এশিয়া

দুই কোরিয়ার সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করছে আমেরিকা: উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া মার্কিন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, পিয়ংইয়ংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়ে ওয়াশিংটন দুই কোরিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত দৈনিক রডং সিনমুন এক নিবন্ধে এই বক্তব্য তুলে ধরেছে। পত্রিকাটিকে পিয়ংইয়ংয়ের মুখপত্র বলে মনে করা হয়।

পত্রিকাটি এক নিবন্ধে বলেছে, অনেক কষ্টে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্কের যে সরু সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে তা নস্যাত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকলে তা আমেরিকার জন্য খারাপ পরিণতি বয়ে আনবে।

দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হলে তাতে আমেরিকার কোনো ক্ষতি হবে না বলে নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে। এতে চলতি বছর দুই কোরিয়ার নেতাদের মধ্যে বৈঠকে যেসব সমঝোতা হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমেরিকার যেকোনো ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

রডং সিনমুন আরো বলেছে, দুই কোরিয়ার সম্পর্ক শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাইরের কারো দ্বারা প্রভাবিত হওয়া সিউলের উচিত হবে না।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের একজন প্রতিনিধি বুধবার পিয়ইয়ং সফরে যাচ্ছেন। সফরে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের মধ্যে আরেকটি শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করবেন।

দুই নেতা গত এপ্রিলে প্রথমবারের মতো দু’দেশের সীমান্তবর্তী পানমুনজম গ্রামে বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে কিম ও মুন কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করা, পরস্পর বিরোধী শত্রুতা পরিহার ও পরস্পরের দেশে ভ্রমণ সুবিধা সহজ করতে সম্মত হন।

৬৫ বছর পর পুনর্মিলন দুই কোরিয়ার বিচ্ছিন্ন পরিবারের
রয়টার্স, ২১ আগস্ট ২০১৮

১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়ান যুদ্ধের পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দুই কোরিয়ার অসংখ্য পরিবার। দীর্ঘ সময় পর কোরিয়ার দুই দেশের বিচ্ছিন্ন পরিবারের পুনর্মিলন হচ্ছে। গতকাল সোমবার থেকে দুই কোরিয়ার বিচ্ছিন্ন পরিবারের সদস্যদের পুনর্মিলনী শুরু হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক ও মিসাইল কর্মসূচি ইস্যুতে বিরোধ নিষ্পত্তির কারণে দেশ দু’টির পুনর্মিলন প্রক্রিয়া শুরু হয়। 

দেশ দু’টির বিচ্ছিন্ন পরিবারের সদস্যদের পুনর্মিলন হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার পর্যটন রিসোর্ট মাউন্ট কুমগাংয়ে। চলতি বছরের এপ্রিলে উত্তর কোরিয়ার প্রধান নেতা কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের সাক্ষাতের পর এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এবারের পুনর্মিলনীতে ৫৭ হাজারের বেশি দক্ষিণ কোরিয়ান নিবন্ধন করেছেন। পরিবারের পুনর্মিলনী হচ্ছে শুধু ১১ ঘণ্টা। 

দেশ দু’টির হাজারও পরিবার কয়েক দশক ধরে চলা বিভিন্ন ধরনের বিরোধের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ৯১ বছর বয়সী মুন হিয়ুন সক। তিনি উত্তর কোরিয়ায় তার ছোট বোনের সঙ্গে মিলিত হবেন। তিনি বলেন, আমার বয়স ৯০ পেরিয়ে গেছে। আমি জানি না কখন আমার মৃত্যু হবে। আমি খুবই খুশি আমি বিচ্ছিন্ন পরিবারের সদস্যদের মিলিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। আমার ছোট বোনের সঙ্গে দেখা হবে। মনে হচ্ছে, আমি বাতাসে ভাসছি। অবশ্য কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ কোরিয়া বিচ্ছিন্ন পরিবারের সাক্ষাতের জন্য ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করে আসছে।

রোববার সীমান্তবর্তী অঞ্চল সকচোতে পৌঁছেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা। সোমবারের সাক্ষাতের আগে তাদের সামান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, দুই দেশের ৯৩টি পরিবার তিন দিনের এ পুনর্মিলনীর জন্য প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন করেন। পরে চারজন দক্ষিণ কোরিয়ান নাগরিক স্বাস্থ্যগত কারণে তাদের নিবন্ধন বাতিল করেন।

আরো সংবাদ