পুলিশের অফিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবার কাছেই গিয়েছি। কেউই এবিষয়ে আমাদের কিছু জানাতে পারেনি। এরপরই কোতয়ালী থানায় এব্যাপারে একটি জিডি করা হয়।

ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ওসি এএফএম নাসিম জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কারা সোহানকে তুলে নিয়ে গেছে এবিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ফেসবুকে সোহান সামি নামে একটি একাউন্ট রয়েছে এই সোহান শরীফের। সেখানে সে সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি নীতি নৈতিকতা ভিত্তিক পোষ্ট দিতো। ধর্ম নিয়েও তার বেশ কিছু পোষ্ট রয়েছে। সেখানে ফেসবুক সেলিব্রেটি সেফুদাকে সমালোচনা করেও তার একটি পোষ্ট রয়েছে। এসব পোস্টের কারণে ফরিদপুরের বাইরের কোন টিম এসে তাকে তুলে নিয়ে যেতে পারে বলেও সন্দেহ হচ্ছে পরিবারের।

আরো সংবাদ