২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ড্রোন হামলা থেকে বেঁচে গেলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট

ড্রোন হামলা থেকে বেঁচে গেলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট - ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর লাইভ বক্তব্য দেয়ার সময় ড্রোন বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। তবে তিনি অক্ষতই রয়েছেন।

যোগাযোগ মন্ত্রী হোর্জে রডরিগুজ বলেছেন, মাদুরোকে হত্যা করতেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল, যাতে সাতজন সৈনিক আহত হয়েছে।

সামরিক বাহিনীর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর ওই অনুষ্ঠানটি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল। তাতে দেখা যায়, তিনি বক্তব্য দেয়ার সময় হঠাৎ ওপরের দিকে তাকান। এরপরই অডিও বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রচার বন্ধ হওয়ার আগে দেখা যায়, অনেক সৈনিক ছোটাছুটি করছেন। নেপথ্যে বিস্ফোরণের মতো শব্দও শোনা যায়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন, তার ওপরে বোমা ভর্তি দুইটি ড্রোনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে কোনো গ্রুপ ওই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি।

কিন্তু যোগাযোগ মন্ত্রী রডরিগুজ হামলার জন্য ডানপন্থী বিরোধী দলকে দায়ী করেছেন। তার বক্তব্য, ভোটে হারার পর তারা আবার এখানেও হেরেছে। এ ঘটনার পর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন মাদুরো।

গত বছরের জুনে একজন হেলিকপ্টার পাইলট দেশটির সুপ্রিম কোর্টে গ্রেনেড হামলা করেছিলেন। পাইলট অস্কার পেরেজ দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে মানুষকে জাগিয়ে তুলতে তিনি ওই হামলা করেছিলেন। এ বছর জানুয়ারিতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে তিনি মারা যান।

বিরোধীরা বলেন, নিকোলাস মাদুরো দেশটির বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে বিরোধীদের দমন নির্যাতন করছেন। তবে তার সমর্থকদের দাবি, তিনি দেশকে অভ্যুত্থান থেকে রক্ষা করেছেন।

তেল সমৃদ্ধ এই দেশটিতে চরম অর্থনৈতিক মন্দার ভেতর গত মে মাসে তিনি পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

আরো পড়ুন :

অনিবন্ধিত অভিবাসী সুরক্ষা কর্মসূচি বলবতের নির্দেশ মার্কিন আদালতের
রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের সুরক্ষায় থাকা ‘ডাকা কর্মসূচি’ বলবৎ রাখার আগের আদেশটিই বহাল রেখেছে। ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল কোর্টের বিচারক জন বেটস রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সরকার পক্ষকে সময় বেঁধে দিয়েছেন।

‘ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস’ (ডিএসিএ) নামের পরিচিত ওই কর্মসূচির বিধিতে বলা হয়েছে, শিশু অবস্থায় অনিবন্ধিত অভিবাসী হিসেবে যারা যুক্তরাষ্ট্রের গিয়েছিল তাদেরকে প্রত্যর্পণ করা যাবে না। ট্রাম্প প্রশাসন কর্মসূচিটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মার্কিন ডিসট্রিক্ট জজ জন বেটস গত এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো ‘ডাকা’ কর্মসূচি চালু রাখার আদেশ দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার তিনি বলেছেন, তার আগের আদেশই বলবৎ রয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে যুক্তি দেয়া হয়েছে ‘ডাকা’ বাতিলের পক্ষে তা রায় বদলে দেয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। ‘ডাকা’র অধীনে প্রায় সাত লাখ অল্প বয়সী অনিবন্ধিত অভিবাসী প্রত্যর্পণের হাত থেকে আইনি সুরক্ষার সুযোগ পেয়েছিল। ড্রিমারস নামে পরিচিত এই অভিবাসীদের প্রতি দুই বছর পরপর সরকারের কাছ তাদের ওয়ার্ক পার্মিট নবায়ন করতে হতো। ২০১২ সালে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে কর্মসূচিটি শুরু হয়েছিল।
শুক্রবারের রায়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ ওই রায়ে নতুন আবেদনকারীদের আবেদন গ্রহণেরও আদেশ রয়েছে। আরো দু’টি মামলা ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইয়র্কে দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু সেসব মামলার বিষয়বস্তু ছিল ড্রিমারদের আবেদন নবায়ন করা হবে কি না সে বিষয়ে। ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদলতে বিচারক বেটসের দেয়া রায়ের ফলে এখন ট্রাম্প প্রশাসনকে ডাকার আওতায় অনিবন্ধিত ড্রিমার অভিবাসীদের নতুন আবেদনও গ্রহণ করতে হবে। বেটস নিজে একজন রিপাবলিকান। সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে তিনি নিয়োগ পেয়েছিলেন।

