১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে নারীবাদীদের ব্যতিক্রমী বিক্ষোভ

সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে নারীবাদীদের বিক্ষোভ -

পঞ্চাশ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে 'মিস আমেরিকা' সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামলেন একদল নারী। ব্রা খুলে হাতে নিয়ে মিছিলে শরিক হয়েছিলেন তারা। নারীবাদীরা তাদের ব্রা পুড়িয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন বলে এরপর যে কাহিনী দিকে দিকে পড়েছিল, তার শুরু এখান থেকেই।

ব্রা পোড়ানো নারীবাদীর যে কাল্পনিক ইমেজ বা ছবি এরপর জনমানসে তৈরি হলো, সেরকম ঘটনা কি বাস্তবেই ঘটেছিল?

একদল নারী সেদিন প্রতিবাদের অংশ হিসেবে অনেক কিছুই ছুঁড়ে ফেলেছিলেন- ঘর মোছার মপ, লিপস্টিক, হাই হীল জুতা। তাদের কাছে এসব ছিল নারীর পরাধীনতার প্রতীক। একটি 'ফ্রিডম ট্র্যাশ ক্যান' বা 'স্বাধীন ময়লার ঝুড়ি'তে তারা এসব ছুঁড়ে ছুঁড়ে মারছিলেন।

সেই প্রতিবাদের সংগঠকদের একজন ছিলেন রবিন মর্গান। তারা পথচারীদেরও তাদের আন্দোলনে সামিল হওয়ার ডাক দিচ্ছিলেন।

‘আমার মনে আছে এক তরুণী তার ব্রা খুলে ফেললো। শার্টের নীচ থেকে সে তার ব্রা খুলে বের করে আনলো তারপর সবার উল্লসিত চিৎকারের মধ্যে সেটি ছুঁড়ে ফেললো।’

সারা বিশ্বে সংবাদ শিরোণাম হলো সেই ঘটনা। নারীবাদীদের সেই প্রতিবাদ হয়ে গেল ইতিহাসের অংশ।

এই বিক্ষোভে যারা যোগ দিয়েছিলেন, তারা এর আগেও নানা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে আমেরিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন কিংবা ভিয়েতনাম যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলন। কিন্তু নারীর অধিকারের জন্য রাস্তায় নামা অনেকের জন্য ছিল সেই প্রথম।

‘তখন আমরা তরুণ বিপ্লবী। মাত্র নারীবাদকে আবিস্কার করছি’, বলছেন রবিন মর্গান। তারা বুঝতে পারছিলেন এটা এমন এক যুদ্ধ, যেটা তাদের নিজেদেরই করতে হবে।

‘আমরা জানতাম যে ডানপন্থী পুরুষরা আমাদের মিত্র নয়। আর বামপন্থী পুরুষদের আমরা নিজেদের ভাই বলে গণ্য করলেও পরে যখন নিজেদের অধিকারের কথা বলতে শুরু করলাম তখন দেখলাম আসলে তা নয়।’

৫০ বছর পরেও যে সেদিনের সেই আন্দোলন এতটা ঢেউ তুলবে, সেটা তারা ভাবতে পারেননি।

সত্যিকারের নারীবাদী আন্দোলনের ঢেউ সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিল বলে কোন কোন ইতিহাসবিদ বলে থাকেন।

‘এটা শুনতে বেশ ভালো লাগলেও আসলে তা নয়। তারও আগে ন্যাশনাল অর্গেইজেশন ফর উইমেনের মতো নারীবাদী সংস্থা তার আগে থেকেই ছিল’, বলছেন রবিন মর্গান।

কিন্তু সেদিনের প্রতিবাদের যে ছবিটা জনমানসে গেঁথে গিয়েছিল, তা হচ্ছে নারীবাদীরা তাদের ব্রা পুড়িয়ে ফেলছে! যেটি আসলে বাস্তবে ঘটেইনি।

১৯৬৮ সালে 'মিস আমেরিকা' সুন্দরী প্রতিযোগিতায় কেবল বিশেষ ধরণের নারীর সৌন্দর্যকেই বিবেচনায় নেয়া হতো।

‘প্রতিযোগীদের সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে, তাদের শ্বেতাঙ্গ হতে হবে’ এই নিয়ম অবশ্য ততদিনে পাল্টেছে। কিন্তু মিস আমেরিকা প্রতিযোগিতায় তখনো পর্যন্ত কোন অশ্বেতাঙ্গ নারী জিততে পারেননি।

‘১৯২১ সালে এই প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর একজন কৃষ্ণাঙ্গও কোনদিন এর ফাইন্যালে পৌঁছায়নি’, ট্র্যাশ ক্যান বিক্ষোভের একটি প্রেস রিলিজে এভাবেই এই আন্দোলনের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। ‘কখনো কোন পুয়ের্তোরিকান, আলাস্কান, হাওয়াইয়ান বা মেক্সিকান আমেরিকান এতে জেতেনি। এমনকি একজন সত্যিকারের মিস আমেরিকান, অর্থাৎ ইন্ডিয়ান আমেরিকানও নয়।’

সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা যে দশটি আপত্তি তুলে ধরেছিলেন, বর্ণবাদ ছিল তার একটি।

৫০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে নারী অধিকার আন্দোলন এখন আবারও খবরের শিরোণামে। নারীদের মিছিল এবং 'মি-টু' আন্দোলন আবারও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে নারীবাদী আন্দোলনে। ৫০টি রাজ্যের নির্বাচনে এবার রেকর্ড সংখ্যাক নারী নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে।

রবিন মর্গান অভিভূত এই জাগরণ দেখে। ‘এদের মধ্যে গৃহিনী আছেন, শিক্ষক আছেন, ক্যাশিয়ার আছেন। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অনেক হয়েছে, এবার ঘুরে দাঁড়ানোর সময়।’

আজকে যদি আবার 'ফ্রিডম ট্র্যাশ ক্যান' আন্দোলন হয়, তাতে কি ছুঁড়ে ফেলবেন তারা?

‘সব প্রধান ধর্মের সব প্রতীক। কারণ তারা এত বেশি পুরুষতান্ত্রিক।’

এছাড়া হাই হীল জুতা, আন্ডারওয়্যার এবং সহিংসতায় ভরা পর্ণোগ্রাফিরও আছে তার তালিকায়। তিনি ছুঁড়ে ফেলতে চান ওপিয়ডের মতো ড্রাগ এবং ডায়েট পিলও। তার কাছে এসব কিছু নারীকে পুরুষের অধীন রাখার আয়োজন ছাড়া আর কিছু নয়।

‘আমি ভেতরে ভেতরে আসলে একজন কবি। প্রতীক এবং উপমা- এসব আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব যে কত শক্তিশালী তা আমি জানি। 'ফ্রিডম ট্র্যাশ ক্যান' কত শক্তিশালী তা আমি বুঝি।’

 

আরো পড়ুন: ব্রাসেলসে ইসি দফতরে ৪৫০০ জুতা রেখে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

ডেইলি সাবাহ, ৩০ মে ২০১৮

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে চাপ সৃষ্টির জন্য ইউরোপিয়ান সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক নাগরিক গ্রুপ আভাজ ক্যাম্পেইন। ব্রাসেলসে ২৮ জুন শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের আগে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের মাধ্যমে ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি সঙ্ঘাতের ব্যাপারে ইউরোপের পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানায় তারা।

তারা গত দশ বছরে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে নিহত ফিলিস্তিনিদের স্মরণে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ভবনের সামনে সাড়ে চার হাজার জুতা রেখে প্রতিবাদ জানায়।

আভাজ ক্যাম্পেইনের পরিচালক বলেন, ফিলিস্তিনিদের জীবনও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আর তা আপনাদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। ইসরাইলের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে এটি আমাদের ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতাতানিয়াহুকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়া আমাদের ওপর নৈতিক দায়িত্ব যে, ফিলিস্তিনে চালানো সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আধুনিক এই যুগেও ফিলিস্তিনে জাতিবিদ্বেষে যা ঘটছে, ইউরোপের এক্ষেত্রে চোখ বন্ধ করে থাকাটা ইসরাইলকে রক্ষা করতে পারবে না। এটি কেবল আমাদের মানবিকতাকেই নিচে নামিয়ে দিচ্ছে।

জাতিসঙ্ঘের হিসাবে, গত সাত সপ্তাহে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ১০০ ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী মারা গেছে। এদের মধ্যে শিশু, সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সব ধরনের লোকই রয়েছে। এ সময় এক হাজার শিশুসহ ১২ হাজার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। আবার অনেকের অঙ্গহানির আশঙ্কার রয়েছে। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার সংস্থা এসবের জন্য ইসরাইলের তীব্র সমালোচনা করলেও ইসরাইল তাতে কোনো কর্ণপাত করেনি।


আরো সংবাদ

দৃশ্যমান হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের (২০৬৮৮)মাংস রান্নার গন্ধ পেয়ে বাঘের হানা, জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে জ্যান্ত খেল নারীকে (১৭৯১২)ব্রিটেনের প্রথম হিজাব পরিহিতা এমপি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আপসানা (১৪৪০২)চিকিৎসার নামে নারীর গোপনাঙ্গে হাত দিতেন ভারতীয় এই চিকিৎসক (১১৪৮১)ব্রিটেনে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের যারা নির্বাচিত হলেন (১১৪১৬)নির্দেশনার অপেক্ষায় বিএনপির তৃণমূল (৯৫০১)দৈনিক সংগ্রাম কার্যালয়ে হামলা, সম্পাদক পুলিশ হেফাজতে (৯৪৪১)আরো এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে তুরস্ক; নয়া হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের (৭৯৬১)ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না : রাহুল (৭৮০৭)বিক্ষোভের আগুন আসামে এতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়াবে, ভাবেননি অমিত শাহেরা (৭০৫৬)



hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik