১৬ জুলাই ২০১৯

‘অনেক হয়েছে’!

ভেনিজুয়েলা
ফাবিয়ানা রোসালেস - ছবি : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা জুয়ান গুয়াইডোর স্ত্রী শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা দিয়েছেন। তার স্বামীর স্টাফদের প্রধানকে গ্রেফতার করার প্রেক্ষিতে তিনি হুমকিমূলক বার্তা দেন।

গুয়াইডোর স্ত্রী ফাবিয়ানা রোসালেস যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার প্রাক্কালে পেরুতে যান। সেখানে তিনি ভেনিজুয়েলার অভিবাসীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মুখোমুখি হন।

সন্ত্রাসে যুক্ত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার আটক করা হয় গুয়াইডোর চিফ অফ স্টাফ রবার্টো মারেরোকে। ফাবিয়ানা এ অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করে বলেন, মাদুরা বিরোধীদের মনোবল ভেঙে দিতে চান। আর এ জন্যই গ্রেফতার।

সমর্থকদের কাছে ভেনিজুয়েলার ফার্স্ট লেডি হিসেবে গণ্য হওয়া ২৬ বছর বয়সী এ সাংবাদিক বলেন, ‘আমরা জানি, আমাদের বিরুদ্ধে কী করা হচ্ছে। আমরা জানি স্বৈরশাসক কেমন ধরনের দৈত্য’।

গত জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলায় গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়, যখন বিরোধী নেতা গুয়াইডো নিজেকে স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। তার অভিযোগ, ২০১৮ সালে মাদুরো অবৈধভাবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

গুয়াইডোকে ল্যাটিন আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলো ভেনিজুয়েলার বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

কিন্তু সেনাবাহিনীর সমর্থন পাওয়া মাদুরো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিজের করে রাখতে সমর্থ হন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র গুয়াইডোকে পুতুল বানিয়ে তার দেশের তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।

রোসালেসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি মাদুরোকে কোনো বার্তা দিতে চান কি-না। তিনি বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে’।

রোসালেস বলেন, সরকারি গোয়েন্দা এবং ‘কালেকটিভ’ নামে পরিচিত সরকারসমর্থিত অস্ত্রধারী গোষ্ঠী তাকে ও তার স্বামীকে দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করে যাচ্ছে। মনিটরিং করা হচ্ছে তাদের গতিবিধি এবং হয়রানি করা হচ্ছে তাদের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধবদের।

‘আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যেই জেলে যাওয়া বা হত্যার হুমকি পেয়েছি’, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু তাদের এটা বুঝতে হবে যে, এ যুদ্ধে আমাদের আদর্শ ও মনোবল কখনো ভাঙবে না। যদি তারা মনে করে মারেরোকে গ্রেফতার করে আমারে মনোবল ভেঙে দেবে, তাহলে এটা তাদের ভুল ধারণা।’

রয়টার্স জানায়, এ ব্যাপারে ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি পাওয়ার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

গত শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে ৩৫ বছর বয়সী গুয়াইডোও রয়টার্সকে বলেছিলেন, তিনি এবং তার দলের আরো অনেকে গ্রেফতারের জন্য প্রস্তুত আছেন। কিন্তু মাদুরোর সরকার সেদিকে এগোননি।

রোসালেসের দাবি, গুয়াইডোর স্বেচ্ছা কারাবরণের ঘোষণায় মাদুরো অনেক ভয় পেয়ে যান।

কার সাথে সাক্ষাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন, সে ব্যাপারে কিছু জানাননি রোসালেস। তবে তিনি এটা নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি নিউইয়র্ক ও মিয়ামিতে যাবেন।

‘আমরা দেখতে চাই, আগামী দিনগুলোতে কী হচ্ছে। কিন্তু আমি এটা নিশ্চিত যে, ভেনিজুয়েলার স্বাধীনতা আমাদের আরো কাছে চলে আসছে’, বলেন রোসালেস।


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi