এশিয়া

হিজাব পরিধান করাটা উপভোগ করেন ‍ক্রীড়াবিদ জাফরী

এশিয়ান গেমসে মালয়েশিয়ার ‍ক্রীড়া দলের সাথে অংশগ্রহণকারী হিজাবী খেলোয়াড় সিতি নূর সুহায়দা জাফরী। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় হিজাব পরিধানের জন্য কি আপনার ক্রীড়া শৈলী উপস্থাপন করতে কোনো অসুবিধা হয় কিনা? এর উত্তরে তিনি জানান, মুসলিমদের অবশ্য পালনীয় হিজাব পরিধান করাতে তার জন্য কখনো কোনো অসুবিধাজনক মনে হয়নি।

‘আমি আমার এই নির্দিষ্ট পোশাকে একজন ক্রীড়াবিদ হিসাবে সবসময় আমার সর্বোচ্চটা দিতে পারি। আমি হিজাব পরিধান করাটা উপভোগ করি।’ -তিনি এমনটি জানান।

সুহায়দার দল গত বছর কুয়ালামপুরে অুনিষ্ঠিত ২৯তম SEA Games এ সিলভার জয় করেছিল এবং এর আগের বছর সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত SEA Games এ ব্রোঞ্জ জয় করেছিল।

 

হিজাব পরেই মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতার ফাইনালে

ডেইলি মেইল, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হিজাব পরেই মিস ইংল্যান্ড-২০১৮ প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছেন মুসলিম নারী সারা ইফতেখার। এখন স্বপ্ন দেখছেন চূড়ান্ত বিজয়ের। অবশ্য এজন্য তাকে আরো ৪৯ জন প্রতিযোগীর সাথে লড়াইয়ে জিততে হবে।

আজ মঙ্গলবার নটিংহ্যামশায়ারের কেলহ্যাম হলে মিস ইংল্যান্ডের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।


হোদারসফিল্ডের বাসিন্দা ২০ বছর বয়সী সারা একজন আইনের ছাত্রী। এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হলে চীনে মিস ওয়ার্ল্ড ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সারা জানান, প্রতিযোগিতার ফাইনালের পৌঁছানো ‘কতটা দারুণ’ তা তিনি বোঝাতে পারবেন না।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি সেলফি দিয়ে সারা লিখেন, ‘ওয়াও!!! ২০১৮ সালের মিস ইংল্যান্ডের ফাইনালে পৌঁছানোর অনুভূতি বোঝাতে পারবো না। আলহামদুল্লিাহ।’

সারা বলেন, ‘এটা একটা অবিশ্বাস্য অনুভূতি এবং আমি কখনো ভুলবো না।’

সারা মাঝে মধ্যেই পাকিস্তানি ফ্যাশনের পোশাক পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ছবি আপলোড করে থাকেন। এ অ্যাকাউন্টে তার বহু ফলোআর রয়েছে।

হুদারসফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সারা ১৬ বছর বয়সে নিজের ব্যবসা চালু করেন। সারা তার জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার যে অর্থ পেয়েছেন তা দিয়ে একটি দাতব্য সংস্থা খুলেছেন। ‘সারা গোফান্ডমি’ দাতব্য সংস্থাটি দক্ষিণ আমেরিকা, শ্রীলঙ্কা, রাশিয়া, ভিয়েতনামের বাস্তুচ্যুত শিশু এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করে থাকে।

গোফান্ডমি পেজে সারা লিখেন, ‘আমি মিস ২০১৮ প্রতিযোগিতায় যে সৌন্দর্য প্রদর্শনের জন্য অংশ নিয়েছি, তার আসলে কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। প্রত্যেকেই তার নিজের উপায়ে, নির্বিশেষে ওজন, বর্ণ, রং বা আকৃতিতে সুন্দর।

বাংলাদেশী নাজমা খানের আহ্বানে হিজাব পরছেন অন্য ধর্মাবলম্বীরাও
আল জাজিরা, ২৯ মে ২০১৮

সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী গ্রেস লয়েড যখন হিজাব পরে রমজানের প্রথম দিন ক্লাসে ঢুকল, সব সহপাঠীরা তাকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানালো। সহপাঠিদের এমন আচরণে মুগ্ধ গ্রেস। আর তার সহপাঠীর চমকিত গ্রেসের মাথায় হিজাব দেখে। কাতারের রাজধানী দোহার গালফ ইংলিশ স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী গ্রেস লয়েড একজন ব্রিটিশ খ্রিস্টান। তবে খ্রিস্টান হয়েও এই রমজানে সে পুরো মাস হিজাব পরে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মা ইলি লয়েডের সাথে কাতারে বসবাস করে ১১ বছর বয়সী গ্রেস লয়েড। তার মা ‘ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে’ নামক দাতব্য সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও একই সাথে সংস্থাটির কাতার প্রতিনিধি। ইলি লয়েড বলেন, হিজাব শুধু একটি কাপড়ই নয়, এটি মুসলিম নারীদের বিশ্বাসের সাথে যুক্ত।

