১৮ জুলাই ২০১৯

নির্বাচিত হয়ে বেতন কমানোর ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট

নির্বাচিত হয়ে বেতন কমানোর ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট - সংগৃহীত

বেতনভাতা ৬০ শতাংশ কমানোর কথা জানিয়েছেন মেক্সিকোর নবনির্বাচিত বামপন্থী প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর। আগামী ডিসেম্বরে তিনি ছয় বছরের জন্য লাতিন আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর বেতনভাতা বাবদ ৪০ শতাংশ পরিমাণ অর্থ নেবেন বলে জানান তিনি। 

রোববার দেশটির রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে তার নির্বাচনী ক্যাম্পের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর এসব কথা বলেন। সমর্থকেরা এ সময় তার এ ঘোষণাকে মুহুর্মুহু হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই বাজেটের সবকিছু সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাক।’

দ্য লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের খবরে বলা হয়, আগামী ডিসেম্বর মাসে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এনরিক পি এ নেতোর কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর। এরপরই বেতনভাতার ৪০ শতাংশ অর্থ নেবেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের মাসিক বেতন-ভাতা ২ লাখ ৭০ হাজার পেসো।

সাংবাদিকদের আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর বলেন, তিনি মাসে ১ লাখ ৮ হাজার পেসো (৫ হাজার ৭০৭ মার্কিন ডলার) বেতন হিসেবে নেবেন। তিনি বলেন, তার ছয় বছরের মেয়াদে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন যেন প্রেসিডেন্টের বেতনের চেয়ে বেশি হবে না। উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সুবিধা যেমন, গাড়ির চালক, দেহরক্ষী ও ব্যক্তিগত চিকিৎসাবিমা-সংক্রান্ত খরচগুলো কমানোর পরিকল্পনাও তাঁর রয়েছে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে মেক্সিকো ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালে দুর্নীতির সূচকে ১৮০ দেশের মধ্য ১৩৫তম।

আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের তাঁদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করতে হবে। দুর্নীতি এ দেশে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। মন্ত্রিসভার ব্যয় আরও কমানোর ইচ্ছা তাঁর আছে। মন্ত্রিসভার অপর সদস্য যাঁরা বেসরকারি খাতের চাকরি ছেড়ে এসেছেন, তাঁদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে আপাতত সেই পরিকল্পনা বাদ দিচ্ছেন তিনি।

বিজয়ের খবর আসার পর একটি হোটেলে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর। পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। মেক্সিকো সিটি, ১ জুলাই। ছবি: এএফপিপ্রসঙ্গত, গত সপ্তাহ থেকে ওব্রাদোর তার আগামী বছরের আর্থিক খাতে ব্যাপক মিতব্যয়িতার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। সেখানে অপ্রয়োজনীয় সংসদীয় কমিটিগুলো বিলোপ, রাজনীতিকদের বেতন কমানোসহ আরও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সরকারের ব্যয় হ্রাসের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বল্গাহীন দুর্নীতি আর সহিংসতায় ক্ষুব্ধ জনরোষের ঢেউয়ে চড়ে এ মাসের শুরুর দিনে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বামপন্থী আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর। এ জয়ে দেশটির মূলধারার রাজনীতি পাল্টে দেওয়ার পাশাপাশি লোপেজ ওব্রাদরকে নতুন করে দেশ গড়ে তোলার একচেটিয়া অধিকার দিয়েছে। তাঁর বিজয় লাখো মেক্সিকানের মনে আশার সঞ্চার করেছে এবং ধনীদের বুকে কাঁপন ধরিয়েছে। এই ফলাফলে দেশটির বিরাজমান অবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করার সুস্পষ্ট চিত্র প্রকাশ পেয়েছ। সিকি শতক ধরে মেক্সিকো মধ্যপন্থী রাজনৈতিক চিন্তা ও বিশ্বায়নের দর্শন দ্বারা পরিচালিত হয়। বহু মেক্সিকানেরই ধারণা, এই আদর্শ তাদের জন্য সুফল বয়ে আনেনি।

লোপেজ ওব্রাদরের মূল নির্বাচনী ওয়াদা—দুর্নীতির অবসান, সহিংসতা হ্রাস এবং মেক্সিকোর দেশব্যাপী দারিদ্র্য দূরীকরণ—ভোটারদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। তবে এগুলোর সঙ্গেই চলে আসে অনেক প্রশ্ন, যেগুলোর উত্তর দিতে তিনি ও তাঁর সরকারকে বেগ পেতে হতে পারে।

ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হোসে অ্যান্তিনিও মেয়াদিকে হারিয়েছেন ওব্রাদর। গত শতকের বেশির ভাগ সময় রাজনীতিতে কর্তৃত্ব করেছে মেয়াদির দল কনস্টিটিউশনাল রেভল্যুশনারি পার্টি (পিআরআই)। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩০ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে অনেক প্রার্থী ও দলের কর্মী ছিলেন। লোপেজ ওব্রাদর তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়েছেন। অবশেষে তিনি সোনার হরিণের দেখা পেলেন।

দেশটিতে মোট ভোটার প্রায় ৮ কোটি ৮০ লাখ। তারা শুধু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেননি, ১২৮ সিনেটর এবং কংগ্রেসে ৫০০ জন ডেপুটি নির্বাচিত করেছেন তারা।

জয়ের পর দেশটির গণমাধ্যমকে লোপেজ ওব্রাদর বলেছিলেন, জনগণ তাকে সমর্থন করেছে, এতে তিনি খুব খুশি। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর অন্যতম প্রতিশ্রুতি হবে দুর্নীতিকে ঠাঁই না দেওয়া। একই সাথে কোনো অপরাধী যেন ছাড় না পায়। আমরা মেক্সিকো থেকে সব অপরাধ উপড়ে ফেলব।’


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi