অর্থনীতি

বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি : দাম অত্যধিক

শীতকাল আসতে এখনো অনেক বাকী। কিন্তু এরই মধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। কৃষকের ক্ষেতে বিশেষ ব্যবস্থায় উৎপাদিত এসব সবজির দামও অত্যধিক। সময়ে যে শিম ২০ টাকা কেজিদরে পাওয়া যায়, এখন সে শিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। বাজারে এখন খুব ছোট আকারের যেসব ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিসদরে বিক্রি হচ্ছে তারচেয়ে ১০ গুণ বড় ফুলকপি শতিকালে পাওয়া যাবে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। একই অবস্থা বাধাকপির ক্ষেত্রেও। আগাম জাতের একেকটি বাধাকপি বর্তমানে বিক্রিহচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। ভরা মওসুমে এসব কপি মিলবে ১৫ থেকে ২০ টাকায়।

রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট সংলগ্ন সান্ধ্যকালীন বাজারে শুক্রবার প্রতি কেজি শিম ১৬০ টাকাদরে বিক্রি করতে দেখা যায়। বিক্রেতা শহীদুল আলম জানান, আগাম জাতে এ শিম অতি যত্নে চাষ করা হয়। আগাম সবজির জন্য বীজতলা প্রস্তুত করা হয় বিশেষ ব্যবস্থায়। বৃষ্টির আক্রমন থেকে রক্ষা করতে নেয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। সরবরাহ করা যায় সীমিত পরিমানে। এজন্যে দামও বেশি। তবে সৌখিন ভোজনরসিকদের কাছে বাড়তি টাকা কোনো সমস্যাই নয় বলে জানান শহীদুল।

বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থায় উৎপাদিত বারমাসি টমেটোও। দাম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। আবার কোল্ড স্টোরেজে রাখা পাকা টমেটোও বিক্রি হচ্ছে ঢাকার বাজারে। এগুলোর দাম প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। আর ভারত থেকে আমদানীকৃত টমেটোর কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা। কোল্ড স্টোরেজে রাখা দেশি গাজর ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া গেলেও চীন থেকে আমদানীকৃত দৃষ্টিনন্দন গাজর বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকাদরে। শীতকালে যে ক্যাপসিকাম ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজিদরে পাওয়া যায়, বিদেশি জাতের এ সবজির বর্তমান দর ৩০০ টাকা। বাড়তি দামের এসব সবজিতে সাধারণ মানুষের নজর তেমন না পাড়লেও ক্রেতার কোনো অভাব নেই বলে জানান বিক্রেতারা।

শান্তিনগর বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল বলেন, শিম ও ফুলকপি শীতকালীন সবজি। আগাম বাজারে আসায় এ দু’টি সবজির দাম একটু চড়া। তিনি বলেন, বাজারে যে কোনো সবজি নতুন এলে দাম একটু বেশিই থাকে, এটা স্বাভাবিক। এখন এক কেজি শিম ১৫০ টাকায় বিক্রি করছি। এক সময় এই শিমই ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হবে। কিন্তু ১৬০ টাকার শিমের যে স্বাদ তা ২০ টাকা কেজির শিমে পাওয়া যাবে না।
গতকাল রাজধানী ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। পটল, ঝিঙা, ধুন্দল, চিচিংগা, বেগুন, কাঁকরোল, ঢেঁড়স, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে, করলাসহ প্রায় সব সবজিই বাজারে যথেষ্ট পরিমাণে আছে। দাম রাখা হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। খুচরা দোকানে গতকাল জালি কুমড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, কচুমুখি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৭০ টাকা, পেপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ঢেড়শ ৪০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ২৫০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, প্রকারভেদে চিংড়ি ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা। গরুর গোশতের কেজি ৪৮০ থেকে ৫০০ এবং খাসির গোশত বিক্রিহচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ ট্কাায়।

এদিকে কোরবানীর ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ সবধরণের মসলার দাম বেড়েই চলেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ গতকাল বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা চীনা রসুন কেজিতে গড়ে ১০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি রসুনের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

আরো সংবাদ