শুধু গ্রেস নয়, তার মতো আরো অনেকে বিশ্ব হিজাব দিবসের উদ্যোক্তা নাজমা খানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হিজাব পরতে শুরু করেছেন এই রমজানে। ‘হিজাব চ্যালেঞ্জ’ নামের ওই কর্মসূচির আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সব ধর্মাবলম্বী নারীরা হিজাব পরছেন রমজানে। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য মুসলিম নারীদের সাথে সংহতি প্রকাশ ও যারা হিজাবের কারণে বিভিন্ন সময় বৈষম্যের শিকার হন তার প্রতিবাদ।
হিজাব পরার বিষয়ে গ্রেস বলেন, ‘আমি বিষয়টিতে শক্ত অবস্থান নিয়েছি। আমার ক্লাসের সবাই হিজাব পরে, তাই আমার জন্য আরামদায়ক হচ্ছে বিষয়টি।’ অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করার কারণে যে সুবিধা গ্রেস পাচ্ছেন তার বিপরীত চিত্র আছে অন্যত্র। হিজাব চ্যালেঞ্জে সাড়া দিয়ে অনেকেই মুখোমুখী হয়েছেন বিব্রতকর পরিস্থিতির। তবুও তারা দমে যাচ্ছে না।

ব্রাজিলের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী পামেলা জাফরেদও তাদের একজন যারা এই রমজানে পুরো মাস হিজাব পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পামেলার মতে হিজাব তার চোখ খুলে দিয়েছে। ব্রাজিলের মধ্যাঞ্চলীয় গইয়ানিয়া শহরের বাসিন্দা পামেলার জন্ম ক্যাথলিক খ্রিস্টান পরিবারে। মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজাব পরে প্রথম দিন তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি বলেন, সেটি ছিলো সবচেয়ে বাজে দিন আমার জন্য। আমি হিজাব পরে জিমে গেলাম, অনেকেই কটুক্তি করতে লাগলো। গ্রুপ ভিত্তিক ক্লাস হয় সেখানে, কিন্তু আমার সাথে কেউ আসতে চায়নি যতক্ষণ না ইনস্ট্রাটক্টর তাদের ভাগ করে দেয়।’

পামেলা বলেন, এর মাধ্যমে আমি বুঝতে পারছি হিজাব পরার কারণে মুসলিম নারীদের কতটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাদের সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপেক্ষা করা হয়।

বিশ্ব হিজাব দিবসের উদ্যোক্ত নাজমা খান বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তার উদ্যোগেই প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় বিশ্ব হিজাব দিবস। তিনি বলেন, ‘হিজাব পরার কারণে পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিম নারীরা কতটা নিগৃহীত হয় সেটি বুঝতে পারবেন যারা এই কর্মসুচিতে সাড়া দিয়ে একমাস হিজাব পড়বেন।’ নাজমা খান জানিয়েছেন, মুসলিম নারীদের সাথে সংহতি জানিয়ে অন্য ধর্মাবলম্বীদের হিজাব পরার কর্মসুচির ব্যাপক প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে।

মরমন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোক কেয়লা হাজ্জি জানিয়েছন, শুধু হিজাব নয় তিনি এ বছর রোজাও রাখতে শুরু করেছেন মুসলিমদের মতো। যুক্তরাষ্ট্রর ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রেসনোতে বসবাসকারী ৩৫ বছর বয়সী এই নারী বলেন, ‘মুসলিমদের কাছাকাছি না আসলে আমি বুঝতে পারতাম না তাদের সাথে মেশা কতটা আনন্দের’। তিনি চান হিজাব চ্যালেঞ্জের সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়–ক, যা মুসলিম নারীদের অধিকার আদায়ে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, মুসলিম নারীরা তাদের পোশাক নিয়ে কতটা সংগ্রাম করেন সেটিও বুঝতে পারতাম না হিজাব না পরলে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিম নারীদের হিজাব পরার কারণে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দেশটিতে মুসলিমদের ওপর হেট ক্রাইম অনেক বেড়ে গেছে। মুসলিম বিদ্বেষী গ্রুপগুলো প্রায়ই মুসলিমদের দেশ থেকে বের করে দিতে প্রচারণা চালায়। ইউরোপীয়ান আদালতও গত বছর কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় চিহ্ন সম্বলিত পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা নাজমা খান আশা করছেন, এই কর্মসুচির মাধ্যমে সারা বিশ্বে হিজাবের বিষয়ে সচেতনা তৈরি হবে। মুসলিম নারীদের পোশাকের স্বাধীনতার একটি অংশ যে হিজাব সে বিষয়টি সবাই বুঝতে পারবে। এবং সারা বিশ্বে মুসলিম নারীরা কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই হিজাব পরতে পারবেন।

আরো সংবাদ