ইউরোপ

প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ৭

 ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে রোববার দুই ব্রিটিশ পর্যটকসহ সাত জন আহত হয়েছে। এক ব্যক্তি একটি ছুরি ও লোহার বার দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ও অন্যান্য সূত্রে একথা জানা গেছে।

তদন্তের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে আফগান নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রটি বলছে, ‘তাৎক্ষণিকভাবে হামলার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ত থাকার কোন লক্ষণ পাওয়া যায়নি। হামলাকারী ‘রাস্তায় বিদেশীদের লক্ষ্য করে’ এ হামলা চালায়।

পুলিশ জানায়, আহত সাত জনের মধ্যে চার জনের অবস্থা গুরুতর। প্যারিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি খালের তীরে রাত ১১টার পর এই ঘটনা ঘটে।

ক্যানেল ডি এল’ওউক এর অংশ বেসিন ডি লা ভিলেটের অপর পাড়ে দুটি সিনেমা হল আছে। একটি সিনেমা হলের নিরাপত্তা রক্ষী জানায়, হামলাকারী লোকটিকে ধরার জন্য দুজন লোক তার পিছে ধাওয়া করছিল। তিনি আরো বলেন, ‘তার হাতে একটি লোহার বার ছিল। সেটা তিনি তার পিছু নেয়া লোক দুজনকে লক্ষ্য করে ছুঁড়ে মারেন। এরপর তিনি একটি ছুরি বের করেন।’

অপর প্রত্যক্ষদর্শী ইউসেফ নাজাহ্ (২৮) বলেন, তিনি খালের পাড় দিয়ে একা হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি একজন লোককে প্রায় ২৫-৩০ সেন্টিমিটার (১০-১১ ইঞ্চি) লম্বা ছুরি হাতে দৌঁড়াতে দেখেন। তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় ২০ জন লোক তাকে ধাওয়া করছিল। তারা তাকে লক্ষ্য করে পেটানক বল ছুঁড়ে মারছিল।’

এটি ফ্রান্সের একটি জনপ্রিয় খেলায় ব্যবহৃত ছোট বল। এটা বাউলস নামেও পরিচিত। নাজাহ্ বলেন, ‘তার মাথায় চার থেকে পাঁচটি বল আঘাত করে। তবে তারা তাকে থামাতে পারেনি।’ তিনি জানান, এরপর মানুষের একটি হাঁটার গলিতে ঢুকে পড়ে। সেখানে তিনি ‘ব্রিটিশ পর্যটকদের ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে চেয়েছিলেন।’

এমন সময় আমরা তাদেরকে সাবধান করতে, ‘সাবধান! দেখুন! লোকটির হাতে ছুরি আছে।’ বলে চিৎকার করি। কিন্তু তারা আমাদের কথায় কর্ণপাত করেননি। এরপর ওই দুই ব্রিটিশ নাগরিকের ওপর হামলাকারী হামলা চালায়। বিচার বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগ এনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফ্রান্সে বেশ কয়েকটি ছুরি হামলা চালানো হয়েছে। অধিকাংশ ঘটনাগুলোর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সম্পৃক্ততা নাকচ করে দেয়া হয়েছে। এটি এই ধরনের সর্বশেষ হামলার ঘটনা।

২৩ আগস্ট, প্যারিসের কাছের একটি শহরে এক ব্যক্তি তার মা ও বোনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এই ঘটনায় আরেকজন গুরুতর আহত হয়। লোকটি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। ওই ঘটনার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যয়নি। তবে জিহাদি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর দায়িত্ব স্বীকার করে বলেছে, তাদের এক যোদ্ধা এ হামলা চালায়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩৬ বছর বয়সী লোকটির গুরুতর মানসিক সমস্যা ছিল এবং ২০১৬ সাল থেকে সন্ত্রাসী সন্দেহে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। পেরিগুয়েআক্স শহরে একটি ছুরি নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ এক আফগান রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীকে গ্রেফতার করার কয়েকদিন পর সর্বশেষ এই হামলাটি চালানো হল। পেরিগুয়েআক্স শহরের ওই হামলায় চার জন আহত হয়। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

আরো সংবাদ