১৩ নভেম্বর ২০১৮

ট্রাম্পের মন্তব্যে হতাশ, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ

রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাষ্ট্র
ট্রাম্পের মন্তব্যে হতাশা প্রকাশ করে এস্তোনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জেমস ডি. মেলভিল - ছবি: এএফপি

ইউরোপীয় মিত্রদের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জের ধরে এস্তোনিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস ডি. মেলভিল পদত্যাগ করেছেন।

রাষ্ট্রদূত মেলভিল ফেসবুকে স্টাটাস দিয়ে তার পদত্যাগের কথা জানান। ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন প্রথম বিষয়টি প্রকাশ করে।

শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে মেলভিলের পদত্যাগের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আগের দিন এস্তোনিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত জিম মেলভিল পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে অবসরের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন, যা ২৯ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তিনি সরকারি চাকরিতে ৩৩ বছর কাজ করছেন।’

এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পর্ক অত্যন্ত টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার আগে এ সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় ও আস্থাপূর্ণ ছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের বাড়তি বাণিজ্য শুল্ক নীতি, ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে সরে যাওয়া, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে প্রত্যাহার, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলকে আক্রমণ ইত্যাদি ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর কালো ছায়া ফেলেছে।

মেলভিল বলেন, ‘পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তার ডিএনএ শুরু থেকেই এমনভাবে গঠিত হয়েছে যে, যেকোনো নীতিতে আমাদের সমর্থন থাকতে হবে। যদি এমন সময় আসে যে কেউ সেটা পারছে না, বিশেষ করে, যিনি নেতৃত্ব পর্যায়ে রয়েছেন, তাহলে সবচেয়ে সম্মানের কাজটা হলো পদত্যাগ করা।’

ফেসকুক পোস্টে মেলভিল আরো বলেন, সামরিক জোট ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য তথ্যগতভাবে কেবল ভুলই নয়, এ থেকে বোঝা যায় এখন চলে যাওয়ার সময় হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক কূটনৈতিক তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন অথবা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে কাজ করতে অনাগ্রহী।

জানুয়ারী মাসে পানামায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জন ফেলি পদত্যাগ করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান।

এর মাস খানেক আগে সোমালিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ‍যুক্তরাষ্ট্রের মিশনে নিযুক্ত এলিজাবেথ শেকেলফোর্ড পদত্যাগ করেছিলেন।

 


আরো সংবাদ