অর্থনীতি

‘রাজনৈতিকভাবে বর্তমান বাংলাদেশ অন্যায়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান বাংলাদেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অন্যায় ও অন্যয্যতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। 

জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শুক্রবার শ্রমিক কনভেনশনে উদ্ভোধন করতে গিয়ে তিনি একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, এই অন্যায় ও অন্যায্যতার প্রতিবাদ করতে স্কুলের শিশুরাও রাস্তায় নেমে এসেছিলেন শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে। কিন্তু সে আন্দোলনও আমরা দেখলাম দমন করা হলো কি অন্যায়ভাবে। অন্যায়ের শিকার হলে বিচার পাবার অধিকারও আমরা হারিয়ে ফেলছি।

তিনি বলেন, আপনারা শ্রমিক, কাজ করছেন, দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছেন, বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করছেন কিন্তু ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আপনারা ১৬ হাজার টাকার দাবিতে আন্দোলন করছেন। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য এটা অতি সামান্য চাওয়া। কিন্তু সেটা পূরণ করার জন্যও আন্দোলন করতে হচ্ছে। এই আন্দোলনকে শুধু অর্থনৈতিক দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করতে হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের বর্তমান সমন্বয়ক এ্যাড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কনভেনশনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মোশরেফা মিশু।

কনভেনশনে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, আমাদের দেশের গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিক আন্দোলন দমনের সময় ঐক্যবদ্ধ কিন্তু বায়ার বা ব্র্যান্ডের সাথে দরকষাকষির সময় তাদের মধ্যে কোন ঐক্য নাই। কাজ পওয়ার জন্য তারা পরস্পরের সাথে প্রতিযোগিতা করে, স্বার্থ বিকিয়ে দেয়। কিন্তু হওয়া উচিত তার বিপরীত। তিনি আরো বলেন, মজুরি হতে হবে পরিবারের ১ জনের ৮ ঘণ্টা শ্রমেই পুরো পরিবার চলতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এই পরিবারের ২/৩ জনকে কাজ করতে হয়, ১০/১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করেও দারিদ্রসীমার নিচে বাস করতে হচ্ছে। এবার মজুরি নির্ধারণে এই অবস্থার পরিবর্তন হতে হবে।

অপরদিকে সিপিবি সভাপথি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, স্ব বর্তমান সরকার উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় রপ্তানীখাত গার্মেন্ট খাতের শ্রমিকদের মজুরির প্রশ্ন আসলে সরকার ও মালিকপক্ষ দিশেহারা হয়ে যায়। ভারতের কৃষক-শ্রমিকরা ১৮ হাজার রুপি দাবি করেছে বাংলাদেশে যেটা দাঁড়ায় ২১ হাজার টাকা। অথচ গার্মেন্টস শ্রমিকরা দাবি করেছেন ১৬ হাজার টাকা। দেরি না করে এখনি ১৬ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণা করেন, অন্যথায় দাবি আরো বৃদ্ধি পাবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সাইফুল হক বলেন, মালিকদের আশ্বাসে শ্রমিকরা আর আস্থা রাখতে পারছে না। তিনি জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান।

মোশরেফা মিশু বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মজুরি নির্ধারণ করা না হলে কঠোর আন্দোলন হবে এমনকি ধর্মঘট পর্যন্ত করতে আমরা বাধ্য হবো।

কনভেনশনে বাসদ বাম রাজনৈতিক দলের মধ্যে মোবিনুল হায়দার চৌধুরী এবং মোশাররফ হোসেন নান্নুসহ ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শহীদুল্লাহ চৌধুরী, শাহ আতিউল ইসলাম, চৌধুরী আশিকুল আলম পটল। গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন তাসলিমা আখতার, মোহাম্মদ ইয়াসিন, জরিুল ইসলাম, জুলহাসনাইন বাবু, শামীম ইমাম, অরবিন্দু ব্যাপারী, বিপ্লব ভট্টাচার্য এবং সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন রুহুল আমীন এবং আহসান হাবিব বুলবুল। কনভেনশনের শরুতেই অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল কনভেনশনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

আরো সংবাদ