প্রথম পাতা

দেশে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প

মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে দুলে উঠেছে বাংলাদেশ। মাত্রা মাঝারি হলেও এ ভূমিকম্পটির ঝাঁকুনি সর্বত্রই ছিল বেশ স্পষ্ট। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৫.৩। গতকাল সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সংঘটিত এ ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আসামের সাপাতগ্রাম এলাকায়। রাজধানী থেকে এর দূরত্ব ছিল ২৯৩ কিলোমিটার উত্তরে। এটা মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে।
ভূমিকম্পের কারণে রাজধানী ঢাকার ভবনগুলোর ঝাঁকুনি বাইরে থেকে দেখতে পাওয়া না গেলেও বাসায় অবস্থানরতরা বেশ ভালোভাবেই তা অনুভব করতে পেরেছেন। মুহূর্তেই আতঙ্ক ঘিরে ধরে সবাইকে। যারা খাটে অথবা সোফা-চেয়ারে বসা ছিলেন তারা দেখতে পান খাট অথবা চেয়ারটি ঠিক জায়গায় থাকছে না, এদিক-সেদিক নড়াচড়া করছে। ওপরে ঘূর্ণায়মান বৈদ্যুতিক পাখা এদিক-সেদিক দুলছে। অনেকেই দ্রুত বাসা থেকে বের হয়ে গেছেন। তবে ভূমিকম্পটি ছিল ক্ষণস্থায়ী। অল্প কয়েক সেকেন্ড যেতে না যেতেই থেমে যায় দুলুনি। সারা দেশেই অনুভূত হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সিস্মোলজিস্টরা বলছেন, আসামের এ এলাকাটি ভূমিকম্পপ্রবণ। এই সাপাতগ্রামেই গত সাত দিনে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে একটি এবং গত ৩০ দিনে একই এলাকায় একই মাত্রায় ভূমিকম্প হয়েছে তিনটি। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুসারে, আসামের সাপাতগ্রামে গত ৩৬৫ দিনে ২২টি ভূমিকম্প হয়েছে। এ এলাকায় ওই এক বছরে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি ছিল ৬.৪ মাত্রার। তবে এটা ছিল একটু দূরে অরুণাচল প্রদেশের আলং এলাকায়। অতীতে আসামের ধুবরী এলাকায় সাড়ে ৭ মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় যে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, সে স্থানটি সাপাতগ্রাম থেকে খুবই কাছে।
পঞ্চগড় সংবাদদাতা জানান, সারা দেশের মতো পঞ্চগড়েও অনুভূত হয়েছে মৃদু ভূকম্পন। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা গেছে। আতঙ্কিত মানুষজনকে অফিস, বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে দীর্ঘণ রাস্তায় থাকতে দেখা গেছে।
গতকাল বুধবার সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে এ ভূকম্প অনুভূত হয়। তবে এ ঘটনায় জেলার কোথাও কোনো ধরনের য়তির খবর পাওয়া যায়নি। আব্দুর রহিম ও লুৎফর রহমান নামে দুই ব্যক্তি বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে বাজারে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ বেঞ্চ কেঁপে উঠতে দেখে দৌড়ে রাস্তায় দাঁড়াই।
নীলফামারী সংবাদদাতা জানান, গতকাল বুধবার সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে নীলফামারী ও সংলগ্ন এলাকায় প্রচণ্ড ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে সবকিছুই কেঁপে ওঠে এবং চার দিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কম্পনের সময় গোটা জেলার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তাড়াহুড়ো করে ভবন থেকে নামতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আরো সংবাদ