১৫ নভেম্বর ২০১৮

অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে আমেরিকা!

অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে আমেরিকা! - সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি তার দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকার অব্যাহত শত্রুতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, আমেরিকার সব সরকারই ইরানি জাতির সঙ্গে শত্রুতা করেছে কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি ট্রাম্পকে মার্কিন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রধানদের এক সমাবেশে বলেছেন, ইরানের জনগণ সত্যের পক্ষে রয়েছে এবং বাতিলের বিরুদ্ধে বিজয়ী হবে। তিনি বলেন, এটা ঠিক যে ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর  থেকে আমেরিকার সব সরকারই ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে শত্রুতা করে এসেছে কিন্তু শত্রুতারও একটি সীমা থাকা দরকার।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান বিপ্লবের পর গত ৪০ বছর ধরে আমেরিকার সব সরকারই ইরানকে প্রধান শত্রু হিসেবে গণ্য করে এসেছে এবং যেকোনো উপায়ে ইরানের সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালিয়েছে। আমেরিকা সময়ই ইরানের বিরুদ্ধে কয়েকটি লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। তবে তাদের মূল টার্গেট দেশটির বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা এবং গত ৪০ বছর ধরে তারা এ চেষ্টা বাস্তবায়নের জন্য সর্ব শক্তি নিয়োগ করেছে। এ লক্ষ্যে সাদ্দামকে দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আট বছরের যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক চাপ, টার্গেট কিলিং, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা, দেশটির বিরুদ্ধে প্রচারণা যুদ্ধ চালানো, ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করা প্রভৃতির কথা উল্লেখ করা যায়। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দিক নির্দেশনা এবং সরকার ও জনগণের ঐক্য ও সচেতনতার কারণে আমেরিকার সব ষড়যন্ত্রই ব্যর্থ হয়ে গেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনী বলেছেন, গত ৪০ বছর ধরে আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে শত্রুর সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে এসেছি, বর্তমানেও  আমাদের দৃঢ় অবস্থান বজায় থাকবে এবং আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শত্রুতা ও বিদ্বেষের মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ও সীমা ছাড়িয়ে গেছে। পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়া, দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, কয়েকটি আরব দেশ ও ইসরাইলের সঙ্গে নজিরবিহীন সহযোগিতা জোরদার, ইরানকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরা প্রভৃতি ইরান বিরোধী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা যায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিভিন্ন বক্তৃতায় মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আনার যে দাবি জানিয়েছেন তা খুবই হাস্যকর। মার্কিন এ আচরণের জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অতীত প্রেসিডেন্টদের মতোই ইতিহাসের আস্তা-কুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। 

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের স্বাধীনচেতা নীতিই আমেরিকার শত্রুতার প্রধান কারণ। বিশেষ করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্রসহ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য অর্জন করায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়তে থাকায় আমেরিকার ঘুম হারাম হয় গেছে।

 

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি তাঁর শুভেচ্ছাবানীতে বলেছেন,এই ঈদে জনগণকে দুটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তৌহিদের প্রতি এবং ঐক্যের প্রতি।

তৌহিদ হলো সেই গভীর অর্থবহ বিষয় যার অস্তিত্ব উপলব্ধি করা যায় ঈদের নামাজে। আর ঐক্যের উৎস প্রকৃতপক্ষে সেই তৌহিদের ভিত্তিমূলেই প্রোথিত।

সেটা হলো মুসলমানদের অভিন্ন আত্মা ও মন। একদেহে এক প্রাণে তারা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ঈদের সামাজিকতায় নামাজ আদায় করে। তাদের অন্তরগুলো থাকে একই কেন্দ্রমুখী- ঐশী মহিমার কেন্দ্র, সত্য ও রহমতের শক্তির কেন্দ্র। আজ সেরকমই একটি দিন।


আরো সংবাদ