অর্থনীতি

সিষ্টেমলস কমাতে ৮.৫ লাখ স্মার্ট মিটার

বিদ্যুতের বিভিন্ন ধরণের সিষ্টেমলস কমানোর জন্য ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মোট সাড়ে ৮ লাখ স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। ঢাকা জেলার রমনা, জিগাতলা, ধানমন্ডি, আদাবর, পরিবাগ, কাকরাইল, বনশ্রী, মগবাজার, শ্যামলী, কামরাঙ্গীরচর, বাংলাবাজার, নারিন্দা, পোস্তগোলা ও ডেমরা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুলা, শীতলক্ষ্যা ও সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলায় প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানো হবে। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো, ফসলী জমি নষ্ট করে রাস্তা নির্মাণ করা নয়।

শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মোট ৩ হাজার ৮৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সভাশেষে পরিকল্পনন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে প্রকল্পগুলো সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। প্রকল্প ব্যয়ে জিওবি খাত থেকে ২ হাজার ৩৩৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৫০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ও প্রকল্প সহায়তা থেকে ৬৯৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা যোগান দেয়া হবে বলে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান।

একনেকের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমান পোস্ট পেইড মিটারিং সিস্টেমে প্রচুর কারিগরি ও অকারিগরি সিষ্টেম লস হতো এবং বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকতো। প্রি-পেমেন্ট মিটারে সেটি আর থাকবে না। ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় ৮ লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন খরচ হবে ৬৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৬০৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৫০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা খরচ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদন ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা। চলতি বছরের মাঝামাঝিতেই তা ১৯ হাজার ২শ’ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। বছর শেষে ২০ হাজার মেগাওয়াটের উপরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হওয়া যাবে আশা করা যায়।

মন্ত্রী জানান, একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮২৬ কোটি টাকা, নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ভালুকা-গফরগাঁও-হোসেনপুর সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার জেলা মহাসড়ক, করটিয়া-বাসাইল জেলা মহাসড়ক এর পকুলক্ষ্য-দেলদুয়ার-এলাসিন জেলা মহাসড়কের দেলদুয়ার-এলাসিন অংশকে যথাযথমানেও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৪০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, গাইবান্ধা- গোবিন্দগঞ্জ ভায়া নাকাইহাট জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্তায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, ইস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩১৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা, বাংলাদেশ পুলিশের ডাটা সেন্টারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৫৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং চাঁপাই নবাবগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন মহানন্দা নদীর শেখ হাসিনা সেতুর সাথে সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৫৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, কৃষি জমি রক্ষায় নতুন রাস্তা যাতে কম করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, জাতীয় নগর দারিদ্র হ্রাসকরণ কর্মসূচী প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশৃঙ্খল হওয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প রাখার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে বলে জানান আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আরো সংবাদ