স্বাস্থ্য

নারী ও পুরুষের হার্টের রোগের ৫ আলাদা বৈশিষ্ট্য

হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি। নারী পুরুষ নির্বিশেষে এই সমস্যার শিকার। বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিসের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই বাড়ছে হৃদরোগ। উপমহাদেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ মানুষ মারা যান, তাঁদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত পুরুষের সংখ্যা ২০.৩ শতাংশ, মহিলার সংখ্যা ১৬.৯ শতাংশ। তবে এখন পুরুষদের তুলনায় নারীরা হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

অন্য একটি রিপোর্ট বলছে, ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে পুরুষরাই বেশি আক্রান্ত হন। সেই সংখ্যাটা ১০০ শতাংশের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা হৃদরোগের বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন।

পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে শারীরিক এবং গঠনগত বেশ কিছু পার্থক্য আছে। ফলে বেশকিছু রোগের লক্ষণও আলাদা হয়। হৃদরোগে নারী, পুরুষ নির্বিশেষে আক্রান্ত হন। তবে আক্রান্তের নানা ধরন থাকে।

কোলেস্টেরলের সমস্যা
কোলেস্টেরল বাড়লে আর্টারি ব্লক হয়ে যায়। সেখান থেকে হার্টে চাপ পড়ে। আর কোলেস্টেরলের সমস্যায় মেয়েরা অনেক বেশি ভোগে। তাই এই কোলেস্টেরলের সমস্যায় প্রথম থেকে সচেতন হলেই হার্টের রোগ দূরে রাখা যায়।

রক্ত চলাচলের রাস্তা সরু হলে
রক্তবাহী জালিকায় কোনো কারণে ফ্যাট বা কোলেস্টেরল জমলে রক্তচলাচলের পথ ছোট হয়ে যায়। ফলে রক্তচাপ বাড়ে। এবং এখান থেকে হার্ট অ্যার্টাকের আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়াও দেখা গেছে আর্টারি বা ধমনী কোনো কারণে ব্লক হয়ে গেলে তা সাধারণভাবে বোঝা যায় না। সেরকম কোনও লক্ষণ থাকে না। হঠাৎ করেই সমস্যার সৃষ্টি হয়। তখন একমাত্র পথ বাইপাস সার্জারি। এর ফলে বাকি আর্টারিগুলো রক্ষা পায়।

জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের ফলে কম বয়সীরাও হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। করোনারি আর্টারি ডিজিজ যুবদের মধ্যেই বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষত, মেয়েরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বাইরের খাবার বেশি খাওয়া বা অতিরিক্ত ডায়েট মেনে চলা, স্মোকিং, কনট্রাসেপটিভ পিল ইত্যাদির অধিক ব্যবহার মেয়েদের সমস্যা ডেকে আনছে। বেশ কয়েক বছর আগেও ৫০ পেরোলে পুরুষেরা হার্টের সমস্যায় নাম লেখাতেন। এখন ২০ পেরোতে না পেরোতেই খাতা খুলে ফেলছে অনেকে।

মাত্রাতিরিক্ত স্ট্রেস
ঘরে এবং বাইরে নারী-পুরুষ সমান ভাবে স্ট্রেসে ভোগেন। স্ট্রেস থেকেই নারীদের অক্সিটোসিনের মাত্রা বেড়ে যায়। আর পুরুষদের কর্টিসোল আর এপিনেফ্রিনের মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এরসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে সুগার এবং প্রেসার। নারীরা পুরুষদের তুলনায় একটু বেশি আবেগপ্রবণ। তাই কোনও ঘটনায় সহজেই ভেঙে পড়া বা চাপ নেয়ার প্রবণতা মেয়েদের মধ্যেই বেশি। কিন্তু সমস্যা হলো মেয়েদের স্ট্রেস বা হার্টের রোগ সহজে চিহ্ণিত হয় না। বি।য়টি নিয়ে তাদের বাড়ির লোকও ততটা সচেতন নন। যতটা পুরুষদের নিয়ে সচেতন। তাই ছেলেদের মতো মেয়েদেরও নিয়মিত হার্টের পরীক্ষা নিরীক্ষা দরকার।

পুরুষদের হার্টের সমস্যা হলে যা যা লক্ষণ মূলত দেখা যায়-
বুকে চিনচিনে ব্যথা বা বেশ ব্যথা
বুকের বাঁদিক ঘেঁষে ব্যাথা
বুকে চাপ লাগা

