খুলনা

নড়াইলে সুলতান উৎসব শুরু

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৪তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে নড়াইলে চারদিনব্যাপী সুলতান উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নড়াইলের সুলতান মঞ্চ চত্বরে ছবি এঁকে উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এমদাদুল হক চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আব্দুস সবুর খান, এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ, সদস্য সচিব বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর প্রলয় ঘোষাল, কলকাতার গভর্মেন্টস কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটের সহযোগী অধ্যাপক সুমন পাল, পশ্চিমবঙ্গের শিল্প সমালোচক পার্থ প্রতিম রায়, শিক্ষাবিদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুর রহমান হিলু, নারীনেত্রী আঞ্জুমান আরা, আসাদ রহমান প্রমুখ।

পরে সুলতান মঞ্চে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু। এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের পরিচালক নাজমুল হাসান লিজার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন প্রফেসর অশোক কুমার শীল, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আলমগীর সিদ্দিকী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বিশ্বাস, জেলা পরিষদ সদস্য রওশন আরা কবির লিলি প্রমুখ।

উৎসব উপলক্ষ্যে বিভিন্ন পণ্যের একাধিক স্টল বসেছে। এছাড়া স্থানীয় চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর প্রতিকৃতি দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে। ছবিটি এঁকেছেন নড়াইলে কর্মরত পুলিশের এএসআই বদিয়ার রহমান মল্লিক।

এছাড়া শৈশব স্মৃতিসহ বিভিন্ন ছবি এঁকেছেন স্থানীয় চিত্রশিল্পীরা। এদিকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে গতকাল বুধবার উৎসবের প্রথমদিনে মেলা তেমন জমে উঠেনি। সুলতান উৎসবে প্রতিদিন সকাল এবং বিকেলে বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান রয়েছে।

এদিকে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার সুলতান উৎসবের শেষদিনে নড়াইলের চিত্রা নদীতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং আরএফএল পাইপ অ্যান্ড ফিটিংস, রেইনবো পেইন্টস ও রানার অটোর সহযোগিতায় সুলতান উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর নড়াইলে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তিনি ১৯৮২ সালে ‘একুশে পদক’, ১৯৮৪ সালে ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ ১৯৮৬ সালে ‘বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পেয়েছেন।

এছাড়াও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন।

আরো সংবাদ