২৪ আগস্ট ২০১৯

জমি চাষ করতে গিয়ে ৪ টনের সোনার মুখোশ

সোনার মুখোশ
জমি চাষ করতে গিয়ে ৪ টনের সোনার মুখোশ - ছবি : সংগৃহীত

কলম্বিয়ার ককা উপত্যকায় একটি আখের খেতে ট্রাক্টর চালাচ্ছিলেন এক কৃষিজীবী। আচমকাই ধাতব এক শব্দ। মাটির নীচ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় চার টনের আস্ত সোনার মুখোশ। ফলে প্রকাশ্যে আসে মালাগানা সংস্কৃতির বেশ কিছু অজানা কথা। শুধুমাত্র একটা সোনার মুখোশকে কেন্দ্র করে খুন, লুটপাট- একের পর ঘটনায় এর পর সরগরম হয়ে ওঠে ওই এলাকা।

কলম্বিয়ার ককা উপত্যকায় পাওয়া এই সোনার মুখোশ প্রথম লুকিয়ে রেখেছিলেন ওই কৃষিজীবী। কিন্তু এই খবর চাপা থাকেনি। প্রায় ৫০০ বর্গমিটার বিস্তৃত ছিল এই চাষের জমি, যা পরে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের তকমা পায়।

এই মুখোশের জন্য খুনোখুনিও হয়। ১৯৯২ সালে ওই একই এলাকা থেকে মালাগানা সংস্কৃতির বেশ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী উদ্ধার হয়। এর মধ্যে অন্যতম একটা সোনার চিমটে, যা ভ্রূ ঠিক করতে ব্যবহার করতেন প্রাচীনকালের অভিজাত ব্যক্তিরা। প্রত্নস্থল থেকে সোনা লুটের সময়ই ১৯৯৩ সালে এক ব্যক্তি এখানে খুন হন।

চার টনের মুখোশ মেলায় শত শত সমাধি ধ্বংস করা হয় এরপর। আরও বেশি সোনা খুঁজে পাওয়ার লোভে লুট হতেই থাকে। ধীরে ধীরে প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছে ওই সংস্কৃতির নানা অজানা তথ্য সামনে আসে। স্থানীয় লুটেরাদের হাত থেকে ওই স্থানটি রক্ষা করতে সচেষ্ট হন তারা।

বহু গবেষণার পর সম্প্রতি জানা গিয়েছে, ৩০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দ অর্থাৎ প্রায় ৬০০ বছর পর্যন্ত স্থায়িত্ব ছিল এখানকার সভ্যতার। এই সংস্কৃতিকে বলা হত কালিমা সংস্কৃতি। মাটির নীচে সন্ধান মিলেছিল এই সভ্যতারই নানা সামগ্রীর।

ইয়ামাস, ইয়োতোকো, সোনসো ও মালাগানা এই চার ভাগে বিভক্ত ছিল এই সংস্কৃতি। প্রাপ্ত প্রত্নসামগ্রী থেকে সেই চার রকম সংস্কৃতিরও আভাস মিলেছে। তার মধ্যেই সবচেয়ে নজরকাড়া ছিল সোনার মুখোশটি।

সোনার বিভিন্ন সামগ্রী ছাড়াও রহস্যময় সমাধি ও সেরামিকের মডেলও পাওয়া গিয়েছে বেশ কয়েকটি। কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার মুসেও দেল ওরো অর্থাৎ সোনার সংগ্রহশালায় রাখা রয়েছে এই প্রত্নসামগ্রীগুলি। প্রায় ১৫০টি মুখোশ ও গয়না মিলেছিল এই খননের ফলে। তত্কালীন প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের মু্দ্রাও মিলেছিল।

ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর সমাধিস্থ করার সময় এই মারাত্মক বড় মুখোশ পরানো হত সেই সময়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের। এদের মধ্যে পুরোহিত ও অভিজাত ব্যক্তিরাও ছিলেন। কেউ কেউ এমনিও এই ধরনের মুখোশ ব্যবহার করতেন, এমনটাও বলেছেন কয়েক জন ইতিহাসবিদ।

২০১২ সাল পর্যন্ত এই স্থানে কড়া পাহারা থাকলেও লুঠের চেষ্টা হয়েছে বার বার। শুধু কৃষিকাজ নয়, নগরায়নের ফলে এই সংস্কৃতির বেশ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানও ধ্বংস হয়েছে আগেই।

স্থানীয়দের মধ্যে এই প্রত্নস্থল নিয়ে উৎসাহ রয়েছে এখনও। তারাই চেষ্টা করছেন এই সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখার। সম্প্রতি একটি প্রদর্শনীও করার কথা চলছে এই সোনার মুখোশসহ অন্যান্য সামগ্রীগুলি নিয়ে। প্রাচীন আমলের ওই সোনার মুখোশের অমূল্য বলেই দাবি করেছেন ইতিহাসবিদরা।


আরো সংবাদ

খালেদা জিয়ার মুক্তি মানে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মুক্তি : সেলিমা রহমান কাশ্মিরে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী আমাজনে আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করছে ব্রাজিল ফেসবুকে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেফতার এমপিদের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জে আপিল দায়ের টুনির বাড়িতে কেন গেলেন মাশরাফি গ্রেনেড হামলার আসামীদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে : কাদের উত্তর কোরিয়ার নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ বাঁচার জন্যে একটু সহানুভূতি চায় ক্যান্সারে আক্রান্ত সাদিয়া ষড়যন্ত্র সামনে আরো ব্যাপক আকার ধারণ করবে : শামীম ওসমান যুবলীগ নেতা হত্যায় অভিযুক্ত ২ রোহিঙ্গা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

সকল

ভারতের হামলার মুখে কতটুকু প্রস্তুত পাকিস্তান? (২৭৭২২)জামালপুরের ডিসির নারী কেলেঙ্কারির ভিডিও ভাইরাল, ডিসির অস্বীকার (২৭৪২৬)কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন নোবেল (১৯৩২৬)‘কাশ্মিরি গাজা’য় নজিরবিহীন প্রতিরোধ (১৯০১৫)ভারত কেন আগে পরমাণু হামলা চালাতে চায়? (১৮৭০০)সেনাবাহিনীর গাড়িতে গুলি, পাল্টা গুলিতে সন্ত্রাসী নিহত (১৮৩৫২)কাশ্মির সীমান্তে পাক বাহিনীর গুলিতে ভারতীয় সেনা নিহত (১৩৭৫২)দাম্পত্য জীবনে কোনো কলহ না হওয়ায় স্বামীকে তালাক দিতে চান স্ত্রী (১২৫৩৫)প্রিয়াঙ্কাকে সরাতে পাকিস্তানের চিঠির জবাব দিয়েছে জাতিসংঘ (৮৩৮৪)রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে যে বার্তা দিল চীন (৭৭২৬)



mp3 indir bedava internet