এশিয়া

পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বরফ গলবে?

পম্পেও

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ফলে এ বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের পুনরুদ্ধারের চেষ্টাই চলছে বলে অনেকে মনে করছেন। কিন্তু এখনো দুই দেশের মধ্যে মতাদর্শের কিছু পার্থক্য রয়ে গেছে, বিশেষ করে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে। তাছাড়া, কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের জন্য বিলিয়ন ডলার সাহায্য বাতিল করেছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবানকে প্রশ্রয় দিচ্ছে পাকিস্তান, যা দেশটি বরাবর প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ছাড়াও দেশটির সেনাপ্রধানের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন মাইক পম্পেও।

এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের বরফ কতটা গলাতে পারবে?

পাকিস্তানের ডেইলি নিউজ পত্রিকার সাংবাদিক মনির আহমেদ বলছেন, ‘দুই দেশের কর্মকর্তারাই বিশ্বাস করছেন যে, সে সম্পর্ক প্রায় ভেঙ্গে গেছে, সেটি নতুন ভাবে শুরু করার জন্য উভয় দেশই রাজি আছে। আসলে আগে পাকিস্তানের কর্ণধারদের সঙ্গে আমেরিকার কর্মকর্তাদের কথা হতো, তখন আমেরিকান কর্ণধাররা মনে করতেন, তারা যেটি চাইবেন, সেটিই পাকিস্তান মেনে নেবে। তবে এখন পরিষ্কার হয়েছে যে, পাকিস্তানের সরকারের সঙ্গে জনগণের একটি সম্পর্ক রয়েছে এবং পাকিস্তানের ওপর জোর করে কিছু করা যাবে না।’

এই বৈঠকে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে?

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটে আইএমএফের একটি বেল আউটের বিষয়ে কথাবার্তা হচ্ছে।

মনির আহমেদ বলছেন, ‘আগে ওয়াশিংটন আভাস দিয়েছিল যে, তাতে তারা বাধা দিতে পারে। তবে পাকিস্তানে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, যে এরকম বেল আউটে তারা কোন বাধা দেবে না। তবে পাকিস্তান শেষপর্যন্ত এই বেল আউটে যাবে কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়।’

‘সম্প্রতি যে তিনশো মিলিয়ন ডলার কোয়ালিশন সহায়তা তহবিল বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্র, সেটিও এই বৈঠকে প্রাধান্য পেয়েছে। তবে এখানে এসে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা একেবারে বলছেন না যে, ওই তহবিল একেবারে বন্ধ হয়েছে। তারা বলছেন, এটা আবার যেকোনো সময় খুলে দেয়া হবে পারে। তারা চাইছে, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের যে স্বার্থ, সেটি পাকিস্তান বুঝবে। বিশেষ করে উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নেয়া দরকার, সেগুলো তারা দেবে।'

পাকিস্তানের নতুন সরকার কতটা ছাড় দেবে?

ইমরান খান এবং মাইক পম্পেও'র বৈঠকে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং আফগানিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে,আফগানিস্তানে শান্তি ফেরাতে তালেবানের ওপর প্রভাব কাজে লাগাবে পাকিস্তান।

সাংবাদিক মনির আহমেদ বলছেন, ‘পাকিস্তান একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে, আমেরিকা যা চাইছে, তাতে তাদের আপত্তি নেই। তবে ইমরান খান জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান একটি সার্বভৌম দেশ, সুতরাং পাকিস্তানের যেসব স্বার্থ রয়েছে, সেটাও যেন অক্ষুণ্ণ থাকে, সেটি যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে। আমেরিকা চাইছে, তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের যে সম্পর্ক রয়েছে, সেটাকে কাজে লাগিয়ে আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।’


আরো পড়ুন: পাকিস্তানের অর্থ সহায়তাও বাতিলের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ট্রাম্পের কর্মকান্ডে সারা বিশ্বেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের ঘৃণা ও ক্ষোভ বাড়ছে। - ছবি: বিবিসি
জঙ্গিগোষ্ঠী দমনে ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ করা তিনশ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

পেন্টাগনের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল কোনে ফকনারের বরাতে বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই অর্থ অন্য কোনো ‘জরুরি অগ্রাধিকার’ খাতে ব্যয় করবে।

‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সহায়তা নেওয়ার পরও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে’—এর আগে এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সরাসরি সহায়তা বন্ধের ঘোষণা এলো।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করতে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র পাকিস্তান নিজ দেশে হাক্কানি নেটওয়ার্ক ও আফগান তালেবানসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা ঠেকাতে ব্যর্থ বলে দেশটির সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবার এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের মুখপাত্র ফকনার বলেন, ‘সব ধরনের জঙ্গিগোষ্ঠী দমনে পাকিস্তানকে কঠোর হওয়ার ব্যাপারে আমরা চাপ প্রয়োগ করতে চাই।’

পাকিস্তানের নয়া প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সাক্ষাৎ করার একদিন আগে দেশটির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা এলো।

এ বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার পাকিস্তানের ব্যাপারে প্রায় সব ধরনের নিরাপত্তা সহায়তা তহবিল বাতিল করা হবে বলে ঘোষণা দেয়।

জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পাকিস্তান নিজেকে ব্যবহৃত হতে দিচ্ছে বলে বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো অনেকেই অভিযোগ করে আসছে। এছাড়া আফগান সীমান্তে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিয়ে আসছে এরকম অভিযোগও পাকিস্তানের তোলা হয়। যদিও ইসলামাবাদ বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এর আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের ফিলিস্তিন শরণার্থী সংস্থা তহবিলে অর্থ সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।

 

আরো সংবাদ