‘ডাকা’ বাতিল করানোর জন্যও আইনি প্রচেষ্টার উপস্থিতি রয়েছে। টেক্সাসে হওয়া একটি মামলায় ‘ডাকা’ কর্মসূচি বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র শুক্রবার আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, পর্যায়ক্রমে ডাকা বিলুপ্ত করার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং কর্মসূচিটি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তারা আইনগতভাবে বৈধ কর্তৃপক্ষ।
ড্রিমারস নামে পরিচিত অল্প বয়সী অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা করতে চেয়েছিল কংগ্রেস। তাদের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ করে দিতে আইন প্রণয়নের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন ডাকা সমর্থক রাজনীতিবিদরা। ‘ডাকা’ কর্মসূচি বলবতের পক্ষে যেসব সংগঠন মামলাটি দায়ের করেছিল তাদের মধ্যে রয়েছে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানও।

বিচ্ছিন্ন শিশুদের বাবা-মাকে খোঁজার দায়িত্ব সরকারের : মার্কিন বিচারক
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের পুনর্মিলনের নির্দেশ দেয়া ফেডারেল বিচারক শুক্রবার বলেছেন, যেসব বাবা-মাকে তাদের সন্তানদের ছাড়াই দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে সেসব বাবা-মাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র সরকারের। 

বৃহস্পতিবার আদালতে জমা দেয়া সরকারি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এখনো সরকারি নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা ৫৭২ অভিবাসী শিশুর মধ্যে ৪১০ শিশুর বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রয়েছে। সান দিগো দফতর থেকে মার্কিন জেলা বিচারক ডানা সাব্রাউয়ের টেলিফোন কনফারেন্সের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ‘এসব বাবা-মায়ের অনেককে তাদের সন্তানকে ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হয়। মার্কিন সরকারের এ বিতাড়ন অভিযানের ফলে এসব শিশু তাদের বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং পরে একত্র হতে ব্যর্থ হয়। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে বাস্তবতা হচ্ছে সন্ধান না পাওয়া প্রত্যেক বাবা-মাকে এখন খুঁজে বের করার শতভাগ দায়িত্ব মার্কিন প্রশাসনের।’

এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার গ্রুপ জানিয়েছে, এসব শিশুর বাবা-মাকে কিভাবে খুঁজে বের করা যায় সে ব্যাপারে তারা সহযোগিতা করতে পারে। তবে এসব শিশুর বাবা-মাকে খুঁজে বের করার সার্বিক দায়িত্ব অবশ্যই সরকারকে নিতে হবে।


আরো সংবাদ

খুলনা-মংলা রেলপথ প্রকল্প : তৃতীয় দফা সময় বৃদ্ধির আবেদন সংসদ নির্বাচনে ভোটের হিসাব বড়াইগ্রামে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত সুনামগঞ্জ সীমান্তে কয়লা ও মাদক পাঁচার রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রলীগের গিনেস বুকে ঢাকার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পার্লামেন্টে থেকেই নির্বাচন করবো : জাতীয় ঐক্যের দাবি মানা হবে না : ফিরোজ রশীদ সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিকে কারাগারে পাঠানোয় যা বলল ছাত্রশিবির ৩৭৩৬ কাল্পনিক মামলার তদন্ত কমিশন গঠনের শুনানি হয়নি বিরোধী দলের বিজয় মেনে নিয়েছে মালদ্বীপ সরকার ইসলামকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ দলের নাম বদলালো মালয়েশিয়ান ওয়ার্কার্স পার্টি

সকল