২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আড়াই কোটি মেক্সিকানকে জাপানে পাঠানোর হুমকি, বিব্রত বিশ্ব নেতারা

আড়াই কোটি মেক্সিকানকে জাপানে পাঠানোর হুমকি, বিব্রত জি-সেভেনের নেতারা - সংগৃহীত

মেক্সিকোর আড়াই কোটি নাগরিককে জাপানে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে কানাডার কুইবেক শহরে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেনের শীর্ষ সম্মেলনের সময় ট্রাম্প জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবেকে এই হুমকি দেন।

কুইবেক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যেসব উদ্ভট বক্তব্যে জি-সেভেনের নেতারা মর্মাহত বা বিব্রত হয়েছেন এটি ছিল তার অন্যতম।


সম্মেলনে উপস্থিত একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গতকাল (শুক্রবার) মার্কিন পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একথা জানিয়েছে। অবশ্য, অন্য নেতারা ট্রাম্পের এমন বেফাঁস কথাবার্তার জন্য আগে থেকেই খানিকটা সতর্ক ছিলেন।

বৈঠকের এক পর্যায়ে ট্রাম্প অভিবাসনকে ইউরোপের জন্য বড় সমস্যা উল্লেখ করে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘শিনজো, আপনার তো এ সমস্যা নেই। তবে আমি আপনার জন্য মেক্সিকোর আড়াই কোটি জনগণকে পাঠাতে পারি এবং আপনি খুব দ্রুতই অফিস ছাড়তে বাধ্য হবেন।’ ট্রাম্পের এ মন্তব্যে বৈঠকস্থলে বিরক্তি পরিবেশ তৈরি হয়।

এবারের জি-সেভেন সম্মেলনটি ট্রাম্পের এ ধরনের বেফাঁস মন্তব্য ও চূড়ান্ত ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করার কারণে এক রকমের বিশৃঙ্খলার মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিবে মেক্সিকো

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের লক্ষে দেশটির আমদানির ওপর এক তরফা শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এটি করা হলে এর পাল্টা জবাব দেয়া হতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইস ভিদাগারাভ জানান, এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে রপ্তানি করা সুনির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপরও মেক্সিকান সরকার শুল্ক আরোপ করতে পারে।

এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্মসূচি অনুযায়ী খুব শিগগিরই দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরুর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানায়, আগামী মাস থেকেই তারা প্রস্তাবিত নকশা গ্রহণের কাজ শুরু করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিভাগ ও সীমান্ত রক্ষা সংস্থা জানায়, তারা আগামী ৬ মার্চের মধ্যে দেয়াল নির্মাণের নকশা জমা দেয়ার আহবান জানাবে।


প্রস্তাব জমা দেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্য থেকে ভালো কোম্পানি বাছাই করে ২০ তারিখের মধ্যে একটি শর্টলিস্ট করে তাদের ডাকা হবে।

শুক্রবার মেরিল্যান্ডে কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কংগ্রেসে (সিপিএসি) ভাষণ দেয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকান নাগরিকের স্বার্থই আগে। তিনি সীমান্তে বিশাল দেয়াল নির্মাণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করতে যাচ্ছি। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এটি খুব শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে।’

ট্রাম্প আরো বলেন, এ দেয়াল নির্মাণের ব্যয় মেক্সিকো দেবে। ডিপার্টমেন্ট অব †হামল্যান্ড সিকিউরিটির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এটি নির্মাণে প্রায় ২১.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে।


তবে এ ব্যয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যয়ের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। ট্রাম্প এটি নির্মাণে ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ধারণা দেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুাযায়ী এ সীমান্ত দেয়াল নির্মাণে মেক্সিকোকে আমদানি পন্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

এক্ষেত্রে শুক্রবার একটি রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ভিদাগারাভ বলেন, মেক্সিকো অবাধ বাণিজ্যে বিশ্বাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র দেয়াল নির্মাণের ব্যয় তুলে নিতে এক তরফাভাবে শুল্ক আরোপ করলে এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মেক্সিকোও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যের শুল্ক আরোপ করবে।

 


আরো সংবাদ