২৫ মার্চ ২০১৯

ভেনেজুয়েলায় হাতে হাতে স্বর্ণের টুকরা

ভেনেজুয়েলার ভিন্ন ধরনের স্বর্ণ বাণিজ্য - ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাদের মুদ্রার দাম পড়ে গেছে আর সেই জায়গা দখল করেছে স্বর্ণ৷ বর্তমানে তাই ৩ লাখ মানুষ খনিসমৃদ্ধ এলাকায় নিজেদের ভাগ্য অনুসন্ধান করছেন৷

ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ‘‘২০১৬ সাল থেকে মাদুরো সরকার ১৭ টন সোনা ৬৫ কোটি ডলারে কিনেছে খনি শ্রমিকদের কাছ থেকে৷’’ মাদুরোর স্বর্ণ কর্মসূচি বেশ পরিচিত৷ কিন্তু কীভাবে এই কর্মসূচি কাজ করে তা জানতে রয়টার্সের সাংবাদিকরা ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে জঙ্গলের ভেতরের খনি পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়েছেন৷ পাশাপাশি স্বর্ণ পরিশোধনের স্থান এবং খাদ্য রপ্তানি বোর্ডেও গেছেন৷ মোট ৩০ জন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন তারা৷ প্রত্যেকটি সেক্টরের মানুষই নাম গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন৷ ভেনেজুয়েলা এবং মার্কিন সরকারকে ভয় তাঁদের৷

ভেনেজুয়েলায় খনি খাতকে জাতীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন৷ এ খাতের জন্য রাষ্ট্রীয় কোনো নিয়ম-নীতি নেই৷ ফলে প্রায়ই এসব খনিতে ঘটে দুর্ঘটনা৷ পাশাপাশি ডাকাতি আর খুনোখুনি লেগেই থাকে৷ খনিতে কাজ করা ১৮ বছর বয়সি এক কিশোর জানালো, ‘‘খনিতে কী হচ্ছে সবই সরকারের জানা, কিন্তু যেহেতু তারা লাভবান হচ্ছে, তাই এ নিয়ে কোনো কথা বলে না৷ আমাদের সোনা তাদের হাতে চলে যায়৷’’

ভেনেজুয়েলার বেশিরভাগ স্বর্ণ তুরস্কে পরিশোধনাগারে পাঠানো হয়৷ পরে তার বিনিময়ে তুরস্ক থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনা হয়৷ তুর্কি পাস্তা এবং গুড়ো দুধ এখন মাদুরোর খাদ্য কর্মসূচির প্রধান অংশ৷ গত বছর থেকে দুই দেশের মধ্যে এই বাণিজ্যিক আদান-প্রদান বেড়েছে৷ কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে৷ বিরোধী নেতা গুয়াইদোকে সমর্থন দিয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব৷

৪৭ বছর বয়সী এক খনি শ্রমিক জানালেন, ২০১৬ সালে ভেনেজুয়েলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দুই ছেলেকে নিয়ে কাজ করতে যান তিনি৷ মাসে তারা তিনজন মিলে প্রায় ১০ গ্রাম স্বর্ণ আহরণ করতেন৷ তা থেকে যে আয় হতো, সেই আয়ের পরিমাণ আগের পেশার আয়ের ২০ গুণ বেশি৷

স্বর্ণের ছোট ছোট বার তারা এল সালাও শহরে গিয়ে বিক্রি করেন৷ বেশিরভাগ ক্রেতার কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই৷ বাইরে থেকে দোকানের দরজা বন্ধ থাকে৷ কেবল পরিচিতরাই জানতে পারে ভেতরে কারা আছে৷ লাইসেন্স আছে এমন একজন ক্রেতা জানালেন, ‘‘রাষ্ট্র স্বর্ণ কিনছে, প্রত্যেকেই কিনছে৷ কেননা, এতে লাভ অনেক৷’’ সেই ক্রেতা আরো জানান তিনি যেসব স্বর্ণ কেনেন, সেগুলো প্রতি তিনদিন পর পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গিয়ে বিক্রি করেন৷ ভেনেজুয়েলার মুদ্রা বলিভারের দাম পড়ে যাওয়ায় এখন স্বর্ণই মুদ্রার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে৷ এসব স্বর্ণ পাচার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ডলারে বিক্রি হচ্ছে৷

অবশ্য, গত বছরের ১ লা নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন যাতে তারা ভেনেজুয়েলা থেকে স্বর্ণ না কেনে৷ ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিবিদ অ্যাঞ্জেল আলভারাদো জানান, স্বর্ণ নিয়ে যে বাণিজ্য চলছে, তা অন্ধকারের বাণিজ্য৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al