বিশ্বকাপ ২০১৮

এমবাপের মহানুভবতা, বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে আয়ের পুরোটাই একটি চ্যারিটিতে দান করতে চলেছেন ফ্র্যান্সের জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড কাইলিয়ান এমবাপে।

সূত্রের খবর, চলতি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশী মুদ্রায় সোয়া চার কোটি টাকা পেয়েছেন এমবাপে। পারশ্রমিক বাবদ পাওয়া এই অর্থের পুরোটাই তিনি চ্যারটিতে দেবেন বলে ঘোষণা করেন।

গোটা টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচে চারটি গোল করে নজর কেড়েছেন ফ্রান্সের এই উনিশ বর্ষীয় ফুটবলার। বিশ্বকাপের সেরা তরুণ ফুটবলারের স্বীকৃতিও তিনি পেয়েছেন। আর একটি নজিরও ছুঁয়েছেন। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার, কিংবদন্তি পেলের পর (১৯৫৮) টিনএজার ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেছেন।

তারা খেলা দেখে অনেক ফুটবলবোদ্ধাই বলছেন, সাফল্যে মাথা না ঘুরে গেলে, লিওনেল মেসি, সিআর-৭দের যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে উঠবেন এমবাপে।

আরো পড়ুন :

পেলের পরেই এমবাপ্পে
রফিকুল হায়দার ফরহাদ রাশিয়া থেকে

অনেকেই ব্রাজিলের ফুটবল তারকা পেলের সাথে তুলনা করা শুরু করেছেন ইলিয়ান এমবাপ্পেকে। এবার অভিষেক হওয়া বিশ্বকাপে তিনি করেছেন চার গোল। এর মধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জোড়া গোল। আর ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এক গোল। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এই গোলই এখন রেকর্ড বুকে নিয়ে গেছে এই ফরাসি ফরোয়ার্ডকে। বিশ্বকাপের ফাইনলে গোল করা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার তিনি। ১৫ জুলাই তিনি ১৯ বছর ২০৭ দিন বয়সে করেছেন গোল। সবচেয়ে কম বয়সে ফাইনালে গোল করা ফুটবলার হলেন ব্রাজিলের পেলে। তিনি ১৯৫৮-এর বিশ্বকাপে ১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে গোল করেছিলেন ফাইনালে। ৬০ বছর আগে টিনএজ বয়সে সুইডেনের বিপক্ষে গোল ছিল পেলের। এমবাপ্পে তৃতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার, যিনি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেললেন। ১৯৮২ বিশ্বকাপে ইতালির জিওসিপ্পো বারগোমি ১৮ বছর ২০১ দিন বয়সে ফাইনাল খেলেছিলেন। এদিকে এমবাপ্পে মিক্সড জোনে জানান, তিনি বেশ ভালো আছেন প্যারিস সেন্ট জার্মেই ক্লাবে। রিয়াল মাদ্রিদে তার যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই।

এ দিকে বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম আত্মঘাতী গোল করলেন ক্রোয়েশিয়ার মারিও মানজুকিচ। পরে অবশ্য ফ্রান্সের জালে একবার বল পাঠান। তিনি ও ইভান পেরিসিচ ক্রোয়েশিয়ার হয়ে এবার বিশ্বকাপে তিনটি করে গোল করেছেন। ১৯৯৮ সালে ৬ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা ক্রোয়েট ফুটবলার ডেভর সুকারের পর এই দেশের আর কেউ এক আসরে এত গোল করতে পারেনি বিশ্বকাপে।
ক্রোয়েশিয়াই বিশ্বকাপের প্রথম দল যারা নক আউট পর্বের টানা চার ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও সমতা এনেছিল। এর আগে দুইবার নক আউটে পিছিয়ে পড়ে পরে জিতেছিল ১৯৭০ সালে ইতালি। তারা কোয়ার্টার ও সেমিতে পিছিয়ে পড়েও পরে জয় পায়।

৫২ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ৬ গোল হলো। ১৯৬৬তে ইংল্যান্ড ৪-২-এ জিতেছিল পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে। ১৯৫৮তে ব্রাজিল ৫-২ এ ফাইনাল জিতেছিল সুইডেনের বিপক্ষে।

আরো সংবাদ