অস্ট্রেলিয়া

কন্যা সন্তানের মা হলেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী 

কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন। প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম সন্তান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইন্সটাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বৃহস্পতিবার জন্ম নেওয়া কন্যা সন্তানের একটি ছবিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

৩৭ বছর বয়সী আর্ডেনই হচ্ছেন দেশটির সবচেয়ে কমবয়সী প্রধানমন্ত্রী।

সংসদ নির্বাচনে তার দল লেবার পার্টি দ্বিতীয় হয়েছিল। কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ছোট দল ফার্স্ট পার্টির নেতা উইনস্টন পিটার্সের সমর্থন নিয়ে গত অক্টোবরে নতুন সরকার গঠন করেন নিউ জিল্যান্ডের তৃতীয় এ নারী প্রধানমন্ত্রী।

আর্ডেন হলেন দেশটির ইতিহাসের প্রথম নারী, যিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থাতেই সন্তানের জন্ম দিলেন।

‘স্বাগতম আমাদের উই ওয়ান গ্রামে। পৌনে পাঁচটার সময় পৃথিবীতে আসা তিন দশমিক ৩১ কেজি ওজনের স্বাস্থ্যবান কন্যা পেয়ে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি। আমরা সবাই সত্যিই চমৎকার কাজ করেছি। অকল্যান্ড সিটি হাসপাতালের অসাধারণ দলটিকেও ধন্যবাদ,’ সদ্য জন্ম নেওয়া মেয়ের ছবি দিয়ে ইন্সটাগ্রামে লেখেন আর্ডেন।

ছবিতে তার সঙ্গে জীবনসঙ্গী টেলিভিশন উপস্থাপক ক্লার্ক গেফোর্ডকেও পশমি কম্বলে পেঁচানো সন্তানকে ধরে রাখতে দেখা গেছে।

আর্ডেন যে ছয় সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকবেন, উপ-প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স সে সময়টাতে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন বলে আগেই জানানো হয়েছিল।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পিটার্স ১৯৭৮ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তিনি দেশটির মধ্য-বাম লেবার ও মধ্য-ডান ন্যাশনাল উভয় সরকারের সময়ই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

অগাস্টের শুরুতেই দায়িত্বে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদের কথাও জানিয়েছেন লেবার পার্টির নেতা আর্ডেন।

দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে মা হয়ে বিশ্বের অল্প কিছু নেতার তালিকাতেও ঢুকে গেলেন নিউ জিল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯০ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বেনজির ভুট্টোও সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়েই সন্তানের জন্ম দেওয়া ও মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার কারণে আর্ডেনকে নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা চলছিল। নিউ জিল্যান্ডের সাধারণ জনগণও এ বিষয়ে তুমুল জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল বলে মন্তব্য রয়টার্সের।

নারী স্বাধীনতা বিষয়ে নিউ জিল্যান্ডের খ্যাতি বেশ পুরনো, বিশ্বে তারাই প্রথম (১৮৯৩ সালে) নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছিল।

আরো সংবাদ