প্রথম পাতা

মধ্য অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচনকালীন সরকার অক্টোবরের মাঝামাঝিতে গঠন করা হবে। আকার হবে ছোট। গত নির্বাচনকালীন সরকারের কাছাকাছি। নির্বাচনকালীন সরকারে কোনো টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী থাকছে না।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান। মন্ত্রী জানান, নির্বাচনী সফরে তিনি আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চে পটুয়াখালী ও বরগুনা এবং ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সড়কপথে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার যাবেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করেছি, নির্বাচনকালীন সরকারে সংসদের বাইরের কেউ আসবে না। টেকনোক্র্যাট কেউ আসবে না। আকারটা ছোট হবে। অক্টোবরের কবে নাগাদ নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হবেÑসাংবাদিকেরা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, অক্টোবরে হবে, হয়তো মাঝামাঝি। আকারটা কেমন ছোট হবেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গতবার যে রকম ছিল সেই রকমই কাছাকাছি হবে। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি তাদের আরো দুয়েকজন অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনুরোধ করেছে। সেটাও প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার, তিনি কতটা বিবেচনা করবেনÑসেটা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এগুলো আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে আছে।
আওয়ামী লীগ নির্বাচন কি জোট করে করবেÑসাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করবে। বিএনপি যদি আসে তাহলে জাতীয় পার্টির সাথে আসন বণ্টন, সমঝোতা এসব বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। সবকিছু নির্ভর করছে মেরুকরণ কিভাবে হবে, সেভাবেই অ্যালাইন্সের সমীকরণ হবে। জোটগতভাবে নির্বাচন করলে শরিকদের জন্য ৬৫-৭০টি আসন ছেড়ে দেয়া হবে।
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শামীম ওসমানের নাম চূড়ান্ত হয়েছে বলে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খানÑএ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ ধরনের তালিকা শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ জানে না। এখন পর্যন্ত আমরা কাউকে মনোনয়ন দিইনি, তবে যাদের অবস্থা ভালোÑএ রকম অনেককে বলা হয়েছে। আমাদের লিডার আভাস-ইঙ্গিত দিয়েছেন, কাউকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এ রকম কোনো আশ্বাসও দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬০-৭০ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন। অক্টোবরে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচনে নতুন মুখ আসছে কি নাÑ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, পুরনো যত বাদ যাবে সেখানে নতুন আসবে।
সম্প্রতি দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে শোকজের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধ, নির্বাচনের জন্য অনেকেরই আশা-আকাক্সক্ষা আছে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা যেন কেউ করতে না পারেÑএ ব্যাপারে নিষেধ আছে ও কড়াকড়ি আছে, যে কারণে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা রাজশাহী, দিনাজপুর ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হয়েছে। ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি। যারা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে এমপিদের, তাদের কড়া ভাষায় শোকজ করা হয়েছে। আবার যাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তাদের বলা হয়েছে, দলীয়-নেতাকর্মীদের এত ক্ষোভ কেন? দুই পক্ষকেই চিঠি দেয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এর জবাব দিতে হবে। সব দিক বিবেচনা করেই এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া জনগণ ভোট হতে দেবে না’ দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আষাঢ়ের তর্জন-গর্জনই সার। গত ১০ বছরে যা হয়নি, দুই মাসে হবে! পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কোন হাসপাতাল সেটা তো বিষয় না। আসলে আপত্তিটা হচ্ছে বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার চাইতে অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতির চেষ্টা করছে, এটাকে ইস্যু বানিয়ে আন্দোলন করতে চাইছে। বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য নেই দাবি করে কাদের বলেন, বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা বলে। তারা নাকি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলবে। তাদের নিজের ঘরেই তো ঐক্য নেই। তারা নিজেদের অফিসেই একে অন্যকে সরকারের এজেন্ট বলে। যারা নিজেরা ঘরেই ঐক্যবদ্ধ নয়। তারা কিভাবে জাতীয় ঐক্য গড়বে! তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে বড় দল। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে এদেশে জাতীয় ঐক্য কিভাবে হয়! আর আওয়ামী লীগ না থাকলে অন্য অনেক দলও তাদের সাথে যাবে না।

আরো সংবাদ