২০ আগস্ট ২০১৮

গুয়েতেমালায় অগ্ন্যুৎপাতে নিহত ২৫

গুয়েতেমালায় অগ্ন্যুৎপাতে শিশুসহ নিহত ৭ - সংগৃহীত

মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়েতেমালায় ফুয়েগো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ২৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৩০০ ব্যক্তি। ওই আগ্নেয়গিরিটি রাজধানী গুয়েতেমালা সিটি থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

গুয়েতেমালার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (কনরেড) বলছে, লাভার একটি স্রোত এল রোদেও গ্রামে আঘাত হানলে সেখানকার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা মানুষজন পুড়ে যায়।

আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাইয়ের কারণে গুয়েতেমালা সিটির লা অরোরা বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গুয়েতেমালার প্রেসিডেন্ট জিমি মোরালেস বলেছেন, একটি জাতীয় জরুরি কল সেন্টার চালু করা হয়েছে। স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ১৯৭৪ সালের পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ।

কাবানাস বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এল রোদেও লাভার নিচে চাপা পড়েছে। আমরা লা লিবেরটাড গ্রামেও লাভার কারণে পৌঁছতে পারিনি এবং সেখানেও হয়তো মানুষজন নিহত হয়েছেন।

কনরেড প্রধান আরো বলেন, নিহতদের মধ্যে তার সংস্থার একজন কর্মীও রয়েছেন। ছাইয়ে ঢেকে যাওয়া একজন নারী বলেন, শস্যক্ষেতের ওপর দিয়ে লাভা আসতে দেখেছি এবং আমার মনে হয় আরও অনেকে নিহত হয়েছেন।

কনসুয়েলো হার্নান্দেজ নামের ওই নারী বলেন, সবাই পালাতে পারেনি, আমার ধারণা তারা লাভার নিচে চাপা পড়েছে।

কনরেডের প্রধান সেরজিও কাবানাস একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনকে বলেছেন, লাভার একটি স্রোত এল রোদেও গ্রামের দিকে গতিপথ পরিবর্তন করে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় এল রোদেও গ্রাম ও এর আশপাশের এলাকা লাভার স্রোতে ডুবে যায়। এসময় অনেকে আহত হয়েছেন, পুড়ে গেছেন এবং নিহত হয়েছেন।

গুয়েতেমালার সরকার বলছে, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ।

কর্মকর্তারা নাগরিকদের ছাই থেকে মাস্ক পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বাতাসের দিক পরিবর্তনের কারণে আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই রাজধানীর কিছু অংশে এসে পড়ছে।

এদিকে গুয়েতেমালার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা লা অরোরা বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই সরানোসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করছে।


আরো সংবাদ