ইউরোপ

যে কারণে শিশুদের টিকা দিতে চান না ইতালির বাবা-মায়েরা

আট মাস বয়সী স্যামুয়েলকে টিকা দেয়ার জন্য তার মা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এনেছে। কিন্তু অনেক শিশুর মতোই এটিকে পছন্দ করছে না সে।

তার মা ম্যানুয়েলা তাকে নিয়ে রোমের একটি ক্লিনিকে এসেছে বাধ্যতামূলক টিকা দিতে। কিন্তু মা ম্যানুয়েলা এখানে এসেছেন নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, ‘আমাকে এখানে আসতেই হয়েছে। কিন্তু যদি আমার নিজের পছন্দ করার উপায় থাকতো তাহেলে আমি এখানে আসতাম না। আমি আমার সন্তানকে টিকা দিতাম না। টিকার ভেতরে যেসব ধাতব পদার্থ থাকে সেগুলোকে আমার ভয় লাগে। এটা নার্ভাস সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে।’

ডাক্তাররা বলছেন, এ ধরনের ভয়ের বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। কিন্তু তারপরেও কিছু মা-বাবা তাদের সন্তানকে টিকা দিতে চান না।

কিন্তু ইটালির নতুন সরকার হয়তো বাধ্যতামূলক টিকা কর্মসূচি বাতিল করতে পারে।

ইটালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক সমাবেশে বলেছেন, তার সন্তানদেরও টিকা দেয়া হয়েছে।

কিন্তু তিনি মনে করেন, অন্য পিতামাতারা তাদের সন্তানের জন্য যেটা ভালো মনে করবে সে সিদ্ধান্ত নেবার সুযোগ তাদের থাকা উচিত।

মারিয়ানা ফিওরাভেন্টি একজন স্কুলশিক্ষক। নিজের সন্তানকে হামের টিকা না দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

‘আমার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা থাকা উচিত। আমি গণহারে সবাইকে বাধ্যতামূলক টিকা দেবার বিপক্ষে। আমি মনে করি প্রতিটি শিশুর ক্ষেত্রে আলাদা-আলাদা মূল্যায়ন করা উচিত। প্রতিটি শিশুই আলাদা। আমি টিকার বৈজ্ঞানিক দিকগুলোতে যাব না। কারণ আমি ডাক্তার নই। একটি টিকা বিপদজনক হতে পারে, আবার জীবনও রক্ষা করতে পারে।’

ইটালির নতুন সরকারের একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে। তারা মনে করে সরকার, ডাক্তার কিংবা বিশেষজ্ঞদের চেয়ে প্রতিটি বাবা-মা তার শিশুকে ভালো করে জানে যে তাদের কোনটি প্রয়োজন।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এ ধারণা দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

ইটালির পেডিয়াট্রিক সোসাইটির সোসাইটির ড. আলবার্তো ভিলানি বলছেন, বাবা-মায়ের টিকা নিয়ে যে ভয়ের মধ্যে আছেন সেটি অবাস্তব। বিষয়টি নিয়ে তাদের বোঝাতে হবে. ‘এ ধরণের তথ্য মানুষের মনোভাব পরিবর্তনের অন্তরায়। আমাদের আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। এ মনোভাব গড়ে তোলার জন্য স্কুলে শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন।’

‘কিন্তু এটা শুধু ইটালির সমস্যা নয়, সারা বিশ্বের সমস্যা ‘ বলেন মি. ভিলানি।

শিশুদের টিকা বন্ধ করে দেবার এ চিন্তা আবারো সেসব রোগ ফিরিয়ে আনতে পারে যেগুলো মাত্র একটি টিকার মাধ্যমেই প্রতিরোধ সম্ভব।

এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণও রয়েছে। কিস্তু দিন শেষে ওষুধের চেয়ে রাজনীতি অনেক বেশি জটিল।

আরো সংবাদ