নারীদের হার্টের সমস্যা হলে যা যা লক্ষণ মূলত দেখা যায়-
বুকে ব্যথা সবসময় হয় না। তবে ঘাড়ের আশেপাশে ব্যথা
যেকোনো রকম ব্যাক পেইন
স্পন্ডেলাইটিসের সমস্যা ইত্যাদি থেকে হার্টের সমস্যার সূত্রপাত।

আরো পড়ুন :

এনার্জি ড্রিংকস কেন শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?
বিবিসি

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন দেশটিতে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছে এনার্জি ড্রিংক বিক্রি নিষিদ্ধ হতে পারে। শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর-এমন উদ্বেগের মধ্যেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

শিশুদের কাছে এনার্জি ড্রিংকস বিক্রি অবৈধ ঘোষণার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার এজন্য একটি গণ আলোচনার (পাবলিক কনসালটেশন) সূচনা করেছে।


কোন বয়স থেকে এটি নিষিদ্ধ হওয়া উচিত সে বিষয়ে মতামতও চাওয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

এ বিষয়ে দুটি বিকল্পও দেয়া হয়েছে- একটি হলো ১৬ বছর, অন্যটি ১৮।

স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও ওয়েলস নিজেরাই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পারে।

এতো উদ্বেগের কারণ কি?

গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্যের শিশু বা তরুণরাই বেশি এনার্জি ড্রিংকস পান করে থাকে।

এসব পানীয়তে উচ্চ মাত্রার সুগার ও ক্যাফেইন থাকে যার মাত্রা প্রায়শই দেখা যায় কোমল পানীয়তে থাকা এ ধরনের উপাদানের চেয়ে বেশি।

ফলে এ পানীয় বেশি মাত্রায় পান করলে শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরির ঝুঁকি থেকে যায়। কারণ এ থেকে স্থূলতা, দাঁতের ক্ষয় রোগ, মাথাব্যথা ও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শিক্ষক সংগঠনের জরিপ থেকে দেখা যায়, যেসব শিশুরা বেশি এনার্জি ড্রিংকস পান করে শ্রেণীকক্ষে তাদের আচরণ তুলনামূলক খারাপ।

এসব কারণেই প্রতি লিটারে ১৫০ মি.গ্রা. এর বেশি ক্যাফেইন আছেন এমন পানীয়র ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হতে পারে।

অনেক দোকান ইতোমধ্যেই নিজেরাই ১৬ বছরের কম বয়সীদের কাছে এ ধরণের পানীয় বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।

তবে শিশুরা চাইলে খুচরা বিক্রেতা ও ভেন্ডিং মেশিন থেকে কিনতে পারে।

দেশটির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ ব্রাইন বলেছেন, "স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন কিছু থেকে শিশুদের রক্ষার দায়িত্ব আমাদের।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী থেরেজা মে শিশুদের স্থূলতাকে দেশের একটি বড় স্বাস্থ্য বিষয়ক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

"শিশুদের জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে তাদের জীবন শুরুর জন্য আমরা কি করতে পারি সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য আমি সবাইকে তাদের মতামত দেয়ার জন্য উৎসাহিত করছি।"

কী থাকে এনার্জি ড্রিংকসে?

আগেই বলা হয়েছে, এতে উচ্চ মাত্রার সুগার ও ক্যাফেইন থাকে যার পরিমাণ হয় ২৫০ মিলি ক্যানে অন্তত ৮০ মি. গ্রা.। অথচ ৩৩০ মিলি'র একটি কোকাকোলা ক্যানে এর পরিমাণ থাকে ৩২ মি. গ্রা.।

কিছু ছোট 'এনার্জি শট'-এ ৬০ মিলি বোতলে ১৬০ মি. গ্রা  পর্যন্ত ক্যাফেইন থাকতে পারে।

অথচ বেশি মাত্রার ক্যাফেইন উদ্বেগ ও আতঙ্কিত হওয়ার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।

এটি রক্তচাপও বাড়িয়ে দেয়।

গর্ভবতী কিংবা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান এমন নারীদের দিনে দুশো মিগ্রার বেশি ক্যাফেইন না সেবন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়।

সুগার কতটা ক্ষতি করতে পারে?

অতিরিক্ত সুগারের কারণে স্থূলতা, দাঁতের সমস্যা ছাড়াও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি করে।

জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান নির্বাহী ডানকান সেলবি বলছেন, "শিশুদের স্থূলতা মোকাবেলায় এ ধরণের পানীয় বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ হবে দারুণ শক্তিশালী পদক্ষেপ।"

 

আরো সংবাদ