১৬ অক্টোবর ২০১৯

মেট্রোরেল স্বপ্ন পূরণে আর কতদূর?

-

২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জনগণের জন্য উদ্বোধনের লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে কাজ করা হচ্ছে। মোট আটটি প্যাকেজে ২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণের প্রকল্পটি সম্পন্ন হচ্ছে। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। উত্তরা থেকে মতিঝিলের ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পটির ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরা ও আগারগাঁওয়ের মধ্যকার ৪৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড-ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক জানিয়েছেন, বর্তমানে উত্তরা ও আগারগাঁওয়ের মধ্যকার ১২ কিলোমিটার মেট্রোরেলের ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ দৃশ্যমান হয়েছে। মেট্রোরেল ব্যবস্থায় প্রথম ধাপে প্রতিদিন ২৪টি ট্রেন চলাচল করবে। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে ট্রেনগুলো। প্রতি ট্রেনে থাকবে ছয়টি বগি। একটি ট্রেনে এক হাজার ৬৯৬ জন যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে বসে যেতে পারবেন ৯৪২ জন, বাকিরা দাঁড়িয়ে যেতে পারবেন। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২১ সালে চালু হওয়ার পর ব্যস্ত সময় ঘণ্টায় সাড়ে ২২ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে। দিনে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে ৫ লাখের কাছাকাছি।
একটি স্টেশনে ট্রেন অবস্থান করবে ৪০ সেকেন্ড। যাত্রীরা ফুটপাথ থেকে সিঁড়ি, এসকেলেটর কিংবা লিফটে উঠতে পারবেন ট্রেনে। মেট্রোরেলের প্রতিটি পিলারের ব্যাস হবে দুই মিটার, ভূগর্ভস্থ অংশের ভিত্তি হবে তিন মিটার ও উচ্চতা হবে ১৩ মিটার। একটি স্তম্ভ থেকে আরেকটির দূরত্ব হবে ৩০ থেকে ৪০ মিটার। স্তম্ভের ওপরে পাশাাপাশি ও সমান্তরাল দুটি রেলপথ থাকবে এবং লাইনগুলোর প্রস্থ হবে প্রায় ৯ দশমিক ১ মিটার।
মেট্রোরেলের চূড়ান্ত রুট অ্যালাইনমেন্ট হলোÑ উত্তরা তৃতীয় ধাপ-পল্লবী, রোকেয়া সরণির পশ্চিম পাশ দিয়ে (চন্দ্রিমা উদ্যান-সংসদ ভবন) খামারবাড়ী হয়ে ফার্মগেট-সোনারগাঁও হোটেল-শাহবাগ-টিএসসি-দোয়েল চত্বর-তোপখানা রোড থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত।
এ রুটের ১৬টি স্টেশন হচ্ছেÑ উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, আইএমটি, মিরপুর সেকশন-১০, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, সোনারগাঁও, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, জাতীয় স্টেডিয়াম ও বাংলাদেশ ব্যাংক।
শুরুতে সরকার উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশ চলতি বছরের ডিসেম্বরে চালুর ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু কাক্সিক্ষত গতিতে কাজ না এগোনোর কারণে পুরো সড়কই ২০২১ সালে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত মেট্রোরেলের দূরত্ব ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার। ১৬টি স্থানে স্টেশন থাকবে। এর পুরোটাই হবে উড়ালসড়কে, মাটির ১৩ মিটার ওপর দিয়ে। এ জন্য প্রথমে উড়ালসড়ক নির্মাণ হচ্ছে। পরে রেলের লাইন বসানো হবে। কর্তৃপক্ষ বলছে, শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য লাইনের পাশে শব্দনিরোধক দেয়াল থাকবে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, গত জুলাই পর্যন্ত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৪ কিলোমিটার উড়ালসড়ক দৃশ্যমান হয়েছে। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দূরত্ব ৮ দশমিক ১২ কিলোমিটার। এই পথে পাইলিং ও পিলার তৈরির কাজ চলছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ সামছুল হক বলেন, মেট্রোরেল বাংলাদেশে প্রথম এবং কারিগরি দিক থেকে একটি জটিল প্রকল্প। এর ফলে তাড়াহুড়ো করে এর নির্মাণকাজ শেষ করার সুযোগ নেই। প্রকল্পের কাজ আটটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে একমাত্র উত্তরায় ডিপোর মাটি উন্নয়নের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। বাকি সাতটি ভাগের মধ্যে রয়েছে উত্তরায় ডিপোর অবকাঠামো নির্মাণ, লাইন নির্মাণের তিনটি ভাগ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা স্থাপন এবং ইঞ্জিন তৈরি। এসব কাজ এখন চলমান।
ঢাকার যানজট নিরসনে মেট্রোরেল প্রকল্প ২০১২ সালের ডিসেম্বরে একনেকে অনুমোদন হয়। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকার সাথে ঋণ চুক্তি হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত। সরকার সবশেষ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা দেবে জাইকা।
উত্তরা থেকে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত মেট্রোরেলের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৩৫ মিনিট। মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোও হবে তিনতলা উচ্চতায়। টিকিট কাউন্টার এবং অন্যান্য সুবিধাদি থাকবে দ্বিতীয় তলায়। আর ট্রেনে ওঠার জন্য প্ল্যাটফর্ম থাকবে তৃতীয় তলায়। স্টেশনগুলোতে ওঠার জন্য সাধারণ সিঁড়ির পাশাপাশি থাকবে লিফট ও চলন্ত সিঁড়ি। টিকিট দিয়ে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের ব্যবস্থা হবে স্বয়ংক্রিয়। নিরাপত্তার জন্য স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তাবেষ্টনী বা প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করা হবে।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum